ঢাকায় পুলিশ সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকির জানিয়েছেন, ভারতে গ্রেপ্তার হওয়া হাদি হত্যা মামলার দুই সন্দেহভাজনকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, শিগগিরই তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হতে পারে।
হাদি হত্যা মামলার আসামি ফেরাতে কূটনৈতিক উদ্যোগ
সোমবার রাজধানীর পুলিশ সদর দপ্তরের মিডিয়া সেন্টারে অনুষ্ঠিত ব্রিফিংয়ে আইজিপি বলেন, ভারত থেকে গ্রেপ্তার হওয়া দুই সন্দেহভাজনকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দ্রুতই তাদের বাংলাদেশে আনার সম্ভাবনা রয়েছে।

ভারতে গ্রেপ্তার দুই সন্দেহভাজন
পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স সীমান্তবর্তী বংগাঁও এলাকা থেকে হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ (৩৭) এবং তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করে।
তারা ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদিকে হত্যার ঘটনায় জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।
চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি
আইজিপি জানান, চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে পুলিশ কঠোর অবস্থান নিয়েছে। রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক না কেন, চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ এবং মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে ব্লক রেইড পরিচালনা করা হয়েছে এবং এই অভিযান চলমান রয়েছে।
পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ
অতীতে পুলিশ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে যে আস্থার ঘাটতি তৈরি হয়েছিল তা দূর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন আইজিপি। তিনি বলেন, জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার করতে পুলিশকে আরও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে হবে।
এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য প্রতিটি জেলার সদর থানাকে ‘জিরো কমপ্লেইন থানা’ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। এসব থানার কার্যক্রম নিয়মিতভাবে একজন সার্কেল অফিসার তদারকি করবেন।
তিনি আরও বলেন, থানায় সেবা নিতে আসা মানুষ যেন সন্তুষ্ট হয়ে ফিরে যেতে পারেন এবং পুলিশের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ না থাকে—সেই লক্ষ্যেই কাজ করা হচ্ছে।
ঘটনাস্থলে দ্রুত পুলিশি প্রতিক্রিয়া
আইজিপি বলেন, কোনো ঘটনা ঘটলে পুলিশ যেন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারে, সেই জন্য প্রতিক্রিয়া সময় কমিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঘটনার পরপরই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া নিশ্চিত করা হবে।

নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা প্রতিরোধে ব্যবস্থা
নারীর প্রতি সহিংসতা, বিশেষ করে ধর্ষণের মতো অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
এছাড়া তদন্তের মান উন্নত করতে অপরাধ তদন্ত বিভাগকে আরও আধুনিকায়ন করা হবে, যাতে দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা যায়।
ঈদকে সামনে রেখে নিরাপত্তা জোরদার
আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে সড়ক, মহাসড়ক, নৌপথ ও রেলপথে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানান আইজিপি।
তিনি বলেন, মহাসড়কে ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও দস্যুতা ঠেকাতে কঠোর নজরদারি থাকবে। এ ক্ষেত্রে জেলা পুলিশকে হাইওয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং র্যাবও মহাসড়কে দায়িত্ব পালন করছে।
বাজারে নিরাপত্তা বৃদ্ধি
দেশের বড় বড় বাজারগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। চুরি ও ছিনতাই প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানান আইজিপি।

পোশাক খাতে অস্থিরতা ঠেকাতে সমন্বয়
আইজিপি বলেন, ঈদের আগে বেতন ও ভাতা নিয়ে তৈরি পোশাক খাতে প্রায়ই শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দেয়, যা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করতে পারে।
এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় শ্রমিক নেতা, কারখানা মালিক এবং বিজিএমইএ ও বিকেএমইএসহ সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ পোশাক কারখানাগুলোও চিহ্নিত করা হয়েছে।
উগ্রবাদ দমনে নজরদারি অব্যাহত
আইজিপি আরও জানান, উগ্রবাদী গোষ্ঠীর তৎপরতা প্রতিরোধে পুলিশের নজরদারি ও পর্যবেক্ষণ অব্যাহত থাকবে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গোয়েন্দা তৎপরতাও জোরদার করা হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















