রাজধানীর উত্তরায় গ্যাস জমে বিস্ফোরণের ঘটনায় মারাত্মক দগ্ধ হওয়া অন্তঃসত্ত্বা এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। কয়েক দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার সকালে তার মৃত্যু হয়।
নিহত সোনিয়া আক্তার মাত্র ২৫ বছর বয়সী ছিলেন। বিস্ফোরণের সময় তিনি অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু
চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, রবিবার সকাল প্রায় ১০টার দিকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোনিয়া আক্তারের মৃত্যু হয়।
চিকিৎসকরা জানান, বিস্ফোরণের সময় তিনি শতভাগ দগ্ধ হন এবং তার শ্বাসনালীতেও গুরুতর আঘাত লাগে। গুরুতর অবস্থায় কয়েক দিন চিকিৎসা চলার পর শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
একই ঘটনায় দগ্ধ আরও ৯ জন
এই বিস্ফোরণে সোনিয়ার স্বামী রুবেল, তাদের তিন বছরের মেয়ে রোজাসহ পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য দগ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
তাদের মধ্যে রুবেলের চাচাতো ভাই এনায়েতও রয়েছেন, যিনি সম্প্রতি দুবাই থেকে দেশে ফিরেছিলেন। তার শরীরের প্রায় ৪৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।
এ ছাড়া রুবেল, রিয়া, রোজা, দেলেরাসহ পরিবারের আরও কয়েকজন বিভিন্ন মাত্রায় দগ্ধ হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
ভোরের বিস্ফোরণে আতঙ্ক
শুক্রবার ভোর সাড়ে তিনটার দিকে রাজধানীর উত্তরার তুরাগ থানার কামারপাড়া এলাকায় একটি আবাসিক ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, ভোরে হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হলে ভবনের বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন। বিস্ফোরণের তীব্রতায় ভবনের নিচতলা ও প্রথম তলার দেয়ালের কিছু অংশ ধসে পড়ে।
ঘটনার সময় ওই ফ্ল্যাটে থাকা ১০ জনই দগ্ধ হন।
গ্যাস জমে বিস্ফোরণের সন্দেহ
ভুক্তভোগীদের স্বজনদের ধারণা, ঘরের ভেতরে গ্যাস জমে থাকার কারণে এ বিস্ফোরণ ঘটে থাকতে পারে।
বিস্ফোরণের কারণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বলে জানা গেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















