দৈনন্দিন শিল্পকারখানার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খনিজের ঘাটতিতে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বহু কোম্পানি। যদিও চীন কিছু রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ শিথিল করেছে, তবুও সরবরাহ পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি বলে জানিয়েছেন শিল্পখাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
বাণিজ্য যুদ্ধের বিরতিতেও সংকট অব্যাহত
গত বছরের নভেম্বরে বেইজিং ও ওয়াশিংটন একটি সাময়িক বাণিজ্য সমঝোতায় পৌঁছায়। সেই চুক্তির পর চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ঘোষণা দেয়, যুক্তরাষ্ট্রে গ্যালিয়াম, জার্মেনিয়াম ও অ্যান্টিমনি রপ্তানির ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা এক বছরের জন্য স্থগিত করা হবে।
তবে এই সিদ্ধান্তের পরও যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর সমস্যার খুব একটা সমাধান হয়নি। কারণ এসব গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামালের বৈশ্বিক বাজারে চীনের প্রভাব অত্যন্ত শক্তিশালী। বিশেষ করে ভারী বিরল মাটি খনিজের বাজারে চীনের আধিপত্য এখনও সরবরাহ ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করছে।

সরবরাহ না বাড়লে সমাধান নেই
নিউইয়র্কভিত্তিক গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সরবরাহ চেইন বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান থ্রি লেগড ক্যাপিটালের পরিচালক ডেভিড আব্রাহাম বলেন, চীন থেকে সরবরাহ বাড়ানো ছাড়া এই সংকটের দ্রুত কোনো বিস্তৃত সমাধান নেই।
তার ভাষায়, সমস্যা শুধু দাম বাড়ার নয়। আসল সমস্যা হলো প্রয়োজনীয় উপকরণগুলো প্রস্তুতকারকদের কাছে পৌঁছাচ্ছে না। এতে প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা শিল্পে গুরুতর চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে।
বিশ্বজুড়ে খনিজের জন্য প্রতিযোগিতা

গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সরবরাহ বৈচিত্র্য নিয়ে কাজ করা পরামর্শক প্রতিষ্ঠান রিহলা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাডভাইজরির প্রধান নির্বাহী জেসি মার্কস বলেন, গত এপ্রিল থেকে চীনের সামগ্রিক নিষেধাজ্ঞা ও কঠোর রপ্তানি লাইসেন্স ব্যবস্থা বিশ্বজুড়ে এসব খনিজের জন্য তীব্র প্রতিযোগিতা তৈরি করেছে।
ফলে যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক দেশ বিকল্প উৎস খুঁজে বের করার চেষ্টা করলেও, বাস্তবে চীনের শক্তিশালী বাজার নিয়ন্ত্রণ এখনও বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় প্রভাব ফেলছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















