দেশে সম্ভাব্য জ্বালানি সংকট এড়াতে আজ রোববার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন পদ্ধতিতে জ্বালানি তেল বিক্রি শুরু হয়েছে। নির্দিষ্ট যানবাহনের ধরন অনুযায়ী তেলের পরিমাণ নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এখন থেকে পাম্পে তেল বিক্রি হবে নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে।
কেন চালু হলো জ্বালানি তেল রেশনিং
সরকার জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সম্ভাব্য সংকট আগেভাগেই মোকাবিলা করতে এই রেশনিং পদ্ধতি চালু করা হয়েছে।
এই নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে তেলের অপচয় কমানো, কৃত্রিম সংকট ঠেকানো এবং সবার মধ্যে সমানভাবে সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

কোন গাড়ি কত লিটার তেল পাবে
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী মোটরসাইকেল প্রতিদিন সর্বোচ্চ ২ লিটার পেট্রল বা অকটেন নিতে পারবে। ব্যক্তিগত কারের জন্য দৈনিক সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ লিটার।
এসইউভি, জিপ ও মাইক্রোবাসের জন্য প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ লিটার পর্যন্ত তেল নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে পরিবহন খাতে ডিজেল সরবরাহেও একই ধরনের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। স্থানীয় রুটে চলা বাস ও পিকআপ ভ্যান প্রতিদিন ৭০ থেকে ৮০ লিটার ডিজেল নিতে পারবে। দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও কনটেইনারবাহী ট্রাকের জন্য দৈনিক বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২০০ থেকে ২২০ লিটার ডিজেল।
সারাদেশে নজরদারি শুরু
জ্বালানি তেলের নতুন বণ্টন ব্যবস্থা কার্যকর রাখতে আজ থেকেই সারাদেশে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। পাম্পগুলোতে যাতে নির্ধারিত নিয়ম মানা হয় এবং কেউ অতিরিক্ত তেল বিক্রি করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারে, সে জন্য কঠোর নজরদারির কথা জানিয়েছে সরকার।
একই সঙ্গে জানানো হয়েছে, দেশে বর্তমানে তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। খুব শিগগিরই আরও দুটি তেলবাহী জাহাজ বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

পাম্পে ভিড় ও উদ্বেগ
গত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় তেলের পাম্পে দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। তবে সরকার আশ্বস্ত করে বলছে, তেলের কোনো ঘাটতি নেই। বরং সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















