মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব সরাসরি পড়ছে আমদানি নির্ভর দেশগুলোর অর্থনীতিতে। পরিস্থিতি সামাল দিতে দক্ষিণ কোরিয়া সরকার দেশে জ্বালানি তেলের দামের উপর সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তেলের দামের উল্লম্ফনে জরুরি পদক্ষেপ
সোমবার এক জরুরি মন্ত্রিসভা বৈঠকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং জানান, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বেড়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে দেশের ভোক্তাদের অতিরিক্ত চাপ থেকে রক্ষা করতে সরকার অভ্যন্তরীণ জ্বালানি তেলের দামে সীমা নির্ধারণের পরিকল্পনা নিয়েছে।
তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যকে ঘিরে সাম্প্রতিক উত্তেজনা আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক পরিবেশে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করছে। ফলে বাণিজ্য ও জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীল দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনীতির ওপরও বাড়ছে চাপ।

ব্যারেলপ্রতি তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়াল
বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ইতিমধ্যে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে। এর ফলে জ্বালানি আমদানিকারক দেশগুলোর জন্য খরচ দ্রুত বেড়ে যাচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশ, যারা জ্বালানির বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করে, তারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়ছে।
সরকারের মতে, তেলের এই ঊর্ধ্বগতি যদি দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকে তবে তা দেশের শিল্প, পরিবহন এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দিতে পারে।

অর্থনীতিতে বাড়ছে অনিশ্চয়তা
সরকারি বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও জটিল হলে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে দক্ষিণ কোরিয়া সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে অভ্যন্তরীণ বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে চায়, যাতে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বড় ধরনের ধাক্কা না খায়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















