ঢাকায় আয়োজিত এক দোয়া ও ইফতার মাহফিলে বাংলাদেশ ও চীনের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানানো হয়েছে। ব্যবসায়ী, কূটনীতিক ও সরকারি কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই আয়োজন দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতার গুরুত্বকে নতুন করে সামনে এনেছে।
ঢাকায় দোয়া ও ইফতার মাহফিল
বাংলাদেশ চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি সম্প্রতি রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলের বলরুমে দোয়া ও ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে কূটনীতিক, সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, বিভিন্ন বাণিজ্য সংগঠনের নেতা, দ্বিপক্ষীয় চেম্বারের সভাপতি, বাংলাদেশে কর্মরত চীনা ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিসহ গণমাধ্যমের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এই আয়োজনকে দুই দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্পর্ক ও সহযোগিতা জোরদারের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বাড়ছে চীনা বিনিয়োগ
বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের দূতাবাসের বাণিজ্য কাউন্সেলর সঙ ইয়াং বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বিনিয়োগ সহযোগিতা দ্রুত বাড়ছে। তার মতে, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত ৩০টির বেশি চীনা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশি অংশীদারদের সঙ্গে বিনিয়োগ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।
এসব বিনিয়োগের সম্ভাব্য পরিমাণ প্রায় এক বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি বলে তিনি উল্লেখ করেন। এতে শিল্প ও অবকাঠামো খাতে নতুন কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
রপ্তানির নতুন সুযোগ
বাংলাদেশ চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি খোরশেদ আলম বলেন, দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণ এখন সময়ের দাবি। তিনি জানান, বাংলাদেশি পণ্যের জন্য চীন শতভাগ শুল্কমুক্ত সুবিধা দিয়েছে।
এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ফলমূল, শাকসবজি, চিংড়ি, কৃষিপণ্য এবং চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি। তার মতে, সঠিক পরিকল্পনা ও উদ্যোগ নিলে বাংলাদেশের রপ্তানি বাজারে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

উন্নয়ন সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি
বাংলাদেশে চীনা ব্যবসায়ী সংগঠনের সভাপতি হান কুন বলেন, চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশের উন্নয়ন কার্যক্রমে বিনিয়োগ ও শিল্প সহযোগিতার মাধ্যমে ভূমিকা রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি বলেন, অবকাঠামো উন্নয়ন, শিল্প প্রকল্প এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতার মাধ্যমে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর হবে।
বন্ধুত্বের বার্তায় শেষ আয়োজন
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় দোয়া অনুষ্ঠিত হয় এবং ইফতার পরিবেশন করা হয়। পুরো আয়োজনজুড়ে বাংলাদেশ ও চীনের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে বন্ধুত্ব, সহযোগিতা এবং পারস্পরিক আস্থার বার্তা উঠে আসে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















