০১:২৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬
কলকাতাজুড়ে মিশ্র জনমত, গণনার দিনে এগিয়ে বিজেপি—তবু এলাকায় এলাকায় ভিন্ন চিত্র ইরানের হুশিয়ারি, হরমুজ প্রণালীতে কোন বিদেশী বাহিনী এলেই হামলা চালানো হবে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে উৎপাদনে ধস, এপ্রিলেই সংকোচনে শিল্পখাত আল কাদসিয়ার ধাক্কায় থামল আল নাসরের জয়ের ধারা, শিরোপা দৌড়ে অনিশ্চয়তা রোনালদোর দুঃসাহসিক অভিযাত্রীদের জন্য এক দ্বীপ: সেন্ট হেলেনা আবিষ্কার পাঁচ রাজ্যের ভোটে নাটকীয় পালাবদল: বাংলায় বিজেপির ঝড়, তামিলনাড়ুতে বিজয়ের চমক, কেরালায় কংগ্রেসের প্রত্যাবর্তন টোকিওর লক্ষ্য: এআইকে কাজে লাগিয়ে স্টার্টআপ শক্তিতে বিশ্বনেতা হওয়ার দৌড় ১০০ কেন্দ্রে ভোট গণনা বন্ধের অভিযোগ, কর্মীদের কেন্দ্রে থাকার আহ্বান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আসছে মূল্যস্ফীতির নতুন ঢেউ গ্রামীণ ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্তদের অবস্থান কর্মসূচী: পেনশন পুনঃস্থাপনসহ ভাতার দাবিতে ঢাকায় সমাবেশ

তেলের দাম বাড়লেও চিন্তা নেই: ইরান অভিযানে অগ্রাধিকার দিলেন ট্রাম্প

ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও তা নিয়ে উদ্বিগ্ন নন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, সামরিক অভিযানই এখন তার প্রধান অগ্রাধিকার। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তেলের দাম দ্রুতই কমে আসবে বলেও দাবি করেছেন তিনি।

ওয়াশিংটনে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, পাম্পে জ্বালানির দাম কিছুটা বাড়লেও সেটি বড় কোনো বিষয় নয়। তার ভাষায়, “দাম যদি বাড়েও, বাড়ুক। এই অভিযানের গুরুত্ব তার চেয়ে অনেক বেশি।”

ইরান সংঘাতের প্রভাব জ্বালানি বাজারে

ইরানকে ঘিরে চলমান সামরিক সংঘাতের কারণে বিশ্বজুড়ে তেলের সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে গেছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে বিশ্ববাজারে তেলের দাম প্রায় ১৬ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।

এই প্রভাব সরাসরি পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বাজারেও। গত সপ্তাহের তুলনায় দেশটিতে গ্যাসোলিনের গড় দাম প্রতি গ্যালনে ২৭ সেন্ট বেড়ে প্রায় ৩ দশমিক ২৫ ডলারে পৌঁছেছে। এক বছর আগের তুলনায় বর্তমান দামও কিছুটা বেশি।

তবে ট্রাম্পের মতে, এই বৃদ্ধি খুব বড় নয় এবং সংঘাত শেষ হলে দাম দ্রুত কমে যাবে।

Exclusive: Trump on rising gas prices during Iran operation: 'If they rise, they  rise' | Reuters

কৌশলগত তেল মজুত ব্যবহার নয়

জ্বালানি বাজারে চাপ কমাতে অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত তেল মজুত ব্যবহার করার পরামর্শ দিলেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আপাতত সেই পথে হাঁটতে চান না। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, বিশ্বের সবচেয়ে বড় জরুরি তেল মজুত এখনই ব্যবহার করার পরিকল্পনা তার নেই।

তার বিশ্বাস, ইরানের কাছাকাছি গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি খোলা থাকবে এবং আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে।

নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক চাপ

তেলের দাম বাড়তে থাকলে তা রাজনৈতিকভাবে বড় চাপ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কারণ আগামী নভেম্বরেই যুক্তরাষ্ট্রে গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সেই নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তীব্র প্রতিযোগিতা হবে।

এরই মধ্যে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিতে অসন্তুষ্ট অনেক ভোটার। ফলে জ্বালানি তেলের দাম যদি দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে থাকে, তাহলে তা রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতাসীনদের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

Exclusive: Trump on rising gas prices during Iran operation: 'If they rise, they  rise' | Reuters

হোয়াইট হাউসের আশা, সংকট স্বল্পমেয়াদি

তবে হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরীণ আলোচনায় ধারণা করা হচ্ছে, এই জ্বালানি সংকট দীর্ঘস্থায়ী হবে না। জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা প্রশাসনকে ধৈর্য ধরার পরামর্শ দিয়েছেন।

তাদের মতে, বাজারে হঠাৎ দাম বাড়ার ধাক্কা তুলনামূলকভাবে কম হয়েছে এবং অতি দ্রুত হস্তক্ষেপ করলে তা বাজারে আরও অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।

এদিকে প্রশাসনের ভেতরে জ্বালানি দাম নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা চলছে। এর মধ্যে রয়েছে জ্বালানি কর সাময়িকভাবে কমানো কিংবা গ্রীষ্মকালীন জ্বালানির মিশ্রণে কিছু নিয়ম শিথিল করা।

তবে জ্বালানি খাতের অনেক বিশেষজ্ঞই মনে করছেন, দ্রুত দাম কমিয়ে আনার মতো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সরকারের জন্য সহজ নয়। তাদের মতে, মূল সমাধান হতে পারে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল নিশ্চিত করা।

Trump on rising gas prices in US during Iran operation: 'If they rise, they  rise' - The Economic Times

জনপ্রিয় সংবাদ

কলকাতাজুড়ে মিশ্র জনমত, গণনার দিনে এগিয়ে বিজেপি—তবু এলাকায় এলাকায় ভিন্ন চিত্র

তেলের দাম বাড়লেও চিন্তা নেই: ইরান অভিযানে অগ্রাধিকার দিলেন ট্রাম্প

০৩:৫০:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬

ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও তা নিয়ে উদ্বিগ্ন নন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, সামরিক অভিযানই এখন তার প্রধান অগ্রাধিকার। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তেলের দাম দ্রুতই কমে আসবে বলেও দাবি করেছেন তিনি।

ওয়াশিংটনে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, পাম্পে জ্বালানির দাম কিছুটা বাড়লেও সেটি বড় কোনো বিষয় নয়। তার ভাষায়, “দাম যদি বাড়েও, বাড়ুক। এই অভিযানের গুরুত্ব তার চেয়ে অনেক বেশি।”

ইরান সংঘাতের প্রভাব জ্বালানি বাজারে

ইরানকে ঘিরে চলমান সামরিক সংঘাতের কারণে বিশ্বজুড়ে তেলের সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে গেছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে বিশ্ববাজারে তেলের দাম প্রায় ১৬ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।

এই প্রভাব সরাসরি পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বাজারেও। গত সপ্তাহের তুলনায় দেশটিতে গ্যাসোলিনের গড় দাম প্রতি গ্যালনে ২৭ সেন্ট বেড়ে প্রায় ৩ দশমিক ২৫ ডলারে পৌঁছেছে। এক বছর আগের তুলনায় বর্তমান দামও কিছুটা বেশি।

তবে ট্রাম্পের মতে, এই বৃদ্ধি খুব বড় নয় এবং সংঘাত শেষ হলে দাম দ্রুত কমে যাবে।

Exclusive: Trump on rising gas prices during Iran operation: 'If they rise, they  rise' | Reuters

কৌশলগত তেল মজুত ব্যবহার নয়

জ্বালানি বাজারে চাপ কমাতে অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত তেল মজুত ব্যবহার করার পরামর্শ দিলেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আপাতত সেই পথে হাঁটতে চান না। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, বিশ্বের সবচেয়ে বড় জরুরি তেল মজুত এখনই ব্যবহার করার পরিকল্পনা তার নেই।

তার বিশ্বাস, ইরানের কাছাকাছি গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি খোলা থাকবে এবং আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে।

নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক চাপ

তেলের দাম বাড়তে থাকলে তা রাজনৈতিকভাবে বড় চাপ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কারণ আগামী নভেম্বরেই যুক্তরাষ্ট্রে গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সেই নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তীব্র প্রতিযোগিতা হবে।

এরই মধ্যে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিতে অসন্তুষ্ট অনেক ভোটার। ফলে জ্বালানি তেলের দাম যদি দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে থাকে, তাহলে তা রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতাসীনদের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

Exclusive: Trump on rising gas prices during Iran operation: 'If they rise, they  rise' | Reuters

হোয়াইট হাউসের আশা, সংকট স্বল্পমেয়াদি

তবে হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরীণ আলোচনায় ধারণা করা হচ্ছে, এই জ্বালানি সংকট দীর্ঘস্থায়ী হবে না। জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা প্রশাসনকে ধৈর্য ধরার পরামর্শ দিয়েছেন।

তাদের মতে, বাজারে হঠাৎ দাম বাড়ার ধাক্কা তুলনামূলকভাবে কম হয়েছে এবং অতি দ্রুত হস্তক্ষেপ করলে তা বাজারে আরও অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।

এদিকে প্রশাসনের ভেতরে জ্বালানি দাম নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা চলছে। এর মধ্যে রয়েছে জ্বালানি কর সাময়িকভাবে কমানো কিংবা গ্রীষ্মকালীন জ্বালানির মিশ্রণে কিছু নিয়ম শিথিল করা।

তবে জ্বালানি খাতের অনেক বিশেষজ্ঞই মনে করছেন, দ্রুত দাম কমিয়ে আনার মতো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সরকারের জন্য সহজ নয়। তাদের মতে, মূল সমাধান হতে পারে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল নিশ্চিত করা।

Trump on rising gas prices in US during Iran operation: 'If they rise, they  rise' - The Economic Times