চীনে বছরের শুরুতে ভোক্তা মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেড়েছে। দীর্ঘায়িত চীনা নববর্ষের ছুটিকে কেন্দ্র করে কেনাকাটা ও ভোগব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এই প্রবণতা দেখা গেছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, অর্থনীতির এই পুনরুদ্ধার ধরে রাখতে চাইলে বেইজিংকে অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়ানোর জন্য আরও শক্ত পদক্ষেপ নিতে হতে পারে।
চীনের জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরো সোমবার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি–ফেব্রুয়ারি সময়ে দেশটির ভোক্তা মূল্যসূচক বা সিপিআই আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ০.৮ শতাংশ বেড়েছে। সিপিআইকে সাধারণত মূল্যস্ফীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
চীনা নববর্ষের প্রভাব এড়াতে একসঙ্গে দুই মাসের হিসাব
চীনা নববর্ষের ছুটির সময় ভোগব্যয়ের বড় ধরনের ওঠানামা হয়। তাই এই প্রভাবকে পরিসংখ্যান থেকে কমিয়ে আনতে সাধারণত জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারির তথ্য একসঙ্গে প্রকাশ করা হয়। এ বছর নববর্ষ ফেব্রুয়ারিতে পড়লেও গত বছর তা ছিল জানুয়ারিতে। ফলে মাসভিত্তিক তুলনায় বিকৃতি এড়াতেই এই পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে।

ফেব্রুয়ারিতে তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃদ্ধি
ফেব্রুয়ারি মাসে ভোক্তা মূল্য আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১.৩ শতাংশ বেড়েছে। এটি প্রায় তিন বছরের মধ্যে মাসিক হিসেবে সবচেয়ে বড় বৃদ্ধি। জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর মতে, দীর্ঘ ছুটি ও ভোগব্যয়ের পুনরুদ্ধারের ফলে এই বৃদ্ধি হয়েছে।
এই পরিসংখ্যান বাজারের প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে গেছে। আর্থিক তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান উইন্ডের জরিপে অংশ নেওয়া অর্থনীতিবিদরা ফেব্রুয়ারিতে প্রায় ০.৯৩ শতাংশ বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিলেন।
দীর্ঘমেয়াদী প্রবণতা নিয়ে সতর্কতা

তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, সাম্প্রতিক এই উত্থান আংশিকভাবে সাময়িক কারণেও ঘটেছে। চীনা নববর্ষের অতিরিক্ত ভোগব্যয় এবং মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার কারণে তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়াও মূল্যস্ফীতি বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে।
ফলে এই বৃদ্ধি দীর্ঘমেয়াদে স্থায়ী হবে কি না, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, ভোক্তা চাহিদা স্থায়ীভাবে শক্তিশালী না হলে চীনের জন্য মূল্যস্ফীতিকে সরকারের লক্ষ্যমাত্রা ২ শতাংশের কাছাকাছি ধরে রাখা কঠিন হতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















