মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পেনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সব ধরনের বাণিজ্য বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার নিয়ে বিরোধের জেরে এই উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। স্পেন যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য হামলার অনুমতি না দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে এমন অবস্থান নিয়েছেন ট্রাম্প। এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও কূটনীতিতে নতুন উত্তেজনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সামরিক ঘাঁটি নিয়ে বিরোধ থেকে উত্তেজনা
ওয়াশিংটনে জার্মান চ্যান্সেলরের সঙ্গে বৈঠকের সময় সাংবাদিকদের সামনে ট্রাম্প স্পেনকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, স্পেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ভালো আচরণ করেনি এবং তাই তিনি অর্থমন্ত্রীকে স্পেনের সঙ্গে সব ধরনের লেনদেন বন্ধ করার বিষয়টি বিবেচনা করতে বলেছেন।
স্পেনের দক্ষিণাঞ্চলের দুটি সামরিক ঘাঁটি থেকে যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি বেশ কয়েকটি সামরিক বিমান সরিয়ে নেয়। কারণ স্পেনের সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, ওই ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে হামলার কোনো অভিযান চালানো যাবে না।
এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে স্পেনের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য বন্ধ করে দিতে পারে।

প্রতিরক্ষা ব্যয় নিয়েও চাপ
স্পেনের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের আরেকটি অভিযোগ হলো প্রতিরক্ষা খাতে কম ব্যয়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ন্যাটো সদস্য দেশগুলোকে তাদের অর্থনীতির অন্তত পাঁচ শতাংশ প্রতিরক্ষায় ব্যয় করার দাবি জানিয়ে আসছেন। স্পেন এখনো সেই মাত্রায় পৌঁছায়নি বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
এদিকে জার্মানির চ্যান্সেলর জানিয়েছেন, স্পেনকে আলাদা করে শাস্তি দেওয়া সম্ভব নয়। কারণ স্পেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক বা বাণিজ্য নিয়ে আলোচনা ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকেই একসঙ্গে করা হয়।
আইনি ক্ষমতা নিয়ে বিতর্ক
ট্রাম্প দাবি করেছেন, জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনের আওতায় তিনি চাইলে কোনো দেশের ওপর বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারেন। তবে বাণিজ্য আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন পদক্ষেপ নিতে হলে প্রথমে সেই দেশকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অস্বাভাবিক ও গুরুতর হুমকি হিসেবে ঘোষণা করতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, স্পেনের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করতে না দেওয়া এমন কোনো পরিস্থিতি নয় যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অস্বাভাবিক হুমকি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
:max_bytes(150000):strip_icc()/GettyImages-1146042776-18048a31e49c4dea88a6b6952d6c4fdd.jpg)
স্পেনের পাল্টা প্রতিক্রিয়া
স্পেন সরকার জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিক আইন, বাণিজ্য চুক্তি এবং বেসরকারি ব্যবসার স্বাধীনতার বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে। সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলার জন্য তাদের প্রস্তুতি রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
স্পেন বিশ্বের সবচেয়ে বড় জলপাই তেল রপ্তানিকারক দেশ। এছাড়া তারা যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ির যন্ত্রাংশ, ইস্পাত এবং বিভিন্ন রাসায়নিক পণ্য রপ্তানি করে থাকে।
তবে অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সম্ভাব্য বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা স্পেনের জন্য বড় ধাক্কা হলেও দেশটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে বিকল্প সুযোগ পেতে পারে।
বাণিজ্য ভারসাম্যের বাস্তবতা
সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছর ধরে স্পেনের সঙ্গে বাণিজ্যে যুক্তরাষ্ট্রই উদ্বৃত্ত অবস্থায় রয়েছে। এক বছরের হিসাবে যুক্তরাষ্ট্র স্পেনে প্রায় ২৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে, আর আমদানি করেছে প্রায় ২১ বিলিয়ন ডলারের পণ্য।
অন্যদিকে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে স্পেনে অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই দ্বন্দ্ব যদি আরও বাড়ে, তবে তা শুধু দুই দেশের সম্পর্ক নয়, বরং ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সম্পর্কেও প্রভাব ফেলতে পারে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















