ফেব্রুয়ারি মাসে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি দেখা গেছে। ব্যবসায়িক আস্থার গুরুত্বপূর্ণ সূচক ক্রয় ব্যবস্থাপক সূচক বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৫ দশমিক ৭-এ। আগের মাসের তুলনায় এটি দ্রুত সম্প্রসারণের ইঙ্গিত দিচ্ছে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক মনোভাব বাড়ার সংকেত দিচ্ছে।
ফেব্রুয়ারি মাসের প্রতিবেদনে দেখা যায়, জানুয়ারির তুলনায় সূচকটি ১ দশমিক ৮ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে কৃষি, উৎপাদন ও সেবা খাতের উন্নতির কারণে সামগ্রিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমে গতি এসেছে।
অর্থনীতির গতিপ্রবাহ বোঝার সূচক
ক্রয় ব্যবস্থাপক সূচক মূলত দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে দ্রুত ধারণা দেওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছে। এই সূচক ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী ও নীতিনির্ধারকদের সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করে।
সূচকটি তৈরিতে কাজ করেছে ঢাকার মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ও পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ। এতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের কারিগরি সহায়তাও যুক্ত রয়েছে।
কৃষি খাতে টানা সম্প্রসারণ
ফেব্রুয়ারি মাসে কৃষি খাতে টানা ষষ্ঠ মাসের মতো সম্প্রসারণ অব্যাহত রয়েছে। নতুন ব্যবসা ও কৃষিভিত্তিক কার্যক্রমে আগের তুলনায় দ্রুত বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে।
উৎপাদন উপকরণের খরচ এবং অর্ডারের চাপও বাড়তে শুরু করেছে। তবে এই খাতে কর্মসংস্থান আগের তুলনায় আরও দ্রুত হারে কমেছে।
উৎপাদন খাতে ধারাবাহিক অগ্রগতি
উৎপাদন খাত টানা আঠারো মাস ধরে সম্প্রসারণে রয়েছে এবং ফেব্রুয়ারিতে এই প্রবৃদ্ধির গতি আরও বেড়েছে। নতুন অর্ডার, কারখানার উৎপাদন, আমদানি, কাঁচামালের দাম এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে।
তবে নতুন রপ্তানি আদেশ, প্রস্তুত পণ্যের মজুদ এবং কর্মসংস্থানে সংকোচন অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে অর্ডারের জমে থাকা কাজ আবারও কমে গেছে।
নির্মাণ খাতে আবারও সংকোচন
জানুয়ারিতে সামান্য উন্নতির পর ফেব্রুয়ারিতে নির্মাণ খাত আবার সংকোচনের দিকে চলে গেছে। নতুন ব্যবসা, কর্মসংস্থান এবং অর্ডারের চাপ কমে গেছে।
তবে নির্মাণ কার্যক্রম এবং উৎপাদন উপকরণের খরচে সম্প্রসারণ দেখা গেছে।
সেবা খাতে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি
সেবা খাত টানা সতেরো মাস ধরে সম্প্রসারণে রয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে নতুন ব্যবসা, কার্যক্রম, কর্মসংস্থান, উপকরণ খরচ এবং অর্ডারের চাপ—সব ক্ষেত্রেই দ্রুত বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে।
সামনে বাড়ার আশা
ভবিষ্যৎ ব্যবসা সূচক দেখাচ্ছে কৃষি, উৎপাদন, নির্মাণ এবং সেবা—সব খাতেই আগামী মাসগুলোতে সম্প্রসারণ অব্যাহত থাকতে পারে।
ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, রমজান ও ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে বাজারে মৌসুমি চাহিদা বাড়বে। বিশেষ করে সেবা ও খুচরা বাণিজ্যে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
বাড়ছে খরচের চাপ
তবে একই সঙ্গে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো কাঁচামাল, শ্রম ও জ্বালানি ব্যয়ের বৃদ্ধির কারণে চাপের কথাও জানিয়েছে। এই ব্যয় বৃদ্ধির প্রবণতা অর্থনীতির ওপর চাপ তৈরি করতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, ফেব্রুয়ারির সূচক অর্থনৈতিক কার্যক্রমে মাঝারি মাত্রার উন্নতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে রমজানকে কেন্দ্র করে কৃষি ও সেবা খাতে চাহিদা বাড়ার প্রভাব দেখা যাচ্ছে।
তবে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা বেড়ে গেলে তা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সামগ্রিক চ্যালেঞ্জ এখনো রয়ে গেছে
মৌসুমি চাহিদা বাড়লেও দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির সামনে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বিভিন্ন খাতভিত্তিক সমস্যা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা দেশের প্রবৃদ্ধিকে সীমিত করতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















