বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে দেশের অর্থনীতি সুরক্ষায় জরুরি সতর্কবার্তা দিয়েছেন শীর্ষ অর্থনীতিবিদরা। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থার সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংরক্ষণ এবং বিকল্প জ্বালানি উৎস খোঁজার ওপর জোর দিয়েছেন তারা।
শনিবার রাজধানীর মতিঝিলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে দেশের আটজন খ্যাতিমান অর্থনীতিবিদের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই পরামর্শ উঠে আসে। বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সামরিক উত্তেজনা ঘিরে সৃষ্ট বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার সম্ভাব্য প্রভাব এবং তা মোকাবিলায় নীতিগত কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়।

রিজার্ভ রক্ষায় সতর্কতার আহ্বান
অর্থনীতিবিদরা বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুদ্ধের পূর্ণ প্রভাব এখনও স্পষ্ট নয়। তবে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে চাপ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই রিজার্ভ থেকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে ডলার ব্যয় না করার পরামর্শ দেন তারা। তাদের মতে, বিদ্যমান বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহকে কেবল অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য ব্যবহার করা উচিত।
বিকল্প জ্বালানি উৎসের সন্ধান
মধ্যপ্রাচ্যের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমাতে দ্রুত বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলেন বিশেষজ্ঞরা। এ ক্ষেত্রে ব্রুনাই ও সিঙ্গাপুরের মতো দেশ থেকে জ্বালানি সংগ্রহের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার পরামর্শ দেওয়া হয়।

মূল্যস্ফীতি ঠেকাতে সতর্ক নীতি
বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়লেও তাৎক্ষণিকভাবে দেশের ভোক্তাদের ওপর বাড়তি মূল্য চাপিয়ে না দেওয়ার সুপারিশ করেন অর্থনীতিবিদরা। তাদের মতে, এতে মূল্যস্ফীতি আরও বেড়ে যেতে পারে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় চাপ তৈরি হবে।
একই সঙ্গে নীতিসূচক সুদের হার কমানোর বিষয়েও আপাতত সতর্ক থাকার কথা বলা হয়। সুদের হার কমালে বিনিয়োগ বাড়তে পারে, তবে বর্তমানে প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ।
রাজনৈতিক চাপমুক্ত সিদ্ধান্তের আশ্বাস
বৈঠকে গভর্নর মোস্তাকুর রহমান জানান, তিনি সম্পূর্ণ সততা ও স্বাধীনতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন এবং কোনো ধরনের রাজনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার করবেন না। একই সঙ্গে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে সিদ্ধান্ত গ্রহণে রাজনৈতিক প্রভাব থেকে দূরে থাকার নির্দেশনাও দেন তিনি।

প্রবাসী আয় ও বৈদেশিক ঋণ বাড়ানোর উদ্যোগ
মধ্যপ্রাচ্যে কর্মসংস্থানের পরিস্থিতি বিঘ্নিত হলে প্রবাসী আয়ে প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন অর্থনীতিবিদরা। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রবাসীদের বৈধ পথে অর্থ পাঠানো সহজ করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
এছাড়া প্রতিশ্রুত বৈদেশিক ঋণ দ্রুত ছাড়ের উদ্যোগ নেওয়া এবং তেল আমদানির জন্য বিশেষ ঋণ সুবিধা খোঁজার বিষয়েও আলোচনা হয়।
স্থায়ী পরামর্শক কমিটি গঠনের প্রস্তাব
বৈঠকের শেষে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে নিয়মিত নীতিগত পরামর্শ দেওয়ার জন্য অর্থনীতিবিদদের নিয়ে একটি স্থায়ী কমিটি গঠনের প্রস্তাব তোলা হয়। এতে সংকটের সময় দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হবে এবং জনমনে আতঙ্কও কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















