ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ যদি আরও কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হয়, তাহলে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে জ্বালানি রপ্তানি বন্ধ হয়ে যেতে পারে—এমনই কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন কাতারের জ্বালানি মন্ত্রী সাদ আল-কাবি। তার মতে, এই পরিস্থিতি তৈরি হলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে বড় অস্থিরতা দেখা দেবে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিও গভীর চাপের মুখে পড়বে।
যুদ্ধ বাড়লে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ধাক্কা
সাদ আল-কাবি জানান, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে শুধু জ্বালানি বাজারই নয়, বিশ্বের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কারণ জ্বালানির দাম দ্রুত বাড়বে এবং সরবরাহ ঘাটতির কারণে বিভিন্ন শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে।
তার ভাষায়, জ্বালানির দাম বেড়ে গেলে একের পর এক শিল্পপ্রতিষ্ঠান সরবরাহ বজায় রাখতে ব্যর্থ হবে এবং এর ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে চেইন প্রতিক্রিয়া তৈরি হবে।

কাতারের গ্যাস উৎপাদন বন্ধের প্রভাব
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালালে কাতারসহ উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা তীব্র হয়ে ওঠে। এই পরিস্থিতিতে কাতার তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়।
বিশ্বের মোট তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ আসে কাতার থেকে। ফলে এই উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়া এশিয়া ও ইউরোপের জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
রপ্তানি পথ সংকটে, কমেছে জাহাজ চলাচল
উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি পরিবহন যুদ্ধের কারণে মারাত্মকভাবে কমে গেছে। এই পথের ওপর নির্ভরশীল অনেক দেশ ও কোম্পানিকে উৎপাদন কমাতে বা বন্ধ করতে হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইতিমধ্যে ইরাকের কয়েকটি বড় তেলক্ষেত্রে উৎপাদন কমানো হয়েছে। কারণ তেল উৎপাদন এমন একটি প্রক্রিয়া, যা হঠাৎ করে চালু বা বন্ধ করা সহজ নয়। ফলে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে এর প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে পড়তে পারে।

যুদ্ধ থামলেও স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে
কাতারের জ্বালানি মন্ত্রী বলেন, যুদ্ধ যদি এখনই শেষ হয়ে যায়, তবুও স্বাভাবিক রপ্তানি চক্রে ফিরতে কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। কারণ সরবরাহ ব্যবস্থা ও পরিবহন কাঠামো পুনরায় স্থিতিশীল করতে সময় দরকার।
উত্তেজনা কমার লক্ষণ নেই
অন্যদিকে চলমান সংঘাত থামার কোনো ইঙ্গিত এখনও দেখা যাচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তারা ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন। একই সময়ে ইরানও পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সামাজিক মাধ্যমে জানান, আঞ্চলিক শান্তির প্রতি ইরান প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হলেও দেশের মর্যাদা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তারা পিছপা হবে না।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















