চীন আগামী পাঁচ বছরে প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, জ্বালানি রূপান্তর, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা এবং কার্বন নিঃসরণ কমানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। একই সঙ্গে দেশটি ২০৩৫ সালের মধ্যে মাথাপিছু মোট দেশজ উৎপাদন ২০২০ সালের তুলনায় দ্বিগুণ করার লক্ষ্য পূরণের ভিত্তি শক্ত করতে চায়।
জাতীয় গণকংগ্রেসে পরিকল্পনার রূপরেখা
চীনের প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াং জাতীয় গণকংগ্রেসের বার্ষিক অধিবেশনে সরকারের কর্মপ্রতিবেদন উপস্থাপন করতে গিয়ে আগামী পাঁচ বছরের পরিকল্পনার মূল দিকগুলো তুলে ধরেন। তিনি জানান, অর্থনীতি, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে মোট ২০টি প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য নির্ধারণ করা হবে।
এই লক্ষ্যগুলোর মধ্যে কিছু বাধ্যতামূলক এবং কিছু নির্দেশনামূলক হবে। সংখ্যার দিক থেকে এটি আগের পাঁচ বছর পরিকল্পনার সমান।
![]()
১৫তম পাঁচ বছর পরিকল্পনার বড় প্রকল্প
২০৩০ সাল পর্যন্ত সময়কে সামনে রেখে তৈরি করা ১৫তম পাঁচ বছর পরিকল্পনার খসড়ায় ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ খাতে মোট ১০৯টি বড় প্রকল্পের প্রস্তাব রয়েছে। আগের ১৪তম পরিকল্পনায় এমন প্রকল্প ছিল ১০২টি।
নতুন পরিকল্পনায় প্রযুক্তি উন্নয়ন, আধুনিক শিল্প গড়ে তোলা এবং জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
জিডিপি প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রা নির্দিষ্ট নয়
সরকারি প্রতিবেদনে আগামী পাঁচ বছরের জন্য নির্দিষ্ট কোনো জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার নির্ধারণ করা হয়নি। বরং প্রতি বছর আলাদা করে লক্ষ্য ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
সরকারের মতে, শুধু প্রবৃদ্ধির হার নয়, অর্থনীতির কাঠামো এবং দক্ষতা উন্নত করার দিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে।

এ বছরের প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য
লি চিয়াং বলেন, চলতি বছরে চীনের জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৪ দশমিক ৫ থেকে ৫ শতাংশের মধ্যে। গত বছর এই লক্ষ্য ছিল প্রায় ৫ শতাংশ।
তিনি বলেন, বাস্তব অর্থনীতির ভিত্তি শক্ত করতে হলে উন্নত উৎপাদন ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে শিল্পব্যবস্থাকে আধুনিক করতে হবে। একই সঙ্গে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে স্বনির্ভরতা বাড়াতে মৌলিক উদ্ভাবন এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিতে বড় ধরনের অগ্রগতি অর্জন করা প্রয়োজন।
পাঁচ বছর পরিকল্পনার কৌশলগত গুরুত্ব
চীনের নেতারা দীর্ঘদিন ধরেই মনে করেন, পাঁচ বছর পরিকল্পনা ব্যবস্থা তাদের জন্য একটি বড় প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা। এই পরিকল্পনায় সরকারি নীতি নির্দেশনা এবং বাজারের শক্তিকে একত্রে ব্যবহার করা হয়, যা পশ্চিমা দেশগুলোর তুলনায় চীনের অর্থনৈতিক পরিকল্পনাকে ভিন্ন মাত্রা দেয়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















