বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি নির্বাচনকে সামনে রেখে হঠাৎ করা হয়েছে—এমন অভিযোগ সরাসরি নাকচ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিনি বলেছেন, চুক্তি স্বাক্ষরের আগেই দেশের দুটি প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীকে বিষয়টি জানানো হয়েছিল এবং তারা এতে সম্মতি দিয়েছিল।
নির্বাচনকে ঘিরে তড়িঘড়ি নয়
বুধবার এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চুক্তিটি নির্বাচন সামনে রেখে তড়িঘড়ি করে করা হয়নি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধিরা নির্বাচনের আগেই বিএনপি ও জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং তারা এতে সম্মতি দেন।
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি গোপনে করা হয়নি এবং এতে প্রবেশ ও বের হওয়ার ধারা রয়েছে। ফলে সরকার চাইলে ভবিষ্যতে এই চুক্তি পর্যালোচনা করার সুযোগও রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের জোর সহযোগিতা ও বাজার সম্প্রসারণে
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির বিভিন্ন ধারা বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বৈঠকে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসা সম্প্রসারণ, বাজারে প্রবেশাধিকারের সুযোগ বৃদ্ধি, অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধে সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সন্ত্রাস দমনে যৌথ কাজের বিষয়ও আলোচনা হয়।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক নীতিতে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
সামরিক সরঞ্জাম ও বিমান কেনার পরিকল্পনা
চুক্তির একটি অংশে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে সামরিক সরঞ্জাম কেনা বাড়ানোর চেষ্টা করবে এবং কিছু দেশের কাছ থেকে সামরিক সরঞ্জাম কেনা সীমিত রাখবে।
এছাড়া রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বেসামরিক বিমান, যন্ত্রাংশ ও সেবা কেনা বাড়ানোর বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পরিকল্পনায় রয়েছে ১৪টি বোয়িং বিমান কেনা এবং ভবিষ্যতে আরও কিছু বিমান কেনার বিকল্প রাখা।

জ্বালানি আমদানিতে বড় পরিকল্পনা
চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশি কোম্পানিগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে জ্বালানি আমদানি বাড়াতে উৎসাহিত করা হবে। বিশেষ করে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস দীর্ঘমেয়াদে কেনার পরিকল্পনা রয়েছে, যার সম্ভাব্য মূল্য প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলার এবং সময়কাল প্রায় ১৫ বছর।
ভর্তুকি তথ্য জমা দেবে বাংলাদেশ
চুক্তি কার্যকর হওয়ার ছয় মাসের মধ্যে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় বাংলাদেশের দেওয়া সব ধরনের ভর্তুকির পূর্ণাঙ্গ তথ্য জমা দেওয়ার বিষয়টিও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সমালোচনা ও বিতর্ক
তবে এই চুক্তি নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের এই পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি অত্যন্ত বৈষম্যমূলক এবং এটি বাতিল করা উচিত।
তার মতে, এমন একটি চুক্তিতে সরকার কীভাবে সম্মত হলো—তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন অনেকেই।

আগেই শেষ হয়েছিল আলোচনা
পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, চুক্তিটি নির্বাচন আগে তড়িঘড়ি করে করা হয়নি। বরং দীর্ঘ আলোচনা শেষে এটি ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে চূড়ান্ত করা হয়েছিল।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















