মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উত্তেজনা বাড়তে থাকায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে এবং একই সঙ্গে শক্তিশালী হয়ে উঠছে মার্কিন ডলার। জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটতে পারে—এমন আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদের দিকে ঝুঁকছেন। এর ফলে ডলারের চাহিদা বেড়ে গেছে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

যুদ্ধের প্রভাব, তেলের দামে বড় উল্লম্ফন
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে—এমন আশঙ্কায় সোমবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১২০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে যায়।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাতের কারণে ইতিমধ্যেই বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় জ্বালানি পরিবহন বড় ধাক্কার মুখে পড়তে পারে।
বিশ্ববাজারে এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় জ্বালানিনির্ভর অর্থনীতিগুলোর ওপর চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে এশিয়ার অনেক দেশ মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এই অঞ্চলে অর্থনৈতিক ধাক্কার আশঙ্কা বেশি।

বিনিয়োগকারীদের ভরসা ডলার
তেলের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ থেকে সরে গিয়ে নগদ অর্থ ও নিরাপদ মুদ্রার দিকে ঝুঁকছেন। এর ফলে মার্কিন ডলারের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
ডলারের বিপরীতে ইউরো ও পাউন্ডের মূল্য কমে গেছে। ইউরোর দাম নেমে এসেছে কয়েক মাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে, আর পাউন্ডও উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়েছে। একই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ান ডলার ও সুইস ফ্রাঁর মতো মুদ্রাও চাপের মুখে পড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র নিজেই বড় জ্বালানি রপ্তানিকারক হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকট তৈরি হলে ডলার তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী থাকে।
মুদ্রাস্ফীতির নতুন আশঙ্কা
তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতি আবারও বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর ফলে অনেক দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদ কমানোর পরিকল্পনা থমকে যেতে পারে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, যুদ্ধ যদি দীর্ঘায়িত হয় তবে জ্বালানি খরচ বাড়বে, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পাবে এবং শেষ পর্যন্ত বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ধীর হয়ে যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, তেলের দাম কতটা বাড়বে এবং কতদিন উচ্চ পর্যায়ে থাকবে—সেটিই শেষ পর্যন্ত বিশ্ব অর্থনীতির ওপর প্রভাব নির্ধারণ করবে।

জরুরি তেল মজুদ ছাড়ার আলোচনা
এদিকে বিশ্বের বড় অর্থনীতির দেশগুলো পরিস্থিতি সামাল দিতে জরুরি তেল মজুদ থেকে সরবরাহ বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার সমন্বয়ে বড় অর্থনীতির দেশগুলোর অর্থমন্ত্রীদের বৈঠকে এই বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
এই খবর প্রকাশের পর তেলের দাম সামান্য কমলেও বাজারে অনিশ্চয়তা এখনও কাটেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দ্রুত থামানো না গেলে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন চাপ তৈরি হতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















