আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে নারীর অধিকার, সুযোগ ও মর্যাদা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ। দিবসটি ঘিরে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচিতে নারীর অবদান, সংগ্রাম এবং উন্নয়নে তাদের ভূমিকার প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম দিবসটি উপলক্ষে বক্তব্যে ‘গণতন্ত্রের মাতা’ সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, নারী শিক্ষার প্রসারে বেগম খালেদা জিয়ার নেওয়া উদ্যোগ বাংলাদেশের সমাজে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিল। একই সঙ্গে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথাও স্মরণ করেন তিনি, যিনি নারীর কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং নারী বিষয়ক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার মাধ্যমে নারীর অংশগ্রহণকে এগিয়ে নিয়েছিলেন।
নতুন সরকারের উদ্যোগ
প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার নারীর উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নে বেশ কিছু কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পরিবার ও কৃষক কার্ড কর্মসূচি, নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বাড়তি সহায়তা, মেয়েদের স্নাতকোত্তর পর্যন্ত বিনা খরচে শিক্ষার সুযোগ এবং স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ।
তিনি বলেন, নারীদের আনুষ্ঠানিক অর্থনীতিতে আরও বেশি সম্পৃক্ত করতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে দেশের উন্নয়নে নারীর অবদান আরও শক্তিশালী হয়।
নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে জোর
নারী ও কন্যাশিশুর বিরুদ্ধে সহিংসতা প্রতিরোধে সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধ ও দ্রুত প্রতিকার নিশ্চিত করতে আইনগত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ আরও জোরদার করা হবে।
নারী দিবস উদযাপনে বিশেষ আয়োজন
আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে ঢাকার একটি অভিজাত হোটেলে ইফতার সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। সেখানে কূটনীতিক, রাজনীতিবিদ, সরকারি কর্মকর্তা, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট নারীরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের নারীদের প্রতি বিশেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়—১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের অগ্রদূত থেকে শুরু করে আজকের নেতা, পেশাজীবী, শিক্ষক ও উদ্যোক্তাদের অবদান স্মরণ করা হয়।
বৈশ্বিক সহযোগিতার গুরুত্ব
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা নারীর অধিকার ও সমতা প্রতিষ্ঠায় বৈশ্বিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন। বক্তারা বলেন, নারীর ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে বিশ্বজুড়ে যৌথ উদ্যোগ ও অংশীদারিত্ব প্রয়োজন।
এ বছর আন্তর্জাতিক নারী দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল—‘অধিকার, ন্যায়বিচার ও কর্ম: সকল নারী ও কন্যাশিশুর জন্য’। বক্তারা বলেন, নারীর ন্যায়বিচার ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে সমাজের সব বাধা দূর করা জরুরি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















