১১:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জোয়ারে ওরাকলের বড় উত্থান, ২০২৭ সালের আগেই আয়ে নতুন রেকর্ডের ইঙ্গিত পিরিয়ড ট্যাক্সের বিরুদ্ধে তরুণ আইনজীবী মাহনূর ওমরের লড়াই, পাকিস্তানে শুরু নতুন জাতীয় বিতর্ক ১.৭৫ ট্রিলিয়ন ডলারের লক্ষ্য: বিশ্বের বৃহত্তম শেয়ার বাজারে নামতে প্রস্তুত ইলন মাস্কের স্পেসএক্স ক্রিপ্টো দুনিয়ায় দ্রুত উত্থান ‘স্টেবলকয়েন’-এর, ডলার নির্ভর এই মুদ্রা ঘিরে বাড়ছে ঝুঁকি ও সম্ভাবনার বিতর্ক ইরানপন্থী সমাবেশের আশঙ্কা, লন্ডনে ফিলিস্তিনপন্থী মিছিল নিষিদ্ধ করলেন ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রোমানিয়ায় মার্কিন সেনা উপস্থিতি বাড়ানোর অনুমোদন হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ; তেল ছাড়তে প্রস্তুত জাপান ও জার্মানি সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের জামিন, মুক্তিতে বাধা নেই থাইল্যান্ডের জাহাজে হরমুজ প্রণালীতে অজ্ঞাত হামলা, নিখোঁজ তিন নাবিক ইরান যুদ্ধে বেসামরিক ও শিশু মৃত্যুর ঘটনায় শোক প্রকাশ পোপ লিওর

মূল্যস্ফীতি বেড়ে ফেব্রুয়ারিতে ৯.১৩ শতাংশে, বাড়তি চাপ খাদ্যপণ্যে

দেশে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট মূল্যস্ফীতি ফেব্রুয়ারি মাসে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯.১৩ শতাংশে। আগের মাস জানুয়ারিতে এই হার ছিল ৮.৫৮ শতাংশ। মূলত খাদ্যপণ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ার কারণেই এই বৃদ্ধি হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো।

খাদ্যপণ্যের দামে বড় উল্লম্ফন

সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়ে হয়েছে ৯.৩০ শতাংশ। জানুয়ারিতে এই হার ছিল ৮.২৯ শতাংশ। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে খাদ্যপণ্যের দামে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে।

অন্যদিকে খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতিও সামান্য বেড়েছে। ফেব্রুয়ারিতে এটি দাঁড়িয়েছে ৯.০১ শতাংশে, যেখানে জানুয়ারিতে ছিল ৮.৮১ শতাংশ।

গ্রামাঞ্চলে মূল্যস্ফীতির চাপ বেশি

পরিসংখ্যান বলছে, শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে মূল্যস্ফীতির চাপ এখনও বেশি। এর প্রধান কারণ গ্রামীণ বাজারে খাদ্যপণ্যের দাম তুলনামূলক বেশি বাড়া।

ফেব্রুয়ারিতে গ্রামাঞ্চলে সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে হয়েছে ৯.২১ শতাংশ, যা জানুয়ারিতে ছিল ৮.৬৩ শতাংশ। তবে গত বছরের ফেব্রুয়ারির ৯.৫১ শতাংশের তুলনায় এটি কিছুটা কম।

গ্রামে খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯.০৭ শতাংশে, যা জানুয়ারিতে ছিল ৮.১৮ শতাংশ। একই সময়ে খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি বেড়ে হয়েছে ৯.৩৪ শতাংশ, যেখানে আগের মাসে ছিল ৯.০৪ শতাংশ।

শহরে খাদ্যের দাম দ্রুত বাড়ছে

শহরাঞ্চলেও মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। ফেব্রুয়ারিতে শহরের সার্বিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯.০৭ শতাংশে, যা জানুয়ারিতে ছিল ৮.৫৭ শতাংশ।

বিশেষ করে শহরের বাজারে খাদ্যপণ্যের দাম দ্রুত বেড়েছে। ফেব্রুয়ারিতে শহরে খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়ে হয়েছে ৯.৮৭ শতাংশ, যা জানুয়ারির ৮.৬১ শতাংশের তুলনায় অনেক বেশি। এতে বোঝা যাচ্ছে নগর বাজারে খাদ্যদামের চাপ আরও তীব্র হয়েছে।

তবে শহরে খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে এটি হয়েছে ৮.৫৭ শতাংশ, যা জানুয়ারির ৮.৫৪ শতাংশের তুলনায় সামান্য বেশি।

বার্ষিক গড় মূল্যস্ফীতিতে কিছুটা স্বস্তি

মাসিক ভিত্তিতে মূল্যস্ফীতি বাড়লেও বার্ষিক গড় হিসাবে পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

২০২৫ সালের মার্চ থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১২ মাসের চলমান গড় মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮.৬৫ শতাংশে। আগের বছর একই সময়ে এই হার ছিল ১০.৩১ শতাংশ। অর্থাৎ সামগ্রিকভাবে গত বছরের তুলনায় মূল্যস্ফীতির চাপ কিছুটা কমেছে।

মজুরি বৃদ্ধির হার এখনও পিছিয়ে

তবে মূল্যস্ফীতির তুলনায় মজুরি বৃদ্ধির হার এখনও কম থাকায় শ্রমজীবী মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় মজুরি সূচক পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে বেড়েছে ৮.০৬ শতাংশ। জানুয়ারিতে এই হার ছিল ৮.০৮ শতাংশ এবং ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ছিল ৮.১২ শতাংশ।

খাতভিত্তিক হিসাবে ফেব্রুয়ারিতে কৃষি খাতে মজুরি বেড়েছে ৮.১০ শতাংশ, শিল্প খাতে ৭.৯৯ শতাংশ এবং সেবা খাতে ৮.২০ শতাংশ।

কীভাবে হিসাব করা হয়েছে

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি মাসের ভোক্তা মূল্যসূচক দেশের ৬৪ জেলার ১৫৪টি বাজার থেকে সংগ্রহ করা তথ্যের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয়েছে।

সামগ্রিকভাবে দেখা যাচ্ছে, বার্ষিক গড় কিছুটা কমলেও খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ার কারণে মূল্যস্ফীতির চাপ এখনও পুরোপুরি কমেনি। ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়তেই থাকছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জোয়ারে ওরাকলের বড় উত্থান, ২০২৭ সালের আগেই আয়ে নতুন রেকর্ডের ইঙ্গিত

মূল্যস্ফীতি বেড়ে ফেব্রুয়ারিতে ৯.১৩ শতাংশে, বাড়তি চাপ খাদ্যপণ্যে

০৭:৩২:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬

দেশে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট মূল্যস্ফীতি ফেব্রুয়ারি মাসে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯.১৩ শতাংশে। আগের মাস জানুয়ারিতে এই হার ছিল ৮.৫৮ শতাংশ। মূলত খাদ্যপণ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ার কারণেই এই বৃদ্ধি হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো।

খাদ্যপণ্যের দামে বড় উল্লম্ফন

সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়ে হয়েছে ৯.৩০ শতাংশ। জানুয়ারিতে এই হার ছিল ৮.২৯ শতাংশ। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে খাদ্যপণ্যের দামে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে।

অন্যদিকে খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতিও সামান্য বেড়েছে। ফেব্রুয়ারিতে এটি দাঁড়িয়েছে ৯.০১ শতাংশে, যেখানে জানুয়ারিতে ছিল ৮.৮১ শতাংশ।

গ্রামাঞ্চলে মূল্যস্ফীতির চাপ বেশি

পরিসংখ্যান বলছে, শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে মূল্যস্ফীতির চাপ এখনও বেশি। এর প্রধান কারণ গ্রামীণ বাজারে খাদ্যপণ্যের দাম তুলনামূলক বেশি বাড়া।

ফেব্রুয়ারিতে গ্রামাঞ্চলে সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে হয়েছে ৯.২১ শতাংশ, যা জানুয়ারিতে ছিল ৮.৬৩ শতাংশ। তবে গত বছরের ফেব্রুয়ারির ৯.৫১ শতাংশের তুলনায় এটি কিছুটা কম।

গ্রামে খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯.০৭ শতাংশে, যা জানুয়ারিতে ছিল ৮.১৮ শতাংশ। একই সময়ে খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি বেড়ে হয়েছে ৯.৩৪ শতাংশ, যেখানে আগের মাসে ছিল ৯.০৪ শতাংশ।

শহরে খাদ্যের দাম দ্রুত বাড়ছে

শহরাঞ্চলেও মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। ফেব্রুয়ারিতে শহরের সার্বিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯.০৭ শতাংশে, যা জানুয়ারিতে ছিল ৮.৫৭ শতাংশ।

বিশেষ করে শহরের বাজারে খাদ্যপণ্যের দাম দ্রুত বেড়েছে। ফেব্রুয়ারিতে শহরে খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়ে হয়েছে ৯.৮৭ শতাংশ, যা জানুয়ারির ৮.৬১ শতাংশের তুলনায় অনেক বেশি। এতে বোঝা যাচ্ছে নগর বাজারে খাদ্যদামের চাপ আরও তীব্র হয়েছে।

তবে শহরে খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে এটি হয়েছে ৮.৫৭ শতাংশ, যা জানুয়ারির ৮.৫৪ শতাংশের তুলনায় সামান্য বেশি।

বার্ষিক গড় মূল্যস্ফীতিতে কিছুটা স্বস্তি

মাসিক ভিত্তিতে মূল্যস্ফীতি বাড়লেও বার্ষিক গড় হিসাবে পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

২০২৫ সালের মার্চ থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১২ মাসের চলমান গড় মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮.৬৫ শতাংশে। আগের বছর একই সময়ে এই হার ছিল ১০.৩১ শতাংশ। অর্থাৎ সামগ্রিকভাবে গত বছরের তুলনায় মূল্যস্ফীতির চাপ কিছুটা কমেছে।

মজুরি বৃদ্ধির হার এখনও পিছিয়ে

তবে মূল্যস্ফীতির তুলনায় মজুরি বৃদ্ধির হার এখনও কম থাকায় শ্রমজীবী মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় মজুরি সূচক পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে বেড়েছে ৮.০৬ শতাংশ। জানুয়ারিতে এই হার ছিল ৮.০৮ শতাংশ এবং ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ছিল ৮.১২ শতাংশ।

খাতভিত্তিক হিসাবে ফেব্রুয়ারিতে কৃষি খাতে মজুরি বেড়েছে ৮.১০ শতাংশ, শিল্প খাতে ৭.৯৯ শতাংশ এবং সেবা খাতে ৮.২০ শতাংশ।

কীভাবে হিসাব করা হয়েছে

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি মাসের ভোক্তা মূল্যসূচক দেশের ৬৪ জেলার ১৫৪টি বাজার থেকে সংগ্রহ করা তথ্যের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয়েছে।

সামগ্রিকভাবে দেখা যাচ্ছে, বার্ষিক গড় কিছুটা কমলেও খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ার কারণে মূল্যস্ফীতির চাপ এখনও পুরোপুরি কমেনি। ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়তেই থাকছে।