বিশ্বের প্রযুক্তি বাজারে নতুন এক প্রতিযোগিতার সূচনা করেছে অ্যাপল। নতুন আইফোন ও ল্যাপটপের দাম তুলনামূলক কম রেখে প্রতিদ্বন্দ্বী নির্মাতাদের ওপর চাপ তৈরি করার কৌশল নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। চিপ ও মেমোরির দাম দ্রুত বাড়লেও অ্যাপল তার নতুন ডিভাইসের দাম বাড়ায়নি, যা প্রযুক্তি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
কম দামে নতুন ডিভাইস, বাজারে কৌশলী পদক্ষেপ
সপ্তাহের শুরুতে অ্যাপল তাদের নতুন এন্ট্রি পর্যায়ের স্মার্টফোন আইফোন ১৭ই উন্মোচন করে। এর প্রাথমিক দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৯৯ ডলার, যা আগের মডেলের মতোই।
এর পরদিনই প্রতিষ্ঠানটি নতুন ল্যাপটপ ম্যাকবুক নিও ঘোষণা করে, যার দামও রাখা হয়েছে ৫৯৯ ডলার। বিশ্লেষকদের অনেকেই ধারণা করেছিলেন দাম আরও বেশি হতে পারে।
যদিও ডিভাইসের ভেতরের মেমোরি ও সংরক্ষণ চিপের খরচ বেড়েছে, তবুও দাম কম রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অ্যাপল। এতে তাদের লাভের পরিমাণ কিছুটা কমতে পারে, কিন্তু বাজারে শক্ত অবস্থান তৈরি করার সুযোগ তৈরি হবে।
প্রতিদ্বন্দ্বীদের জন্য কঠিন সময়
গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইডিসির এক বিশ্লেষকের মতে, মেমোরি সংকটকে সুযোগ হিসেবে দেখছে অ্যাপল। অন্য অনেক স্মার্টফোন নির্মাতা একই দামের ফোন বাজারে আনতে গেলে দাম বাড়াতে বাধ্য হতে পারে।
বিশেষ করে মধ্যম দামের স্মার্টফোন তৈরি করা চীনা কোম্পানিগুলোর ওপর চাপ বাড়তে পারে। দাম বেড়ে গেলে অনেক গ্রাহক কম দামের বিকল্প হিসেবে অ্যাপলের ফোনের দিকে ঝুঁকতে পারেন।
এতে অ্যান্ড্রয়েড থেকে আইওএসে এবং সাধারণ কম্পিউটার থেকে ম্যাক ব্যবহারের দিকে ব্যবহারকারীদের আগ্রহ বাড়তে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

চীনের বাজারে বিশেষ লক্ষ্য
বিশ্লেষকেরা বলছেন, নতুন আইফোন ১৭ই মডেলটি চীনের বাজারে মধ্যম দামের অ্যান্ড্রয়েড ফোনগুলোর সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতা করবে।
চীনের বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় স্মার্টফোন ব্র্যান্ড বর্তমানে এই দামের ফোন বিক্রি করে। তবে মেমোরির দাম বাড়ার কারণে তাদের ফোনের দামও বাড়তে পারে। সেই সুযোগ কাজে লাগাতে চাইছে অ্যাপল।
বিশেষ করে কিস্তিতে ফোন কেনার সুবিধা থাকায় গ্রাহকদের কাছে অ্যাপলের ফোন আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে।
স্মার্টফোন বাজারে বড় ধাক্কার আশঙ্কা
মেমোরি ও সংরক্ষণ চিপের দাম বাড়ার অন্যতম কারণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সার্ভারের চাহিদা বৃদ্ধি। এই সার্ভারগুলোতে একই ধরনের চিপ ব্যবহৃত হয়।
ফলে স্মার্টফোন নির্মাতাদের উৎপাদন ব্যয় বেড়ে গেছে। গবেষণা সংস্থার পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই পরিস্থিতির কারণে চলতি বছরে বৈশ্বিক স্মার্টফোন বাজারে সরবরাহ প্রায় ১৩ শতাংশ কমে যেতে পারে।
একই সঙ্গে কম দামের অ্যান্ড্রয়েড ফোন উৎপাদন অনেক নির্মাতার জন্য অলাভজনক হয়ে উঠতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রিমিয়াম পণ্যে দাম বাড়ানোর সম্ভাবনা
প্রবেশ পর্যায়ের পণ্যে কম দাম রাখলেও অ্যাপল তাদের উচ্চমূল্যের পণ্যে দাম বাড়াতে পারে। নতুন ম্যাকবুক প্রো ও ম্যাকবুক এয়ারে ইতিমধ্যেই এমন কৌশলের ইঙ্গিত দেখা গেছে।
বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, আগামী শরতে আসতে পারে এমন কিছু নতুন আইফোন মডেলের দাম আরও বেশি হতে পারে।
অন্যদিকে উচ্চমানের আইফোন তৈরির খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে। নতুন প্রজন্মের একটি মডেলের উৎপাদন খরচ প্রায় ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
তার পরও বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি অ্যাপলের জন্য প্রতিযোগীদের তুলনায় বাজার দখলের এক বড় সুযোগ তৈরি করেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















