০৯:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
১.৭৫ ট্রিলিয়ন ডলারের লক্ষ্য: বিশ্বের বৃহত্তম শেয়ার বাজারে নামতে প্রস্তুত ইলন মাস্কের স্পেসএক্স ক্রিপ্টো দুনিয়ায় দ্রুত উত্থান ‘স্টেবলকয়েন’-এর, ডলার নির্ভর এই মুদ্রা ঘিরে বাড়ছে ঝুঁকি ও সম্ভাবনার বিতর্ক ইরানপন্থী সমাবেশের আশঙ্কা, লন্ডনে ফিলিস্তিনপন্থী মিছিল নিষিদ্ধ করলেন ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রোমানিয়ায় মার্কিন সেনা উপস্থিতি বাড়ানোর অনুমোদন হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ; তেল ছাড়তে প্রস্তুত জাপান ও জার্মানি সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের জামিন, মুক্তিতে বাধা নেই থাইল্যান্ডের জাহাজে হরমুজ প্রণালীতে অজ্ঞাত হামলা, নিখোঁজ তিন নাবিক ইরান যুদ্ধে বেসামরিক ও শিশু মৃত্যুর ঘটনায় শোক প্রকাশ পোপ লিওর তেলের বাজারে অস্থিরতা: ইরান যুদ্ধের প্রভাবে জরুরি মজুত থেকে তেল ছাড়ার সুপারিশ আইইএর ইরানে নতুন করে ‘ব্যাপক হামলা’ শুরু করেছে ইসরাইল, একই সঙ্গে বৈরুতেও আঘাত

গ্রামীণ কর্মসংস্থান আইনে জটিলতা: বাস্তবায়ন শুরু কবে—এখনও স্পষ্ট নয়

ভারতের নতুন গ্রামীণ কর্মসংস্থান আইন নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা কাটেনি। আইনটি সংসদে পাস হলেও বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় বিধিমালা ও নীতিগত কাঠামো এখনো পুরোপুরি চূড়ান্ত হয়নি। ফলে এই কর্মসূচি ঠিক কবে থেকে মাঠপর্যায়ে চালু হবে, তা নিয়ে সরকার ও রাজ্যগুলোর মধ্যে আলোচনা চললেও স্পষ্ট সময়সীমা সামনে আসেনি।

সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, আইন কার্যকর করতে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। এসব বিষয়ে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মধ্যে নিয়মিত আলোচনা চলছে। তবে সব বিষয় চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত নতুন কর্মসংস্থান কর্মসূচি বাস্তবে শুরু করা সম্ভব নয়।

MGNREGA' বাতিল করে নতুন আইন? গ্রামীণ কর্মসংস্থান ব্যবস্থায় যুগান্তকারী  বদলের প্রস্তাব | Hindustan Times Bangla

নতুন আইনের লক্ষ্য কী

গ্রামীণ মানুষের কর্মসংস্থান ও জীবিকার নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্য নিয়ে দুই হাজার পঁচিশ সালে নতুন একটি আইন পাস করা হয়। “বিকশিত ভারত—রোজগার ও জীবিকা নিশ্চয়তা মিশন (গ্রামীণ)” নামে এই আইন সংসদে উত্থাপনের মাত্র দুই দিনের মধ্যেই অনুমোদন পায়।

এই আইন কার্যকর হলে দীর্ঘদিন ধরে চালু থাকা মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা আইন দুই হাজার পাঁচ ধীরে ধীরে এর জায়গা নেবে। বহু বছর ধরে এই কর্মসূচি গ্রামীণ দরিদ্র মানুষের জন্য কাজের সুযোগ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। নতুন আইনের মাধ্যমে সেই কর্মসূচিকে আরও বিস্তৃত ও আধুনিক কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসার পরিকল্পনা করছে সরকার।

মহাত্মা গান্ধীর জন্ম | SUN NEWS BANGLADESH

তহবিল বণ্টন নিয়ে বিতর্ক

নতুন আইনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং জটিল একটি বিষয় হলো রাজ্যভিত্তিক তহবিল বণ্টনের সূত্র নির্ধারণ। প্রতি অর্থবছরে কেন্দ্রীয় সরকার একটি নির্দিষ্ট মানদণ্ডের ভিত্তিতে বিভিন্ন রাজ্যের জন্য অর্থ বরাদ্দ নির্ধারণ করবে।

কিন্তু সেই মানদণ্ড বা সূচক এখনো চূড়ান্ত হয়নি। কয়েকটি অপেক্ষাকৃত দুর্বল অর্থনীতির রাজ্য দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, তারা প্রয়োজনের তুলনায় কম অর্থ পায়। নতুন আইনের মাধ্যমে এই বৈষম্য কমানোর কথা বলা হয়েছে।

অন্যদিকে কিছু রাজ্যের দাবি, আগের কর্মসূচিতে তাদের ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে বেশি বরাদ্দ দেওয়া উচিত। আবার অনেক রাজ্য বলছে, যেখানে গ্রামীণ শ্রমিকদের কাজের অভাব বেশি এবং মানুষকে অন্যত্র যেতে হয়, সেসব অঞ্চলে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন।

গ্রাম পঞ্চায়েতের নতুন শ্রেণিবিন্যাস

নতুন আইনে দেশের সব গ্রাম পঞ্চায়েতকে উন্নয়ন সূচকের ভিত্তিতে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই শ্রেণিগুলো হবে এ, বি ও সি।

তবে কোন সূচকের ভিত্তিতে এই শ্রেণিবিন্যাস করা হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। আইনে উদাহরণ হিসেবে শহরের কাছাকাছি অবস্থানকে একটি সম্ভাব্য সূচক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার বর্তমানে রাজ্যগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে এসব সূচক নির্ধারণের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে।

Transforming Rural India : From MGNREGA to VB-G RAM G Bill 2025 The  landscape of rural employment in India is evolving! The proposed VB-G RAM G  Bill 2025 aims to modernize the

বাস্তবায়নের আগে প্রয়োজন প্রস্তুতি

সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন কর্মসূচি চালুর আগে রাজ্য সরকারগুলোর কিছু মৌলিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে হবে। প্রথমত, পুরোনো কর্মসূচির অধীনে চলমান কাজগুলো শেষ করতে হবে।

এর পাশাপাশি সব রাজ্যকে একটি সমন্বিত ব্যাংকিং ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হতে হবে, যাতে সরাসরি অর্থ স্থানান্তরের ব্যবস্থা চালু করা যায়। এই ব্যবস্থায় প্রথমবারের মতো কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার যৌথভাবে অর্থের দায়ভার বহন করবে।

এছাড়া কর্মসংস্থান কার্ডধারীদের পরিচয় যাচাই সম্পন্ন করা, গ্রাম উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রস্তুত করা এবং একটি বিশেষ পরিকল্পনা পোর্টালের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার কাজও শেষ করতে হবে।

শুরু হতে দেরির আশঙ্কা

সরকারি সূত্রের ইঙ্গিত অনুযায়ী, চলতি বছরের এক এপ্রিলের মধ্যে নতুন আইন কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। কারণ এখনও বেশ কয়েকটি নীতিগত বিষয় চূড়ান্ত হয়নি।

আইনটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর ঘোষণা হওয়ার পর রাজ্য সরকারগুলোকে পুরো কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য প্রায় ছয় মাস সময় দেওয়া হবে। ফলে বাস্তবে প্রকল্পটি মাঠপর্যায়ে চালু হতে আরও কিছু সময় লাগতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

১.৭৫ ট্রিলিয়ন ডলারের লক্ষ্য: বিশ্বের বৃহত্তম শেয়ার বাজারে নামতে প্রস্তুত ইলন মাস্কের স্পেসএক্স

গ্রামীণ কর্মসংস্থান আইনে জটিলতা: বাস্তবায়ন শুরু কবে—এখনও স্পষ্ট নয়

০৫:৫৭:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬

ভারতের নতুন গ্রামীণ কর্মসংস্থান আইন নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা কাটেনি। আইনটি সংসদে পাস হলেও বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় বিধিমালা ও নীতিগত কাঠামো এখনো পুরোপুরি চূড়ান্ত হয়নি। ফলে এই কর্মসূচি ঠিক কবে থেকে মাঠপর্যায়ে চালু হবে, তা নিয়ে সরকার ও রাজ্যগুলোর মধ্যে আলোচনা চললেও স্পষ্ট সময়সীমা সামনে আসেনি।

সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, আইন কার্যকর করতে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। এসব বিষয়ে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মধ্যে নিয়মিত আলোচনা চলছে। তবে সব বিষয় চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত নতুন কর্মসংস্থান কর্মসূচি বাস্তবে শুরু করা সম্ভব নয়।

MGNREGA' বাতিল করে নতুন আইন? গ্রামীণ কর্মসংস্থান ব্যবস্থায় যুগান্তকারী  বদলের প্রস্তাব | Hindustan Times Bangla

নতুন আইনের লক্ষ্য কী

গ্রামীণ মানুষের কর্মসংস্থান ও জীবিকার নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্য নিয়ে দুই হাজার পঁচিশ সালে নতুন একটি আইন পাস করা হয়। “বিকশিত ভারত—রোজগার ও জীবিকা নিশ্চয়তা মিশন (গ্রামীণ)” নামে এই আইন সংসদে উত্থাপনের মাত্র দুই দিনের মধ্যেই অনুমোদন পায়।

এই আইন কার্যকর হলে দীর্ঘদিন ধরে চালু থাকা মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা আইন দুই হাজার পাঁচ ধীরে ধীরে এর জায়গা নেবে। বহু বছর ধরে এই কর্মসূচি গ্রামীণ দরিদ্র মানুষের জন্য কাজের সুযোগ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। নতুন আইনের মাধ্যমে সেই কর্মসূচিকে আরও বিস্তৃত ও আধুনিক কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসার পরিকল্পনা করছে সরকার।

মহাত্মা গান্ধীর জন্ম | SUN NEWS BANGLADESH

তহবিল বণ্টন নিয়ে বিতর্ক

নতুন আইনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং জটিল একটি বিষয় হলো রাজ্যভিত্তিক তহবিল বণ্টনের সূত্র নির্ধারণ। প্রতি অর্থবছরে কেন্দ্রীয় সরকার একটি নির্দিষ্ট মানদণ্ডের ভিত্তিতে বিভিন্ন রাজ্যের জন্য অর্থ বরাদ্দ নির্ধারণ করবে।

কিন্তু সেই মানদণ্ড বা সূচক এখনো চূড়ান্ত হয়নি। কয়েকটি অপেক্ষাকৃত দুর্বল অর্থনীতির রাজ্য দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, তারা প্রয়োজনের তুলনায় কম অর্থ পায়। নতুন আইনের মাধ্যমে এই বৈষম্য কমানোর কথা বলা হয়েছে।

অন্যদিকে কিছু রাজ্যের দাবি, আগের কর্মসূচিতে তাদের ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে বেশি বরাদ্দ দেওয়া উচিত। আবার অনেক রাজ্য বলছে, যেখানে গ্রামীণ শ্রমিকদের কাজের অভাব বেশি এবং মানুষকে অন্যত্র যেতে হয়, সেসব অঞ্চলে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন।

গ্রাম পঞ্চায়েতের নতুন শ্রেণিবিন্যাস

নতুন আইনে দেশের সব গ্রাম পঞ্চায়েতকে উন্নয়ন সূচকের ভিত্তিতে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই শ্রেণিগুলো হবে এ, বি ও সি।

তবে কোন সূচকের ভিত্তিতে এই শ্রেণিবিন্যাস করা হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। আইনে উদাহরণ হিসেবে শহরের কাছাকাছি অবস্থানকে একটি সম্ভাব্য সূচক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার বর্তমানে রাজ্যগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে এসব সূচক নির্ধারণের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে।

Transforming Rural India : From MGNREGA to VB-G RAM G Bill 2025 The  landscape of rural employment in India is evolving! The proposed VB-G RAM G  Bill 2025 aims to modernize the

বাস্তবায়নের আগে প্রয়োজন প্রস্তুতি

সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন কর্মসূচি চালুর আগে রাজ্য সরকারগুলোর কিছু মৌলিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে হবে। প্রথমত, পুরোনো কর্মসূচির অধীনে চলমান কাজগুলো শেষ করতে হবে।

এর পাশাপাশি সব রাজ্যকে একটি সমন্বিত ব্যাংকিং ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হতে হবে, যাতে সরাসরি অর্থ স্থানান্তরের ব্যবস্থা চালু করা যায়। এই ব্যবস্থায় প্রথমবারের মতো কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার যৌথভাবে অর্থের দায়ভার বহন করবে।

এছাড়া কর্মসংস্থান কার্ডধারীদের পরিচয় যাচাই সম্পন্ন করা, গ্রাম উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রস্তুত করা এবং একটি বিশেষ পরিকল্পনা পোর্টালের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার কাজও শেষ করতে হবে।

শুরু হতে দেরির আশঙ্কা

সরকারি সূত্রের ইঙ্গিত অনুযায়ী, চলতি বছরের এক এপ্রিলের মধ্যে নতুন আইন কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। কারণ এখনও বেশ কয়েকটি নীতিগত বিষয় চূড়ান্ত হয়নি।

আইনটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর ঘোষণা হওয়ার পর রাজ্য সরকারগুলোকে পুরো কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য প্রায় ছয় মাস সময় দেওয়া হবে। ফলে বাস্তবে প্রকল্পটি মাঠপর্যায়ে চালু হতে আরও কিছু সময় লাগতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।