নারীর প্রতি সহিংসতা ও নির্যাতন বন্ধ করতে দেশের বিচারব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কারের দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে বিশেষ দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল গঠনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে ঢাকার মগবাজারে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। সেখানে তারা বলেন, নারী নির্যাতন বন্ধ করতে শুধু আইন নয়, বিচারব্যবস্থার কার্যকর সংস্কার এবং সামাজিক সচেতনতা জরুরি।
বিচারব্যবস্থার সংস্কারের দাবি
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মহিলা বিষয়ক সম্পাদক নূরুন্নিসা সিদ্দিকা বলেন, নারী নির্যাতন রোধে বিদ্যমান বিচারব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা অত্যন্ত জরুরি। তিনি বলেন, নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে অপরাধ দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হলে অপরাধীরা দ্রুত শাস্তির মুখোমুখি হবে এবং অপরাধ কমবে।
তিনি আরও বলেন, সমাজে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। নারীর অধিকার ও নিরাপত্তার প্রশ্নে সব নারীকে একসঙ্গে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
নারীর প্রতি সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আইন ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সাবিকুন্নাহার মুন্নি। তিনি বলেন, শিক্ষা ক্ষেত্রসহ সমাজের বিভিন্ন স্তরে নারী নির্যাতনের ঘটনা বাড়ছে, যা উদ্বেগজনক। এর পেছনে সামাজিক অবক্ষয় ও অনৈতিক পরিবেশকে দায়ী করেন তিনি।
নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে জুলাই সনদের বাস্তবায়ন জরুরি বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তার মতে, নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে ভারসাম্যপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ ছাড়া প্রকৃত ক্ষমতায়ন সম্ভব নয়।
সচেতনতার ওপর জোর
সভায় সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সমাজকল্যাণ বিভাগীয় সম্পাদক খন্দকার আয়েশা খাতুন। তিনি বলেন, সমাজের সব স্তরের নারীদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা অত্যন্ত প্রয়োজন। নারীর অধিকার রক্ষা এবং নিরাপদ সমাজ গঠনে সবাইকে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।
অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য দেন তালিমুল কোরআন বিভাগীয় সম্পাদক ইরানি আখতার। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উম্মে খালেদা জাহান ও শিক্ষিকা ফাতিমা আখতার হ্যাপি। স্বাগত বক্তব্য দেন চিকিৎসক নাজনীন আখতার ও সাবেক কাউন্সিলর আমেনা বেগম।
রাজধানীর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নারীরা এই আলোচনা সভায় অংশ নেন। অনুষ্ঠানে কাজী তাবাসসুমের কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু হয় এবং রোজিনা আখতারের দোয়ার মাধ্যমে শেষ হয়। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মারজান হীরা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















