১১:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬
কলকাতাজুড়ে মিশ্র জনমত, গণনার দিনে এগিয়ে বিজেপি—তবু এলাকায় এলাকায় ভিন্ন চিত্র ইরানের হুশিয়ারি, হরমুজ প্রণালীতে কোন বিদেশী বাহিনী এলেই হামলা চালানো হবে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে উৎপাদনে ধস, এপ্রিলেই সংকোচনে শিল্পখাত আল কাদসিয়ার ধাক্কায় থামল আল নাসরের জয়ের ধারা, শিরোপা দৌড়ে অনিশ্চয়তা রোনালদোর দুঃসাহসিক অভিযাত্রীদের জন্য এক দ্বীপ: সেন্ট হেলেনা আবিষ্কার পাঁচ রাজ্যের ভোটে নাটকীয় পালাবদল: বাংলায় বিজেপির ঝড়, তামিলনাড়ুতে বিজয়ের চমক, কেরালায় কংগ্রেসের প্রত্যাবর্তন টোকিওর লক্ষ্য: এআইকে কাজে লাগিয়ে স্টার্টআপ শক্তিতে বিশ্বনেতা হওয়ার দৌড় ১০০ কেন্দ্রে ভোট গণনা বন্ধের অভিযোগ, কর্মীদের কেন্দ্রে থাকার আহ্বান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আসছে মূল্যস্ফীতির নতুন ঢেউ গ্রামীণ ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্তদের অবস্থান কর্মসূচী: পেনশন পুনঃস্থাপনসহ ভাতার দাবিতে ঢাকায় সমাবেশ

মার্কিন অর্থনীতিতে ধাক্কা, এক মাসেই হারাল ৯২ হাজার চাকরি—বেকারত্বও বাড়ল

মার্কিন অর্থনীতিতে অপ্রত্যাশিত ধাক্কা লেগেছে শ্রমবাজারে। ফেব্রুয়ারি মাসে দেশটিতে মোট ৯২ হাজার চাকরি কমে গেছে, যা বিশ্লেষকদের পূর্বাভাসকে সম্পূর্ণভাবে অস্বস্তিতে ফেলেছে। একই সঙ্গে বেকারত্বের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৪ শতাংশে। নতুন এই পরিসংখ্যান প্রকাশের পর যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও শ্রমবাজারের স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

শ্রমবাজারে হঠাৎ ধাক্কা

সাম্প্রতিক সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থান পরিস্থিতি হঠাৎ করেই নেতিবাচক দিকে মোড় নেয়। যেখানে বিশ্লেষকদের ধারণা ছিল নিয়োগ প্রক্রিয়া অন্তত স্থিতিশীল থাকবে, সেখানে বাস্তবে দেখা গেছে বড় ধরনের চাকরি হ্রাস।

এই পতনকে গত অক্টোবরের পর সবচেয়ে বড় মাসিক চাকরি হারানোর ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সেই সময় যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি কার্যক্রম বন্ধ থাকার প্রভাবও শ্রমবাজারে পড়েছিল। এবার পরিস্থিতি জটিল হয়েছে আন্তর্জাতিক উত্তেজনা এবং জ্বালানি দামের উল্লম্ফনের কারণে, যা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

The US economy lost 92,000 jobs in February and the unemployment rate rose  to 4.4% | CNN Business

প্রায় সব খাতেই কর্মসংস্থান কমেছে

শ্রমবাজারের এই সংকোচনের প্রভাব পড়েছে প্রায় সব খাতেই। সাধারণত শক্ত অবস্থানে থাকা স্বাস্থ্যখাতেও চাকরি কমেছে, কারণ গত মাসে সেখানে ধর্মঘটের ঘটনা ঘটেছিল।

একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের চাকরির সংখ্যাও কমেছে। শুধু ফেব্রুয়ারিতেই প্রায় ১০ হাজার সরকারি চাকরি কমে গেছে। ২০২৪ সালের অক্টোবরের তুলনায় কেন্দ্রীয় সরকারের মোট কর্মসংস্থান ইতোমধ্যে প্রায় ৩ লাখ ৩০ হাজার কমে গেছে, যা মোটের ওপর প্রায় ১১ শতাংশ হ্রাস।

এর পাশাপাশি আগের দুই মাসের কর্মসংস্থান বৃদ্ধির হিসাবও সংশোধন করে কম দেখানো হয়েছে, যা শ্রমবাজারের দুর্বলতার ইঙ্গিতকে আরও জোরালো করেছে।

US sheds 92,000 jobs in warning sign for Trump's economy | South China  Morning Post

অর্থনীতিবিদদের উদ্বেগ

অর্থনীতিবিদদের মতে, এই পরিসংখ্যান শ্রমবাজারের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি করেছে। অনেকেই আশা করেছিলেন ২০২৫ সালে ধীরগতির পর এবার নিয়োগ বাড়তে শুরু করবে। কিন্তু নতুন তথ্য সেই আশাকে বড় ধাক্কা দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাস্থ্যখাতে ধর্মঘটের প্রভাব কেটে গেলে কিছুটা পুনরুদ্ধার হতে পারে। তবে সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনও অনিশ্চিত।

রাজনীতিতে চাপ বাড়ছে

চাকরি হ্রাসের এই খবর প্রকাশের পর ওয়াল স্ট্রিটে শেয়ারবাজারেও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর রাজনৈতিক চাপও বেড়েছে, কারণ নির্বাচনী প্রচারে তিনি অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

বিরোধী শিবির দ্রুত এই তথ্যকে সরকারবিরোধী সমালোচনায় ব্যবহার করেছে। তাদের দাবি, বর্তমান অর্থনৈতিক নীতির কারণে শ্রমবাজার দুর্বল হয়ে পড়ছে।

অন্যদিকে হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা এই উদ্বেগকে গুরুত্ব না দিয়ে বলেছেন, সামনের মাসগুলোতে শক্তিশালী অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড নতুন করে চাকরি তৈরি করবে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প - উইকিপিডিয়া

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সামনে নতুন দোটানা

এই পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জন্যও নতুন দোটানা তৈরি করেছে। সাধারণত শ্রমবাজার দুর্বল হলে সুদের হার কমিয়ে অর্থনীতিকে চাঙা করার চেষ্টা করা হয়।

কিন্তু একই সময়ে যদি তেলের দাম দীর্ঘমেয়াদে বাড়তে থাকে, তাহলে মূল্যস্ফীতি আবার বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। ফলে নীতিনির্ধারকদের সামনে এখন জটিল সিদ্ধান্তের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে ব্যবসায়ী চেয়ারম্যানের সমাপ্তি ঘটে ১৯৭৯  সালে | আন্তর্জাতিক | Citizens Voice

জনপ্রিয় সংবাদ

কলকাতাজুড়ে মিশ্র জনমত, গণনার দিনে এগিয়ে বিজেপি—তবু এলাকায় এলাকায় ভিন্ন চিত্র

মার্কিন অর্থনীতিতে ধাক্কা, এক মাসেই হারাল ৯২ হাজার চাকরি—বেকারত্বও বাড়ল

০১:৪৮:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬

মার্কিন অর্থনীতিতে অপ্রত্যাশিত ধাক্কা লেগেছে শ্রমবাজারে। ফেব্রুয়ারি মাসে দেশটিতে মোট ৯২ হাজার চাকরি কমে গেছে, যা বিশ্লেষকদের পূর্বাভাসকে সম্পূর্ণভাবে অস্বস্তিতে ফেলেছে। একই সঙ্গে বেকারত্বের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৪ শতাংশে। নতুন এই পরিসংখ্যান প্রকাশের পর যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও শ্রমবাজারের স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

শ্রমবাজারে হঠাৎ ধাক্কা

সাম্প্রতিক সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থান পরিস্থিতি হঠাৎ করেই নেতিবাচক দিকে মোড় নেয়। যেখানে বিশ্লেষকদের ধারণা ছিল নিয়োগ প্রক্রিয়া অন্তত স্থিতিশীল থাকবে, সেখানে বাস্তবে দেখা গেছে বড় ধরনের চাকরি হ্রাস।

এই পতনকে গত অক্টোবরের পর সবচেয়ে বড় মাসিক চাকরি হারানোর ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সেই সময় যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি কার্যক্রম বন্ধ থাকার প্রভাবও শ্রমবাজারে পড়েছিল। এবার পরিস্থিতি জটিল হয়েছে আন্তর্জাতিক উত্তেজনা এবং জ্বালানি দামের উল্লম্ফনের কারণে, যা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

The US economy lost 92,000 jobs in February and the unemployment rate rose  to 4.4% | CNN Business

প্রায় সব খাতেই কর্মসংস্থান কমেছে

শ্রমবাজারের এই সংকোচনের প্রভাব পড়েছে প্রায় সব খাতেই। সাধারণত শক্ত অবস্থানে থাকা স্বাস্থ্যখাতেও চাকরি কমেছে, কারণ গত মাসে সেখানে ধর্মঘটের ঘটনা ঘটেছিল।

একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের চাকরির সংখ্যাও কমেছে। শুধু ফেব্রুয়ারিতেই প্রায় ১০ হাজার সরকারি চাকরি কমে গেছে। ২০২৪ সালের অক্টোবরের তুলনায় কেন্দ্রীয় সরকারের মোট কর্মসংস্থান ইতোমধ্যে প্রায় ৩ লাখ ৩০ হাজার কমে গেছে, যা মোটের ওপর প্রায় ১১ শতাংশ হ্রাস।

এর পাশাপাশি আগের দুই মাসের কর্মসংস্থান বৃদ্ধির হিসাবও সংশোধন করে কম দেখানো হয়েছে, যা শ্রমবাজারের দুর্বলতার ইঙ্গিতকে আরও জোরালো করেছে।

US sheds 92,000 jobs in warning sign for Trump's economy | South China  Morning Post

অর্থনীতিবিদদের উদ্বেগ

অর্থনীতিবিদদের মতে, এই পরিসংখ্যান শ্রমবাজারের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি করেছে। অনেকেই আশা করেছিলেন ২০২৫ সালে ধীরগতির পর এবার নিয়োগ বাড়তে শুরু করবে। কিন্তু নতুন তথ্য সেই আশাকে বড় ধাক্কা দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাস্থ্যখাতে ধর্মঘটের প্রভাব কেটে গেলে কিছুটা পুনরুদ্ধার হতে পারে। তবে সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনও অনিশ্চিত।

রাজনীতিতে চাপ বাড়ছে

চাকরি হ্রাসের এই খবর প্রকাশের পর ওয়াল স্ট্রিটে শেয়ারবাজারেও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর রাজনৈতিক চাপও বেড়েছে, কারণ নির্বাচনী প্রচারে তিনি অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

বিরোধী শিবির দ্রুত এই তথ্যকে সরকারবিরোধী সমালোচনায় ব্যবহার করেছে। তাদের দাবি, বর্তমান অর্থনৈতিক নীতির কারণে শ্রমবাজার দুর্বল হয়ে পড়ছে।

অন্যদিকে হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা এই উদ্বেগকে গুরুত্ব না দিয়ে বলেছেন, সামনের মাসগুলোতে শক্তিশালী অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড নতুন করে চাকরি তৈরি করবে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প - উইকিপিডিয়া

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সামনে নতুন দোটানা

এই পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জন্যও নতুন দোটানা তৈরি করেছে। সাধারণত শ্রমবাজার দুর্বল হলে সুদের হার কমিয়ে অর্থনীতিকে চাঙা করার চেষ্টা করা হয়।

কিন্তু একই সময়ে যদি তেলের দাম দীর্ঘমেয়াদে বাড়তে থাকে, তাহলে মূল্যস্ফীতি আবার বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। ফলে নীতিনির্ধারকদের সামনে এখন জটিল সিদ্ধান্তের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে ব্যবসায়ী চেয়ারম্যানের সমাপ্তি ঘটে ১৯৭৯  সালে | আন্তর্জাতিক | Citizens Voice