যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্বের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী বিলাসবহুল প্রতিষ্ঠান টিফানি অ্যান্ড কোম্পানি। প্রায় ১৩০ বছর পুরোনো একটি বিশালাকার ঐতিহাসিক ঘড়িকে দীর্ঘ সংস্কারকাজের মাধ্যমে নতুন রূপ দেওয়া হয়েছে। আগামী জুলাই মাসে এটি জনসাধারণের সামনে উন্মোচন করা হবে।
প্রায় আট ফুট উচ্চতার এই ঘড়িটি প্রথম তৈরি করা হয়েছিল ১৮৯৩ সালে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে অচল হয়ে পড়ে। তবে কয়েক মাসের নিবিড় সংস্কারকাজের পর ঘড়িটি আবারও সচল করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, এটি শুধু একটি সময় মাপার যন্ত্র নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস ও ঐতিহ্যেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মারক।
ঐতিহাসিক সংযোগে অনন্য
ঘড়িটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য হলো এর ১৩টি পৃথক ডায়াল। এসব ডায়ালে বিভিন্ন সময় অঞ্চল, চাঁদের অবস্থান, ক্যালেন্ডার এবং অন্যান্য জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক তথ্য প্রদর্শিত হয়। তবে সবচেয়ে ব্যতিক্রমী ডায়ালটি যুক্তরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর কত বছর অতিক্রম হয়েছে, সেই হিসাব দেখায়।
১৭৭৬ সালে স্বাধীনতার ঘোষণার পর থেকে কেটে যাওয়া বছরের সংখ্যা এই বিশেষ ডায়ালে প্রদর্শিত হয়। স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উদযাপনের সময় এমন একটি ঐতিহাসিক উপাদান নতুন করে সামনে আসায় ঘড়িটির গুরুত্ব আরও বেড়েছে।
সংস্কারের দীর্ঘ যাত্রা
ঘড়িটি উদ্ধার করার সময় এর অনেক যন্ত্রাংশ ভাঙা, বাঁকানো এবং ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় ছিল। ফলে পুরো কাঠামো খুলে প্রতিটি অংশ আলাদাভাবে পরীক্ষা ও মেরামত করতে হয়েছে। প্রায় সাত মাস ধরে একদল বিশেষজ্ঞ এই কাজে যুক্ত ছিলেন।
সংস্কারকাজে যতটা সম্ভব উনিশ শতকের ঐতিহ্যবাহী কৌশল ব্যবহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় যন্ত্রাংশ পরিষ্কার ও অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের কাজও করা হয়। এতে পুরোনো কারিগরি দক্ষতা এবং আধুনিক প্রযুক্তির একটি সমন্বয় দেখা গেছে।
বিশ্বমেলার প্রদর্শনী থেকে নতুন যাত্রা
৫৫০ পাউন্ড ওজনের এই গ্র্যান্ডফাদার ঘড়িটি বিশেষ কাঠ, সূক্ষ্ম অলংকরণ এবং শৈল্পিক নকশায় তৈরি। এটি প্রথম প্রদর্শিত হয়েছিল ১৮৯৩ সালের বিশ্বমেলায়। সেই সময় ঘড়িটি প্রযুক্তি ও কারুশিল্পের এক অসাধারণ নিদর্শন হিসেবে প্রশংসা কুড়িয়েছিল।
সংস্কারের সময় একটি মজার তথ্যও সামনে আসে। স্বাধীনতার বছর গণনাকারী ডায়ালটি বহু বছর ধরে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যায় আটকে ছিল। পরে সেটিকে নতুনভাবে সমন্বয় করে বর্তমান সময়ের সঙ্গে মিলিয়ে দেওয়া হয়েছে, যাতে স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তির হিসাব সঠিকভাবে প্রদর্শিত হয়।
নতুন প্রজন্মের জন্য ঐতিহ্যের বার্তা
দীর্ঘ সংস্কার শেষে ঘড়িটি পুনরায় সংযোজন ও নির্ভুলতা পরীক্ষা করা হয়। এরপর বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থার মাধ্যমে এটি নিউইয়র্কে আনা হয়েছে। এখন এটি প্রদর্শনের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘড়ি শুধু অতীতের একটি নিদর্শন নয়; এটি কারুশিল্প, ইতিহাস এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতার এক অনন্য সমন্বয়। স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তির প্রাক্কালে এর পুনর্জন্ম নতুন প্রজন্মকে ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রয়াস হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০ বছর উদযাপনে ১৩০ বছরের ঐতিহাসিক ঘড়ির পুনর্জন্ম, দর্শকদের জন্য উন্মোচনের প্রস্তুতি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















