ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে নারীদের জন্য বড় আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। নতুন বাজেটে ঘোষণা করা হয়েছে, রাজ্যের প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ সরাসরি ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হবে। সরকারের দাবি, এই কর্মসূচির লক্ষ্য নারীদের আর্থিক নিরাপত্তা বাড়ানো এবং তাদের সামাজিক মর্যাদা শক্তিশালী করা।
নারীদের জন্য মাসিক ভাতা কর্মসূচি
পাঞ্জাবের অর্থমন্ত্রী হরপাল সিং চিমা রাজ্যের নতুন বাজেট উপস্থাপন করতে গিয়ে জানান, “মুখ্যমন্ত্রী মাওয়ান ধিয়ান সতিকার যোজনা” নামে একটি নতুন কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক নারী প্রতি মাসে এক হাজার রুপি পাবেন।
তিনি আরও বলেন, তফসিলি জাতিভুক্ত নারীদের জন্য এই ভাতা আরও বেশি নির্ধারণ করা হয়েছে। তাদের ক্ষেত্রে প্রতি মাসে এক হাজার পাঁচশ রুপি সরাসরি ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়া হবে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, পাঞ্জাবের ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রায় সব নারী এই কর্মসূচিতে নাম নিবন্ধন করতে পারবেন। তবে কিছু শ্রেণির মানুষ এর বাইরে থাকবেন। যেমন বর্তমান বা সাবেক স্থায়ী সরকারি কর্মচারী, সংসদ সদস্য, বিধায়ক এবং আয়কর প্রদানকারী নারীরা এই সুবিধার আওতায় থাকবেন না।
নির্বাচনের আগে বড় বাজেট বরাদ্দ
এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মোট ৯ হাজার ৩০০ কোটি রুপি বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সরকার বলছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্বচ্ছভাবে কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য এই অর্থ ব্যয় করা হবে।
এদিকে পাঞ্জাব সরকারের এবারের বাজেটের মোট আকার ধরা হয়েছে প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার ৪৩৭ কোটি রুপি। বাজেটে রাজ্যের রাজস্ব ঘাটতি এবং আর্থিক ঘাটতির হিসাবও তুলে ধরা হয়েছে। হিসাব অনুযায়ী, রাজ্যের রাজস্ব ঘাটতি মোট রাজ্য উৎপাদনের প্রায় ২ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ এবং আর্থিক ঘাটতি প্রায় ৪ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ হতে পারে।
ঋণের চাপ বাড়ার আশঙ্কা

বাজেটের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে পাঞ্জাবের মোট বকেয়া ঋণ দাঁড়াতে পারে প্রায় ৪ লাখ ৪২ হাজার ৬০৪ কোটি রুপিতে। আগের অর্থবছরে এই ঋণের পরিমাণ ছিল প্রায় ৪ লাখ ২ হাজার ৬৩৩ কোটি রুপি।
অর্থনীতিবিদদের মতে, রাজ্যের ঋণের পরিমাণ বাড়লেও সরকার সামাজিক সহায়তা কর্মসূচিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
বিরোধীদের সমালোচনা
বাজেট ঘোষণার পর বিরোধী দলগুলো তীব্র সমালোচনা করেছে। বিরোধী দলের নেতা প্রতাপ সিং বাজওয়া বলেন, নারীদের জন্য এই ভাতা অনেক আগেই চালু করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।
তার অভিযোগ, সরকার ২০২২ সালে প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবায়নে দেরি করেছে। তার মতে, এটি উন্নয়নমূলক নীতি নয়, বরং নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক কৌশল।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















