ভারতে অবস্থান করেও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে গেলেও সেখান থেকে দেশে অস্থির পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা একটি গুরুতর অপরাধ।
রবিবার আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র আর্কাইভে ‘মায়ের ডাক’ প্রামাণ্যচিত্রের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, গত দেড় দশকে দেশে বহু পরিবার ধ্বংস হয়ে গেছে। অসংখ্য মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন এবং বহু মানুষকে হত্যার ঘটনাও ঘটেছে। তবে সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো এসব ঘটনার জন্য শেখ হাসিনার মধ্যে কোনো অনুতাপের লক্ষণ দেখা যায়নি।
তার ভাষায়, দীর্ঘ সময় ধরে গুম ও হত্যার ঘটনাগুলো বহু পরিবারকে গভীর সংকটে ফেলেছে এবং তাদের জীবনকে বিপর্যস্ত করে দিয়েছে।
গুম ও নিহতদের পরিবারের জন্য সহায়তার দাবি
গুম ও হত্যার শিকারদের পরিবারের প্রতি সরকারের দায়িত্ব রয়েছে বলে মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, এসব পরিবারের অনেক সন্তান কঠিন বাস্তবতার মধ্যে বড় হচ্ছে এবং তাদের জীবনযাপন অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে উঠেছে।
তিনি জানান, গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারগুলো দীর্ঘদিন ধরে সীমাহীন দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছে। এখন পর্যন্ত তাদের সন্তানদের স্বাভাবিকভাবে বড় হয়ে ওঠা এবং মর্যাদার সঙ্গে বেঁচে থাকার জন্য রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি।
ভাতা দেওয়ার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কাছে
মির্জা ফখরুল বলেন, তিনি এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অবহিত করবেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য সরকারি ভাতা চালুর প্রস্তাব জানিয়ে চিঠি লিখবেন।
তার মতে, এসব পরিবারের জন্য নিয়মিত ভাতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি তাদের ন্যায্য অধিকার হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।
ত্যাগের বিনিময়ে পরিবর্তন, কিন্তু অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ
তিনি বলেন, দেশের রাজনীতিতে অনেক পরিবর্তন এসেছে। কেউ মন্ত্রী হয়েছেন, কেউ সংসদ সদস্য হয়েছেন এবং অনেকেই গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পেয়েছেন। কিন্তু যাদের ত্যাগের বিনিময়ে এই পরিবর্তন এসেছে, সেই পরিবারগুলোর সন্তানরা এখনও অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি।
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, এসব পরিবারের পাশে দাঁড়ানো, তাদের সন্তানদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা এবং জীবনে এগিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি করা সমাজ ও রাষ্ট্রের সবার দায়িত্ব।
আবেগঘন বক্তব্যে ফখরুল
অনুষ্ঠানে আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, গুম বা নিহত কর্মীদের অনেক সন্তানকে তিনি ছোটবেলা থেকে দেখেছেন। তাদের অনেকেই বাবাকে ছাড়া বড় হয়েছে।
তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যেন কোনো শিশুকে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে না হয়, তা নিশ্চিত করা সমাজ ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। ‘মায়ের ডাক’-এর আহ্বায়ক সানজিদা ইসলাম তুলি অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানে গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















