০৬:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৯/১১-এর ২৫ বছর পর বিদেশি হামলার চেয়ে নিজ দেশের উগ্রপন্থীদের ভয় বেশি মার্কিনদের ডনবাসে রাশিয়ার অগ্রযাত্রা, ইউক্রেনের নতুন সামরিক নেতৃত্বের বড় পরীক্ষা কারাগারে বসেই আইনজীবী হওয়ার স্বপ্ন, এবার বার পরীক্ষার কঠিন চ্যালেঞ্জ কানাডার পাল্টা শুল্কে নতুন উত্তেজনা, থমকে গেছে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা ট্রাম্পের কড়া বার্তা: যুক্তরাষ্ট্রে বিমান বিক্রি করতে হলে আমেরিকাতেই উৎপাদন করতে হবে বোম্বার্ডিয়ারকে সরবরাহ সংকটের পরও কেন ১০০ ডলার ছাড়াচ্ছে না তেলের দাম? জমি দখলের নতুন ছক, পশ্চিম তীরে বসতি বাড়াচ্ছেন দুই ইসরায়েলি ভাই ডলারকে বিদায় নয়, বিকল্পের দরজা খোলা রাখছে রাশিয়া সৌদি আরবের চার শহরে হুথিদের হামলা, আহত ৭৩ নেপাল থেকে ডিখৌ: ভয়াবহ বন্যার পেছনে জলবায়ু ও ভূতত্ত্বের অশনি সংকেত

তেলের বাজারে যুদ্ধের আগুন: ইরান সংঘাতে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কায় দাম লাফিয়ে বাড়ল

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সামরিক সংঘাত বিশ্ব জ্বালানি বাজারে নতুন অস্থিরতা তৈরি করেছে। যুদ্ধের বিস্তার এবং গুরুত্বপূর্ণ তেল সরবরাহ পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম হঠাৎ করেই তিন শতাংশের বেশি বেড়ে গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত দ্রুত থামার সম্ভাবনা কম থাকায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে দীর্ঘস্থায়ী চাপ তৈরি হতে পারে।

টানা বাড়ছে তেলের দাম

বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম এক লাফে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৮৪ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মানদণ্ড অপরিশোধিত তেলের দামও বেড়ে প্রায় ৭৭ ডলারের কাছাকাছি দাঁড়িয়েছে।
এটি টানা পঞ্চম দিনের মতো দাম বাড়ার ঘটনা, যা বাজারে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে তেল সরবরাহের ওপর ঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহন বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা বাজারকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।

Oil prices jump on prospect of widening Middle East war shrinking supply –  ThePrint – ReutersFeed

 

যুদ্ধের নতুন উত্তেজনা

সংঘাতের ষষ্ঠ দিনে ইরান ইসরায়েলের দিকে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। এতে ইসরায়েলের বহু মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে হয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা বন্ধ করার একটি প্রস্তাবও যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভায় আটকে যায়, ফলে যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।

এর আগের দিন সমুদ্রে সংঘর্ষে একটি ইরানি যুদ্ধজাহাজ ডুবে যায়। এছাড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়।

হরমুজ প্রণালীতে বড় সংকট

ইরানের বাহিনী হরমুজ প্রণালীর আশপাশে কয়েকটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। কুয়েতের কাছে একটি ট্যাংকারের কাছেও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরল গ্যাস পরিবহন হয়। ফলে এখানে পরিবহন বন্ধ হলে বিশ্ববাজারে বড় ধরনের সরবরাহ সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বর্তমানে উপসাগরীয় অঞ্চলের উপকূলে অন্তত দুই শতাধিক জাহাজ অপেক্ষায় রয়েছে। অনেক জাহাজ বন্দরে ঢুকতে পারছে না, আবার অনেক জাহাজ নিরাপত্তাজনিত কারণে মাঝ সমুদ্রে নোঙর করে আছে।

Iran conflict: Global oil, gas prices surge on supply disruption fears -  UPI.com

উৎপাদন কমছে, সরবরাহে চাপ

ওপেক জোটের গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদক দেশ ইরাক সংরক্ষণ সুবিধা ও রপ্তানি পথে সমস্যার কারণে প্রতিদিন প্রায় পনেরো লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে।
অন্যদিকে উপসাগরীয় অঞ্চলের বড় গ্যাস উৎপাদক কাতারও গ্যাস রপ্তানিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরতে অন্তত এক মাস সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বাজারে দীর্ঘমেয়াদি উদ্বেগ

জ্বালানি বাজারের ব্যবসায়ীরা বলছেন, যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। ফলে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি হরমুজ প্রণালী দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ থাকে, তাহলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধাক্কা লাগবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য অস্থিরতা আরও বাড়বে।

জনপ্রিয় সংবাদ

৯/১১-এর ২৫ বছর পর বিদেশি হামলার চেয়ে নিজ দেশের উগ্রপন্থীদের ভয় বেশি মার্কিনদের

তেলের বাজারে যুদ্ধের আগুন: ইরান সংঘাতে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কায় দাম লাফিয়ে বাড়ল

০২:১২:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সামরিক সংঘাত বিশ্ব জ্বালানি বাজারে নতুন অস্থিরতা তৈরি করেছে। যুদ্ধের বিস্তার এবং গুরুত্বপূর্ণ তেল সরবরাহ পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম হঠাৎ করেই তিন শতাংশের বেশি বেড়ে গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত দ্রুত থামার সম্ভাবনা কম থাকায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে দীর্ঘস্থায়ী চাপ তৈরি হতে পারে।

টানা বাড়ছে তেলের দাম

বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম এক লাফে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৮৪ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মানদণ্ড অপরিশোধিত তেলের দামও বেড়ে প্রায় ৭৭ ডলারের কাছাকাছি দাঁড়িয়েছে।
এটি টানা পঞ্চম দিনের মতো দাম বাড়ার ঘটনা, যা বাজারে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে তেল সরবরাহের ওপর ঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহন বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা বাজারকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।

Oil prices jump on prospect of widening Middle East war shrinking supply –  ThePrint – ReutersFeed

 

যুদ্ধের নতুন উত্তেজনা

সংঘাতের ষষ্ঠ দিনে ইরান ইসরায়েলের দিকে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। এতে ইসরায়েলের বহু মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে হয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা বন্ধ করার একটি প্রস্তাবও যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভায় আটকে যায়, ফলে যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।

এর আগের দিন সমুদ্রে সংঘর্ষে একটি ইরানি যুদ্ধজাহাজ ডুবে যায়। এছাড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়।

হরমুজ প্রণালীতে বড় সংকট

ইরানের বাহিনী হরমুজ প্রণালীর আশপাশে কয়েকটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। কুয়েতের কাছে একটি ট্যাংকারের কাছেও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরল গ্যাস পরিবহন হয়। ফলে এখানে পরিবহন বন্ধ হলে বিশ্ববাজারে বড় ধরনের সরবরাহ সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বর্তমানে উপসাগরীয় অঞ্চলের উপকূলে অন্তত দুই শতাধিক জাহাজ অপেক্ষায় রয়েছে। অনেক জাহাজ বন্দরে ঢুকতে পারছে না, আবার অনেক জাহাজ নিরাপত্তাজনিত কারণে মাঝ সমুদ্রে নোঙর করে আছে।

Iran conflict: Global oil, gas prices surge on supply disruption fears -  UPI.com

উৎপাদন কমছে, সরবরাহে চাপ

ওপেক জোটের গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদক দেশ ইরাক সংরক্ষণ সুবিধা ও রপ্তানি পথে সমস্যার কারণে প্রতিদিন প্রায় পনেরো লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে।
অন্যদিকে উপসাগরীয় অঞ্চলের বড় গ্যাস উৎপাদক কাতারও গ্যাস রপ্তানিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরতে অন্তত এক মাস সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বাজারে দীর্ঘমেয়াদি উদ্বেগ

জ্বালানি বাজারের ব্যবসায়ীরা বলছেন, যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। ফলে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি হরমুজ প্রণালী দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ থাকে, তাহলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধাক্কা লাগবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য অস্থিরতা আরও বাড়বে।