বিশ্ব বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ পথ হিসেবে পরিচিত পানামা খালের একটি প্রধান বন্দরের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে হংকংয়ের একটি অপারেটর। তবে নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, একই সময়ে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলো গত প্রায় ২৫ বছরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শত শত সমুদ্রবন্দরে বিপুল বিনিয়োগ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের উইলিয়াম অ্যান্ড মেরি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা সংস্থা এইডডাটা জানিয়েছে, বিদেশে ৩৬৩টি বন্দর ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে চীন মোট ২৩.৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছে। গবেষকদের মতে, পূর্ব-পশ্চিম সরবরাহ শৃঙ্খলের সম্ভাব্য বিচ্ছিন্নতার ঝুঁকি মোকাবিলায় এই বিনিয়োগ চীনের জন্য এক ধরনের সুরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করছে।
উচ্চ আয়ের দেশগুলোতেও বড় বিনিয়োগ
গবেষণায় বলা হয়েছে, চীনের বন্দর অর্থায়নের মোট পোর্টফোলিওর ৪৫.১ শতাংশ গেছে ২০টি উচ্চ আয়ের দেশে। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, ব্রুনেই, নিউজিল্যান্ড, স্পেন এবং সিঙ্গাপুর।
এই অর্থায়নের মাধ্যমে ৩০টি পৃথক বন্দরের উন্নয়ন বা পরিচালনা কার্যক্রমে বিনিয়োগ হয়েছে।

গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিশ্বের প্রধান প্রধান বন্দরে চীনের বিস্তৃত উপস্থিতির কারণে যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে চীনা সরবরাহ শৃঙ্খল থেকে নিজেকে পুরোপুরি আলাদা করতে পারছে না। শান্তিকাল হোক বা সম্ভাব্য সংঘাত—দুই ক্ষেত্রেই এই নির্ভরতা রয়ে যাচ্ছে।
গবেষণার শিরোনাম ছিল ‘অ্যাঙ্করিং গ্লোবাল অ্যাম্বিশনস: বেইজিংস পোর্টস ফাইন্যান্সিং অ্যান্ড দ্য রেস ফর মেরিটাইম ডমিন্যান্স’, যেখানে সামুদ্রিক আধিপত্যের প্রতিযোগিতায় চীনের কৌশলগত অবস্থান বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
চীন-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা ও সরবরাহ শৃঙ্খলের উদ্বেগ
গত কয়েক বছরে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য বিরোধ, বাড়তি শুল্ক এবং রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের কারণে বিশ্বজুড়ে সরবরাহ শৃঙ্খল বিচ্ছিন্নতার আশঙ্কা বেড়েছে।
২০২৫ সালে এই উত্তেজনা আরও বাড়ে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট ইঙ্গিত দেন যে, ওয়াশিংটন যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত চীনা কোম্পানিগুলোকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার পদক্ষেপ নিতে পারে।
পানামা খাল ইস্যু

সম্প্রতি পানামা দেশের সুপ্রিম কোর্টের এক রায়ের পর আটলান্টিক ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় প্রবেশপথে অবস্থিত পানামা খালের দুটি বন্দরের নিয়ন্ত্রণ সরকার নিজের হাতে নিয়ে নেয়। এর আগে এসব বন্দরের পরিচালনার দায়িত্ব ছিল হংকংভিত্তিক বহুজাতিক কোম্পানি সিকে হাচিসনের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানের হাতে।
ওয়াশিংটন এই পদক্ষেপকে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীনের প্রভাব সীমিত করার প্রচেষ্টার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছে।
সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ কোথায়
এইডডাটার গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব বন্দরে চীনের অর্থায়ন সবচেয়ে বেশি, তার মধ্যে রয়েছে শ্রীলঙ্কার হাম্বানটোট আন্তর্জাতিক বন্দর, অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন ও নিউক্যাসল বন্দর, ক্যামেরুনের ক্রিবি স্বায়ত্তশাসিত বন্দর এবং ইসরায়েলের হাইফা বন্দর।
এসব প্রকল্পে বিনিয়োগের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য। হাইফা বন্দরে প্রায় ১.১৩ বিলিয়ন ডলার এবং হাম্বানটোট আন্তর্জাতিক বন্দরে প্রায় ১.৯৭ বিলিয়ন ডলার অর্থায়ন করা হয়েছে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















