ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামের অস্থিরতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে ভারতকে রাশিয়ার তেল কেনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য ৩০ দিনের অস্থায়ী ছাড় দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
অস্থায়ী ছাড়ের ঘোষণা
শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা দেয় যে ভারতীয় তেল শোধনাগারগুলোকে রাশিয়ার জ্বালানি কেনা অব্যাহত রাখতে ৩০ দিনের একটি “অস্থায়ী ছাড়” দেওয়া হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ঘোষণা দেন।
তিনি জানান, এই সিদ্ধান্ত রাশিয়াকে বড় ধরনের আর্থিক সুবিধা দেওয়ার জন্য নয়। কারণ এই ছাড় কেবল সেইসব তেলের লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যেগুলো ইতিমধ্যে সমুদ্রে আটকে আছে এবং বাজারে পৌঁছাতে পারেনি।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহ পর্যন্ত এশিয়ার জলসীমায় প্রায় ৯৫ লাখ ব্যারেল রুশ তেল জাহাজে করে আটকে ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের এই ছাড় কেবল সেইসব তেলের ক্ষেত্রেই কার্যকর, যেগুলো ৫ মার্চের আগে জাহাজে তোলা হয়েছিল। এই ছাড়ের মেয়াদ শেষ হবে ৪ এপ্রিল ওয়াশিংটন সময় রাত ১২টা ১ মিনিটে।
যুক্তরাষ্ট্রের মতে, এই পদক্ষেপের লক্ষ্য বৈশ্বিক বাজারে চাপ কমানো। ট্রেজারি সেক্রেটারি বলেন, ইরান বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহকে জিম্মি করার চেষ্টা করছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ভারত যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার এবং ভবিষ্যতে ভারত যুক্তরাষ্ট্র থেকেও তেল কেনা বাড়াবে বলে ওয়াশিংটনের প্রত্যাশা।

ইরান সংঘাত ও হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব
চলমান সংঘাতের মধ্যে সম্প্রতি ইরান দাবি করেছে যে তারা হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে। এতে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি এবং অর্থনৈতিক অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে—বিশেষ করে যেসব দেশ মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর নির্ভরশীল।
ইরান ও ওমানের মাঝখানে অবস্থিত হরমুজ প্রণালি পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। বিশ্বে তেল ও গ্যাস পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালি দিয়ে চলাচল করে। ফলে এটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি বাণিজ্যপথ হিসেবে বিবেচিত।
ভারতের তেল মজুত কতদিন চলবে
জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়ার প্রেক্ষাপটে ভারত তার কৌশলগত তেল মজুত সম্পর্কে তথ্য দিয়েছে। দেশটির পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী হারদীপ সিং পুরি সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় জানান, বৈশ্বিক অস্থিরতা দেখা দিলে ভারতের কৌশলগত তেল মজুত প্রায় ৭৪ দিন পর্যন্ত দেশের চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম।
সরকারি সূত্রের মতে, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত এখন পর্যন্ত ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য তাৎক্ষণিক কোনো বড় হুমকি তৈরি করেনি।

ভারত কি রুশ তেল কেনা বন্ধ করেছে
যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, ভারতকে রুশ তেল কেনার জন্য সাময়িক ছাড় দেওয়া হয়েছে। এর কয়েক সপ্তাহ আগে ওয়াশিংটন দাবি করেছিল যে ভারত রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল কেনা বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো ভারতের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি।
অন্যদিকে রাশিয়া সম্প্রতি জানিয়েছে, ভারত তাদের কাছ থেকে তেল কেনা কমাবে—এমন কোনো ইঙ্গিত তারা দেখছে না। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেছেন, রাশিয়ার জ্বালানি পণ্য কেনা ভারত ও রাশিয়া—উভয় দেশের জন্যই লাভজনক এবং এটি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করে।
এদিকে ভারত-রাশিয়া জ্বালানি সহযোগিতা নিয়ে আলোচনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ভারতের পণ্য আমদানির ওপর আরোপিত শুল্ক কমিয়ে ১৮ শতাংশে নামিয়ে এনেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















