সংঘাতের কারণে তেল ও গ্যাসের দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে নতুন করে মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে ইউরোপের শেয়ারবাজারেও, যেখানে সপ্তাহের শেষ দিনে লেনদেন শুরুতেই সূচক নেমে যায়।
ইউরোপের শেয়ারবাজারে সপ্তাহের শেষে ধাক্কা
শুক্রবার সকালে ইউরোপের শেয়ারবাজার নিম্নমুখী অবস্থায় লেনদেন শুরু করে। টালমাটাল একটি সপ্তাহের শেষ দিনে বাজারে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা আরও বাড়ে। মূলত চলমান সংঘাতের কারণে তেল ও গ্যাসের দাম দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় বাজারে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানির দাম বাড়লে উৎপাদন খরচ বাড়ে এবং তা শেষ পর্যন্ত ভোক্তা পর্যায়ে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়। ফলে মুদ্রাস্ফীতি আবারও বাড়তে পারে—এই আশঙ্কাই বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করে তুলেছে।
কাতারের সতর্কবার্তা
এ পরিস্থিতির মধ্যেই কাতারের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এক সাক্ষাৎকারে সতর্ক করে বলেছেন, চলমান সংকটের কারণে জ্বালানি উৎপাদনে দীর্ঘমেয়াদি বিঘ্ন ঘটতে পারে। তার মতে, যদি পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হয়, তাহলে বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাস সরবরাহে চাপ তৈরি হবে এবং দাম আরও বাড়তে পারে।
এই সতর্কবার্তা বাজারে উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে, কারণ জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বাধা দেখা দিলে বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর তার সরাসরি প্রভাব পড়বে।

জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল করতে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ
এদিকে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা কমাতে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন একটি অস্থায়ী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারা ভারতীয় তেল শোধনাগারগুলোকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা রাশিয়ার তেল সীমিত সময়ের জন্য কেনার অনুমতি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো বিশ্ববাজারে জ্বালানির সরবরাহ বজায় রাখা এবং তেলের দামের অস্বাভাবিক উত্থান নিয়ন্ত্রণ করা। যুক্তরাষ্ট্রের এই সাময়িক ছাড় জ্বালানি বাজারে চাপ কিছুটা কমাতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















