সিলেট নগরে জ্বালানির প্রাপ্যতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ডিপো থেকে কম সরবরাহ পাওয়ায় অনেক ফিলিং স্টেশন চাহিদা পূরণ করতে পারছে না। ফলে কোথাও সীমিত পরিমাণে জ্বালানি বিক্রি হচ্ছে, আবার কোথাও বিক্রি পুরোপুরি বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে পাম্প কর্তৃপক্ষ।
পাম্প মালিকরা জানান, ডিপো থেকে চাহিদার তুলনায় কম জ্বালানি পাওয়ায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। তবে সরবরাহ স্বাভাবিক হলে পরিস্থিতি দ্রুত ঠিক হয়ে যাবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেছেন।
রোববার বিকেলে নগরের কয়েকটি ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, বেশ কয়েকটি পাম্পে সীমিত পরিমাণে জ্বালানি বিক্রি করা হচ্ছে। আবার কিছু পাম্পে মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় বিক্রি বন্ধ রয়েছে।

জালালাবাদ পাম্পে বিক্রি বন্ধ
বন্দরবাজারের কাছে অবস্থিত জালালাবাদ পাম্পে সংবাদকর্মী পৌঁছালে দেখা যায়, সেখানে জ্বালানি বিক্রি বন্ধ রয়েছে।
মিলন নামে ২৮ বছর বয়সী এক বিকাশ মার্চেন্ট এজেন্ট মোটরসাইকেলে করে জ্বালানি নিতে এসে জানান, শনিবার রাত থেকে তিনি পেট্রোল পাচ্ছেন না।
তিনি বলেন, গত রাত থেকে জ্বালানি পাচ্ছি না। এভাবে চললে কীভাবে কাজ করব বা চলাফেরা করব, বুঝতে পারছি না।
সীমিত বিক্রি বিভিন্ন পাম্পে
পাঠানটুলার নর্থ ইস্ট পেট্রোল পাম্পে সন্ধ্যার দিকে সীমিত পরিমাণে জ্বালানি বিক্রি করতে দেখা যায়। সেখানে মোটরসাইকেল আরোহীদের সর্বোচ্চ ২০০ টাকার জ্বালানি দেওয়া হচ্ছিল।
আম্বরখানার জালালাবাদ পেট্রোল পাম্পেও একই পরিস্থিতি দেখা যায়। সেখানে মোটরসাইকেলে সর্বোচ্চ ২০০ থেকে ৩০০ টাকার জ্বালানি দেওয়া হচ্ছিল।
কিছু গ্রাহক অকটেন চাইলে কর্মচারীরা জানান, পাম্পে অকটেন মজুত নেই। তবে পাম্পের মালিক বা ব্যবস্থাপকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

বৃহস্পতিবারের চাহিদা বাড়ায় সংকট
ফিলিং স্টেশন মালিকরা জানান, বৃহস্পতিবার হঠাৎ করে জ্বালানির চাহিদা বেড়ে যায়। এরপর শুক্রবার থেকে ডিপো থেকে সরবরাহ কমে যাওয়ায় সংকট তৈরি হয়েছে।
এ পরিস্থিতি নিয়ে রোববার দুপুরে সিলেটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সারওয়ার আলমের সঙ্গে বৈঠক করেন ফিলিং স্টেশন মালিক সমিতির নেতারা।
বৈঠকের পর নেতারা জানান, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের নতুন নির্দেশনার কারণে সিলেটের কিছু স্টেশনে সরবরাহ কমে গেছে। এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে একটি স্মারকলিপিও দেওয়া হয়েছে।
সরবরাহ ব্যবস্থায় সমস্যা
সিলেট পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াসাদ আজিম বলেন, মূল সমস্যা সরবরাহ ব্যবস্থায়। চাহিদা অনুযায়ী ডিপো থেকে জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে না।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার পর দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে।
প্রশাসনের বক্তব্য
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সারওয়ার আলম বলেন, দেশে জ্বালানির প্রকৃত কোনো সংকট নেই এবং পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে।
তিনি বলেন, সম্ভাব্য সংকটের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে সরকার যে নির্দেশনা দিয়েছে, প্রশাসন সেভাবেই কাজ করবে। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হয়েছে এবং কয়েক দিনের মধ্যেই সিলেটের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আতঙ্কে বেশি কিনছেন ক্রেতারা
বৈঠকে উপস্থিত সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন বলেন, সংকটের আশঙ্কা শুনে অনেক ক্রেতা অপ্রয়োজনীয়ভাবে বেশি জ্বালানি কিনছেন।
তিনি বলেন, সাধারণত কেউ দুই লিটার নিলেও এখন অনেকে ১০ লিটার করে কিনছেন। এতে কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে। তিনি জনগণকে অযথা জ্বালানি মজুত না করার আহ্বান জানান।
জ্বালানি কেনায় নতুন সীমা
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন শুক্রবার থেকে জ্বালানি কেনায় নতুন সীমা নির্ধারণ করেছে।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, একটি মোটরসাইকেল প্রতিদিন সর্বোচ্চ দুই লিটার পেট্রোল বা অকটেন নিতে পারবে। ব্যক্তিগত গাড়ি সর্বোচ্চ ১০ লিটার পর্যন্ত জ্বালানি নিতে পারবে।
এসইউভি, জিপ ও মাইক্রোবাস প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ লিটার পর্যন্ত জ্বালানি নিতে পারবে। পিকআপ ও স্থানীয় বাস ৭০ থেকে ৮০ লিটার ডিজেল কিনতে পারবে। আর দূরপাল্লার বাস, ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান প্রতিদিন সর্বোচ্চ ২০০ থেকে ২২০ লিটার পর্যন্ত জ্বালানি নিতে পারবে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















