মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী সামরিক অভিযানের এক সপ্তাহ পার হতে না হতেই পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করেছে। সামরিকভাবে কিছু সাফল্য এলেও রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক ঝুঁকি দ্রুত বাড়ছে। এই সংঘাত এখন আঞ্চলিক উত্তেজনায় রূপ নিয়েছে এবং এর প্রভাব শুধু যুদ্ধক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতি ও যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।
যুদ্ধ বিস্তৃত হয়ে আঞ্চলিক সংকট
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযানে ইরানের সামরিক কাঠামোতে বড় আঘাত আসে। স্থল, নৌ ও আকাশপথে একাধিক হামলায় ইরানের প্রতিরক্ষা শক্তি দুর্বল করা হলেও যুদ্ধ দ্রুত বিস্তৃত হয়ে পড়েছে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে।
ইরান পাল্টা হামলা চালিয়ে ইসরায়েলসহ আশপাশের দেশগুলোতে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে লেবাননের হিজবুল্লাহ আবারও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করেছে, ফলে সংঘাতের পরিধি আরও বড় হয়েছে।

ট্রাম্পের কৌশল নিয়ে প্রশ্ন
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই অভিযান শুরু হলেও এর সুস্পষ্ট লক্ষ্য ও শেষপরিণতি এখনো স্পষ্ট নয়। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’কে অনেকে দুই দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় সামরিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
যদিও হোয়াইট হাউস দাবি করছে, তাদের উদ্দেশ্য ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ধ্বংস করা, নৌবাহিনী দুর্বল করা এবং ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না দেওয়া। তবে বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে তা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে বড় বোঝা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক চাপ
যুদ্ধের শুরুতে ট্রাম্পের সমর্থক শিবিরে সমর্থন থাকলেও পরিস্থিতি বদলাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুদ্ধ নিয়ে জনমত বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অনেক ভোটার নতুন করে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের পক্ষে নয়। আফগানিস্তান ও ইরাক যুদ্ধের অভিজ্ঞতা এখনো আমেরিকান জনগণের মনে তাজা।
হরমুজ প্রণালী ঘিরে অর্থনৈতিক আশঙ্কা
এই সংঘাতের সবচেয়ে বড় বৈশ্বিক ঝুঁকির একটি হচ্ছে হরমুজ প্রণালী। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবহন হয়। ইরান এই পথ বন্ধ করার হুমকি দেওয়ায় তেলবাহী জাহাজ চলাচল অনেকাংশে থেমে গেছে।
এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তেলের দাম বাড়লে তার প্রভাব পড়বে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়তে পারে।

যুদ্ধ কতদিন চলবে, অনিশ্চয়তা
এই যুদ্ধ কতদিন চলবে তা এখনো পরিষ্কার নয়। ট্রাম্প বলেছেন, অভিযান কয়েক সপ্তাহ চলতে পারে বা প্রয়োজন হলে আরও দীর্ঘ সময় লাগতে পারে।
তবে সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পরিকল্পনা যথেষ্ট সুস্পষ্ট নয়। ফলে যুদ্ধ দীর্ঘ হলে তার প্রভাব মধ্যপ্রাচ্য ছাড়িয়ে বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিতে আরও বড় সংকট তৈরি করতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















