দেশে অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার প্রবণতা দ্রুত বাড়ছে। চলতি করবর্ষে ইতোমধ্যে চার মিলিয়নেরও বেশি করদাতা অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দিয়েছেন। এতে ডিজিটাল কর ব্যবস্থায় অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।
বুধবার প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি জানায়, দুই হাজার পঁচিশ সালের চার আগস্ট থেকে চালু হওয়া ই-রিটার্ন ব্যবস্থায় এখন পর্যন্ত প্রায় পঞ্চাশ লাখ করদাতা নিবন্ধন করেছেন। তাদের মধ্যে চার মিলিয়নেরও বেশি ইতোমধ্যে অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করেছেন।
বাধ্যতামূলক হওয়ায় বেড়েছে অনলাইন রিটার্ন
চলতি করবর্ষে বিশেষ নির্দেশনায় অধিকাংশ ব্যক্তিগত করদাতার জন্য অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে পঁয়ষট্টি বছরের বেশি বয়সী নাগরিক, শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, বিদেশে বসবাসকারী বাংলাদেশি করদাতা, মৃত করদাতার আইনগত প্রতিনিধি এবং দেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের জন্য এ বাধ্যবাধকতা প্রযোজ্য নয়।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি মাসেই অনলাইন রিটার্ন জমার সংখ্যা বেড়েছে। দুই হাজার পঁচিশ সালের আগস্টে প্রায় আড়াই লাখ করদাতা রিটার্ন জমা দেন। সেপ্টেম্বর মাসে এ সংখ্যা তিন লাখের বেশি হয় এবং অক্টোবরে তা চার লাখের বেশি ছাড়িয়ে যায়।
এরপর নভেম্বর মাসে সংখ্যা এক মিলিয়নের বেশি হয় এবং ডিসেম্বরেও প্রায় দশ লাখের কাছাকাছি রিটার্ন জমা পড়ে। দুই হাজার ছাব্বিশ সালের জানুয়ারিতে ছয় লাখের বেশি এবং ফেব্রুয়ারিতে প্রায় তিন লাখ করদাতা অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করেন। মার্চের প্রথম চার দিনেই প্রায় সাঁইত্রিশ হাজার রিটার্ন জমা পড়েছে।

নারী ও পুরুষ করদাতার অংশগ্রহণ
এ পর্যন্ত জমা পড়া ই-রিটার্নের মধ্যে প্রায় আটাশ লাখের বেশি দিয়েছেন পুরুষ করদাতা এবং প্রায় এগারো লাখ দিয়েছেন নারী করদাতা। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক করদাতা বেতন থেকে আয় দেখিয়েছেন।
বাড়িভাড়া থেকেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক করদাতা আয় দেখিয়েছেন। আবার বিপুলসংখ্যক করদাতা করযোগ্য সীমার নিচে আয় দেখিয়ে রিটার্ন জমা দিয়েছেন।
আয়ের বিভিন্ন স্তরেও করদাতাদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। পাঁচ লাখ থেকে দশ লাখ টাকার মধ্যে আয়ের তথ্য দিয়েছেন কয়েক লাখ করদাতা। আবার দশ লাখ থেকে বিশ লাখ এবং তারও বেশি আয়ের করদাতার সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য।
সম্পদের কারণে সারচার্জ প্রদান
যেসব করদাতার সম্পদের পরিমাণ নির্ধারিত সীমার বেশি, তাদের অনেকেই রিটার্নের সঙ্গে অতিরিক্ত সারচার্জ পরিশোধ করেছেন। এ সংখ্যাও কয়েক দশ হাজারে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ঘরে বসেই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড জানিয়েছে, ই-রিটার্ন ব্যবস্থায় করদাতারা ঘরে বসেই আয়, ব্যয়, সম্পদ ও দায় সংক্রান্ত তথ্য দিয়ে পুরো রিটার্ন জমা দিতে পারেন। এ ক্ষেত্রে কোনো সহায়ক নথি আপলোড করাও বাধ্যতামূলক নয়।
ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড, ইন্টারনেট ব্যাংকিং অথবা মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে কর পরিশোধ করা যায়। রিটার্ন জমা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্বীকৃতি স্লিপ ও আয়কর সনদ তৈরি হয়।

সংশোধিত রিটার্ন জমার সুযোগ
রিটার্ন জমা দেওয়ার পর একশ আশি দিনের মধ্যে প্রয়োজন হলে সংশোধিত রিটার্নও জমা দেওয়া যায়। চলতি করবর্ষে এখন পর্যন্ত ছাপ্পান্ন হাজারের বেশি সংশোধিত রিটার্ন জমা পড়েছে।
করদাতাদের সহায়তার জন্য কল সেন্টার চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি কর অঞ্চলগুলোতেও সহায়তা ডেস্ক স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া সরকারি ওয়েবসাইটে অভিযোগ বা জিজ্ঞাসা পাঠানোর ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড জানিয়েছে, জরিমানা এড়াতে করদাতাদের কাছে ইতোমধ্যে খুদে বার্তার মাধ্যমে রিটার্ন জমা দেওয়ার অনুরোধ পাঠানো হয়েছে। চলতি করবর্ষের আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার শেষ সময় আগামী একত্রিশ মার্চ।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















