বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় ধরনের সুবিধা ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নির্দেশনায় একবারে সর্বোচ্চ ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত শেয়ার বিক্রির অর্থ দেশে ফেরত নিতে পারবেন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা। আগে এই সীমা ছিল মাত্র ১০ কোটি টাকা। বিনিয়োগ পরিবেশ আরও সহজ ও আস্থাশীল করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিনিয়োগবান্ধব নতুন নীতি
বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে শেয়ার হস্তান্তর ও বিক্রির অর্থ দেশে ফেরত নেওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বিশেষ করে তালিকাভুক্ত নয় এমন পাবলিক ও প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির শেয়ার বিক্রি এবং সেই অর্থ বিদেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম চালু করা হয়েছে।
এ জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি সমন্বিত মাস্টার সার্কুলার জারি করেছে। ‘ইআইডি সার্কুলার নম্বর–০১’ নামে প্রকাশিত এই নির্দেশনায় ২০১৮ ও ২০২০ সালের বিভিন্ন বিধিমালা একত্র করে হালনাগাদ করা হয়েছে। এর ফলে অনাবাসী বিনিয়োগকারীদের জন্য বিনিয়োগ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ, পূর্বানুমানযোগ্য এবং দ্রুত হবে।
বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার মণ্ডল সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।

অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকের বাড়তি ক্ষমতা
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলোকে (এডি ব্যাংক) অনেক বেশি ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত মূল্যায়ন পদ্ধতি অনুসরণ করে তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমতি ছাড়াই নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত শেয়ার হস্তান্তর ও বিক্রির অর্থ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবে।
লেনদেনের নতুন সীমা
নতুন নীতিমালায় এডি ব্যাংকগুলো সর্বোচ্চ ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত শেয়ার হস্তান্তর এবং বিক্রির অর্থ দেশে ফেরত নেওয়ার লেনদেন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবে। আগে এই সীমা ছিল মাত্র ১০ কোটি টাকা। ফলে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বিনিয়োগ প্রত্যাহার করা এখন অনেক সহজ হবে।
যৌথ ঘোষণায় ছোট লেনদেনের সুযোগ
এক কোটি টাকা পর্যন্ত শেয়ার হস্তান্তরের ক্ষেত্রে ক্রেতা ও বিক্রেতার যৌথ ঘোষণার ভিত্তিতেই লেনদেন সম্পন্ন করা যাবে। এ ক্ষেত্রে স্বাধীন মূল্যায়নের প্রয়োজন হবে না, যা প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত ও সহজ করবে।
নির্ধারিত সময়সীমা

সব প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পন্ন হওয়ার পর শেয়ার হস্তান্তরের কাজ ৪৫ দিনের মধ্যে শেষ করতে হবে। আর শেয়ার বিক্রির অর্থ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে।
ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ তদারকি ব্যবস্থা
নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি এডি ব্যাংককে সিনিয়র ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে একটি অভ্যন্তরীণ কমিটি গঠন করতে হবে। এই কমিটি শেয়ার মূল্যায়ন এবং অর্থ প্রত্যাবাসন সংক্রান্ত আবেদনগুলো পর্যালোচনা করবে।
সংস্কার প্রক্রিয়ার পটভূমি
গত বছরের ১৯ নভেম্বর বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী সদস্য নাহিয়ান রহমান রোচির নেতৃত্বে গঠিত উচ্চপর্যায়ের ‘ক্যাপিটাল রিপ্যাট্রিয়েশন কমিটি’ এই সংস্কার প্যাকেজ চূড়ান্ত করে। এ কাজে বাংলাদেশ ব্যাংকও সহায়তা করেছে।

বিদেশি বিনিয়োগে ইতিবাচক বার্তা
বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বলেন, বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগের জন্য একটি সুস্থ পরিবেশ তখনই তৈরি হয়, যখন বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগের প্রতিটি ধাপে আস্থাশীল থাকেন—বিনিয়োগ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময়ও।
তিনি বলেন, অনুমোদনের জটিলতা কমানো, শেয়ার বিক্রির অর্থ সহজে দেশে পাঠানোর সুযোগ দেওয়া এবং মূল্যায়ন ও নথিপত্রের প্রক্রিয়া সরল করার মাধ্যমে বাংলাদেশ সেই লক্ষ্যেই এগোচ্ছে।
তার মতে, এসব উদ্যোগ বিদেশি বিনিয়োগের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য ও স্থিতিশীল পরিবেশ গড়ে তোলার ভিত্তি তৈরি করবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















