ইরানের জ্বালানি সংকট এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে রাশিয়া থেকে আরও প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে চীন। দেশটির নতুন পাঁচ বছর মেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনার খসড়ায় রাশিয়া থেকে গ্যাস পরিবহনের জন্য দুটি পাইপলাইন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে বহুদিন ধরে আলোচিত ‘পাওয়ার অব সাইবেরিয়া–২’ প্রকল্পটি দ্রুত এগোতে পারে কি না—তা নিয়ে বাজারে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
চীনের এই পদক্ষেপকে অনেকেই বেইজিং ও মস্কোর কৌশলগত জ্বালানি সহযোগিতার প্রতীক হিসেবেও দেখছেন।
চীনের পাঁচ বছর মেয়াদি পরিকল্পনায় নতুন পাইপলাইন
চীনের ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের উন্নয়ন পরিকল্পনার খসড়ায় উল্লেখ করা হয়েছে, আগামী পাঁচ বছরে “চীন–রাশিয়া প্রাকৃতিক গ্যাস পাইপলাইনের মধ্যম রুটের প্রস্তুতিমূলক কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে।” বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, এই মধ্যম রুট বলতে মূলত ‘পাওয়ার অব সাইবেরিয়া–২’ প্রকল্পকেই বোঝানো হয়েছে, যা মঙ্গোলিয়া হয়ে চীনে প্রবেশ করার কথা।
গত সপ্তাহে চীনের শীর্ষ আইনসভায় বার্ষিক অধিবেশনের সময় এই পরিকল্পনার খসড়া প্রকাশ করা হয়। তবে সেখানে পাইপলাইন প্রকল্পের বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
চুক্তি ও অর্থায়ন নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা
বিশ্লেষকদের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের আগে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনো চূড়ান্ত হয়নি। নিউ ইউরেশিয়ান স্ট্র্যাটেজিস সেন্টারের সহযোগী ফেলো আলেক্সেই চিগাদায়েভ বলেন, রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি প্রতিষ্ঠান গ্যাজপ্রম এবং চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি চায়না ন্যাশনাল পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (সিএনপিসি) মধ্যে অংশীদারিত্বের কাঠামো এখনো নির্ধারিত নয়।
এ ছাড়া পাইপলাইন নির্মাণের ব্যয় কে বহন করবে এবং পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহ করা গ্যাসের মূল্য কত হবে—এসব বিষয়েও এখনো সমঝোতা হয়নি।

দীর্ঘমেয়াদি ও ব্যয়বহুল প্রকল্প
চিগাদায়েভের মতে, এটি অত্যন্ত দীর্ঘমেয়াদি ও বিপুল বিনিয়োগনির্ভর একটি অবকাঠামো প্রকল্প। পুরো পাইপলাইন নির্মাণ শেষ হতে বহু বছর সময় লাগতে পারে।
তাই চীনের পরিকল্পনায় এই প্রকল্পের উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে এর নির্মাণ কাজ কবে শুরু হবে বা কবে শেষ হবে—তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাশিয়ার গ্যাসের ওপর চীনের নির্ভরতা বাড়তে পারে—এমন সম্ভাবনাই এই পরিকল্পনার মাধ্যমে সামনে এসেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















