০১:৩০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬
কলকাতাজুড়ে মিশ্র জনমত, গণনার দিনে এগিয়ে বিজেপি—তবু এলাকায় এলাকায় ভিন্ন চিত্র ইরানের হুশিয়ারি, হরমুজ প্রণালীতে কোন বিদেশী বাহিনী এলেই হামলা চালানো হবে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে উৎপাদনে ধস, এপ্রিলেই সংকোচনে শিল্পখাত আল কাদসিয়ার ধাক্কায় থামল আল নাসরের জয়ের ধারা, শিরোপা দৌড়ে অনিশ্চয়তা রোনালদোর দুঃসাহসিক অভিযাত্রীদের জন্য এক দ্বীপ: সেন্ট হেলেনা আবিষ্কার পাঁচ রাজ্যের ভোটে নাটকীয় পালাবদল: বাংলায় বিজেপির ঝড়, তামিলনাড়ুতে বিজয়ের চমক, কেরালায় কংগ্রেসের প্রত্যাবর্তন টোকিওর লক্ষ্য: এআইকে কাজে লাগিয়ে স্টার্টআপ শক্তিতে বিশ্বনেতা হওয়ার দৌড় ১০০ কেন্দ্রে ভোট গণনা বন্ধের অভিযোগ, কর্মীদের কেন্দ্রে থাকার আহ্বান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আসছে মূল্যস্ফীতির নতুন ঢেউ গ্রামীণ ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্তদের অবস্থান কর্মসূচী: পেনশন পুনঃস্থাপনসহ ভাতার দাবিতে ঢাকায় সমাবেশ

ঢাকায় জ্বালানি আতঙ্কে দীর্ঘ লাইন, মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনায় পেট্রল -পাম্পে হঠাৎ ভিড়

মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ঢাকার জ্বালানি বাজারেও। সম্ভাব্য সংকট বা মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কায় রাজধানীর বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে হঠাৎ করে বেড়েছে গাড়ি ও মোটরসাইকেলের ভিড়। অনেকে আতঙ্কে ট্যাংক পূর্ণ করে জ্বালানি নিচ্ছেন, যার ফলে বেশ কয়েকটি এলাকায় দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হয়েছে এবং কোথাও কোথাও যানজটও দেখা দিয়েছে।

আতঙ্কে ট্যাংক ভরছেন চালকরা

বুধবার রাত থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন পাম্পে জ্বালানির চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যায়। গাড়ি ও মোটরসাইকেল সারি বেঁধে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে, অনেক জায়গায় সেই লাইন প্রধান সড়ক পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে।

মহাখালীর একটি পাম্পের কর্মী রেজাউল করিম জানান, সাধারণ দিনের তুলনায় গাড়ির সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। বেশিরভাগ মানুষই এখন ট্যাংক পুরো ভরছেন। অনেকেই আশঙ্কা করছেন সামনে দাম বাড়তে পারে বা জ্বালানি সংকট দেখা দিতে পারে।

একই অভিজ্ঞতার কথা বলেন মোটরসাইকেল চালক ইমরান। তিনি জানান, সাধারণত প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি নেন। কিন্তু সম্ভাব্য সংকটের ভয়ে এবার প্রায় এক হাজার আশি টাকার জ্বালানি একবারেই নিয়ে নিয়েছেন।

হঠাৎ বেড়েছে বিক্রি

পাম্প মালিকদের মতে, এটি মূলত আতঙ্কজনিত কেনাকাটা। বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ নজমুল হক বলেন, যদি মানুষ প্রয়োজনের চেয়ে অনেক বেশি জ্বালানি কিনতে শুরু করে, তাহলে মজুত দ্রুত শেষ হয়ে যেতে পারে।

তিনি জানান, বুধবার জ্বালানি বিক্রি প্রায় ষাট শতাংশ বেড়ে যায় এবং বৃহস্পতিবার দুপুর নাগাদ তা আশি শতাংশে পৌঁছায়। এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে সন্ধ্যার মধ্যে বিক্রি দ্বিগুণ হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, পাম্পগুলো কেবল কোম্পানি থেকে যে পরিমাণ সরবরাহ পায়, সেটুকুই বিক্রি করতে পারে। সরবরাহ শেষ হয়ে গেলে পাম্প বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া উপায় থাকে না।

দাম অপরিবর্তিত, কিন্তু চাহিদা বেশি

গুলশানের আমতলীর একটি পাম্পের বিক্রয়কর্মীরা জানান, এখন পর্যন্ত জ্বালানির দামে কোনো পরিবর্তন হয়নি। তবে বিক্রির পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় দেড় গুণ বেড়ে গেছে।

জ্বালানি সাশ্রয়ের আহ্বান

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।

বৃহস্পতিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে সবাইকে জ্বালানি ব্যবহারে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ কমানো, গণপরিবহন ব্যবহার বাড়ানো, একই গাড়িতে একাধিক যাত্রী চলাচল এবং সরকারি দপ্তরগুলোতে কঠোরভাবে জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা পাম্প মালিকদের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন। আগের গড় চাহিদার ভিত্তিতে সরবরাহ নির্ধারণের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে, যাতে অতিরিক্ত মজুত বা অস্বাভাবিক কেনাকাটা নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

জনপ্রিয় সংবাদ

কলকাতাজুড়ে মিশ্র জনমত, গণনার দিনে এগিয়ে বিজেপি—তবু এলাকায় এলাকায় ভিন্ন চিত্র

ঢাকায় জ্বালানি আতঙ্কে দীর্ঘ লাইন, মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনায় পেট্রল -পাম্পে হঠাৎ ভিড়

০৭:৫১:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ঢাকার জ্বালানি বাজারেও। সম্ভাব্য সংকট বা মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কায় রাজধানীর বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে হঠাৎ করে বেড়েছে গাড়ি ও মোটরসাইকেলের ভিড়। অনেকে আতঙ্কে ট্যাংক পূর্ণ করে জ্বালানি নিচ্ছেন, যার ফলে বেশ কয়েকটি এলাকায় দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হয়েছে এবং কোথাও কোথাও যানজটও দেখা দিয়েছে।

আতঙ্কে ট্যাংক ভরছেন চালকরা

বুধবার রাত থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন পাম্পে জ্বালানির চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যায়। গাড়ি ও মোটরসাইকেল সারি বেঁধে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে, অনেক জায়গায় সেই লাইন প্রধান সড়ক পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে।

মহাখালীর একটি পাম্পের কর্মী রেজাউল করিম জানান, সাধারণ দিনের তুলনায় গাড়ির সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। বেশিরভাগ মানুষই এখন ট্যাংক পুরো ভরছেন। অনেকেই আশঙ্কা করছেন সামনে দাম বাড়তে পারে বা জ্বালানি সংকট দেখা দিতে পারে।

একই অভিজ্ঞতার কথা বলেন মোটরসাইকেল চালক ইমরান। তিনি জানান, সাধারণত প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি নেন। কিন্তু সম্ভাব্য সংকটের ভয়ে এবার প্রায় এক হাজার আশি টাকার জ্বালানি একবারেই নিয়ে নিয়েছেন।

হঠাৎ বেড়েছে বিক্রি

পাম্প মালিকদের মতে, এটি মূলত আতঙ্কজনিত কেনাকাটা। বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ নজমুল হক বলেন, যদি মানুষ প্রয়োজনের চেয়ে অনেক বেশি জ্বালানি কিনতে শুরু করে, তাহলে মজুত দ্রুত শেষ হয়ে যেতে পারে।

তিনি জানান, বুধবার জ্বালানি বিক্রি প্রায় ষাট শতাংশ বেড়ে যায় এবং বৃহস্পতিবার দুপুর নাগাদ তা আশি শতাংশে পৌঁছায়। এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে সন্ধ্যার মধ্যে বিক্রি দ্বিগুণ হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, পাম্পগুলো কেবল কোম্পানি থেকে যে পরিমাণ সরবরাহ পায়, সেটুকুই বিক্রি করতে পারে। সরবরাহ শেষ হয়ে গেলে পাম্প বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া উপায় থাকে না।

দাম অপরিবর্তিত, কিন্তু চাহিদা বেশি

গুলশানের আমতলীর একটি পাম্পের বিক্রয়কর্মীরা জানান, এখন পর্যন্ত জ্বালানির দামে কোনো পরিবর্তন হয়নি। তবে বিক্রির পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় দেড় গুণ বেড়ে গেছে।

জ্বালানি সাশ্রয়ের আহ্বান

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।

বৃহস্পতিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে সবাইকে জ্বালানি ব্যবহারে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ কমানো, গণপরিবহন ব্যবহার বাড়ানো, একই গাড়িতে একাধিক যাত্রী চলাচল এবং সরকারি দপ্তরগুলোতে কঠোরভাবে জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা পাম্প মালিকদের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন। আগের গড় চাহিদার ভিত্তিতে সরবরাহ নির্ধারণের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে, যাতে অতিরিক্ত মজুত বা অস্বাভাবিক কেনাকাটা নিয়ন্ত্রণ করা যায়।