০৭:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
ইরানপন্থী সমাবেশের আশঙ্কা, লন্ডনে ফিলিস্তিনপন্থী মিছিল নিষিদ্ধ করলেন ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রোমানিয়ায় মার্কিন সেনা উপস্থিতি বাড়ানোর অনুমোদন হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ; তেল ছাড়তে প্রস্তুত জাপান ও জার্মানি সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের জামিন, মুক্তিতে বাধা নেই থাইল্যান্ডের জাহাজে হরমুজ প্রণালীতে অজ্ঞাত হামলা, নিখোঁজ তিন নাবিক ইরান যুদ্ধে বেসামরিক ও শিশু মৃত্যুর ঘটনায় শোক প্রকাশ পোপ লিওর তেলের বাজারে অস্থিরতা: ইরান যুদ্ধের প্রভাবে জরুরি মজুত থেকে তেল ছাড়ার সুপারিশ আইইএর ইরানে নতুন করে ‘ব্যাপক হামলা’ শুরু করেছে ইসরাইল, একই সঙ্গে বৈরুতেও আঘাত ইরান যুদ্ধ: যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ১৭টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত প্রয়োজন হলে সৌদি আরবের পাশে থাকবে পাকিস্তান

ইরান যুদ্ধের প্রভাব: বাড়তে পারে জ্বালানি, খাবার ও ভ্রমণ খরচ—চাপে পড়তে পারে মার্কিন অর্থনীতি

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলার দুই সপ্তাহও পেরোয়নি। কিন্তু হাজার মাইল দূরে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষ ইতোমধ্যেই এর অর্থনৈতিক প্রভাব অনুভব করতে শুরু করেছেন। পেট্রোলের দাম বাড়ছে, খাদ্যদ্রব্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে এবং শেয়ারবাজারের অস্থিরতা অবসর সঞ্চয়ের ওপরও চাপ সৃষ্টি করছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমে বলেছিলেন যুদ্ধ চার থেকে পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে শেষ হতে পারে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তিনি ভিন্ন ভিন্ন ইঙ্গিত দিয়েছেন, যা থেকে ধারণা করা হচ্ছে সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে এর অর্থনৈতিক প্রভাব ধীরে ধীরে আরও তীব্র হয়ে উঠবে। এতে ভোক্তারা খরচ কমিয়ে দিতে পারেন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নতুন কর্মী নিয়োগ বন্ধ করতে পারে কিংবা ছাঁটাই শুরু করতে পারে। ফলে সামগ্রিক অর্থনীতিও চাপে পড়তে পারে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প: এক নজরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী - BBC News  বাংলা

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এক গ্যালন পেট্রোলের গড় দাম সোমবার দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৪৮ ডলার। যুক্তরাষ্ট্রের মোটর ক্লাব এএএ–এর তথ্য অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে প্রথম যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল হামলার পর থেকে এটি প্রায় ১৭ শতাংশ বেড়েছে। ২০২৪ সালের পর এটিই সর্বোচ্চ দাম।

ডিজেলের দাম আরও দ্রুত বেড়েছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এটি ২৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি গ্যালন প্রায় ৪ দশমিক ৬৬ ডলারে পৌঁছেছে। মুডিজ অ্যানালিটিক্সের প্রধান অর্থনীতিবিদ মার্ক জান্ডি বলেন, ডিজেলের দাম বাড়লে ট্রাকে পরিবহন করা সব পণ্যের খরচ বেড়ে যায়। এর মধ্যে অনলাইন কেনাকাটার প্যাকেজ থেকে শুরু করে খাদ্যপণ্যও রয়েছে।

এই পরিস্থিতির মূল কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি। সোমবার এক সময় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রায় ১২০ ডলার প্রতি ব্যারেলে পৌঁছায়। পরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সংঘাত দ্রুত শেষ হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিলে দাম কমে ৯০ ডলারের নিচে নেমে আসে। তবে যদি তেলের দাম প্রতি ব্যারেল প্রায় ৯৫ ডলারে স্থিত হয়, তাহলে আগামী সপ্তাহের মধ্যেই পেট্রোলের দাম প্রতি গ্যালন ৩ দশমিক ৭৫ থেকে ৪ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে বলে জান্ডি মনে করেন।

তিনি বলেন, যুদ্ধের প্রভাব ইতোমধ্যেই গুরুতর অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করেছে।

এনার্জি বাজারে এই অস্থিরতার বড় কারণ হরমুজ প্রণালী। ইরানের দক্ষিণ উপকূলের এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবহন হয়। যুদ্ধের কারণে এখানে জাহাজ চলাচল কমে গেছে।

এ ছাড়া অঞ্চলটির কয়েকটি তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে বা বন্ধ করেছে। এর ফলে পেট্রোল, ডিজেল ও জেট ফুয়েলের মতো জ্বালানি উৎপাদন কমে গেছে।

তবে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, তেলের দাম বাড়া সাময়িক বিষয় এবং বিশ্ব নিরাপত্তা ও শান্তির জন্য এটি “খুবই সামান্য মূল্য”।

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ল যে কারণে

খাদ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা

জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে খাদ্যের দামও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের খাদ্য শিল্প ব্যবস্থাপনা কর্মসূচির পরিচালক মিগুয়েল গোমেজ। তিনি বলেন, ঠিক কতটা বাড়বে তা বলা কঠিন, তবে প্রভাব পড়বে নিশ্চিত।

যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি হওয়া অনেক ফল ও সবজি বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। জ্বালানি ও পরিবহন খরচ বাড়লে এসব পণ্যের দামও বাড়বে।

এ ছাড়া হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে সমস্যা আরও বড় হতে পারে। কারণ পারস্য উপসাগর বিশ্বে সার সরবরাহের একটি বড় উৎস। যদি সার পরিবহন ব্যাহত হয়, তাহলে কৃষকেরা কম সার ব্যবহার করতে বাধ্য হবেন। ফলে খাদ্য উৎপাদন কমে যাবে এবং বিশ্বজুড়ে খাদ্যের দাম বাড়তে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রে বসন্তকালীন চাষাবাদ শুরু হওয়ার সময়েই এই সংকট দেখা দিয়েছে। আমেরিকান ফার্ম ব্যুরো ফেডারেশনের সভাপতি জিপি ডুভাল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে লেখা এক চিঠিতে সতর্ক করে বলেছেন, কৃষকেরা সার সরবরাহে বিঘ্ন ও বাড়তি দামের আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন।

তিনি বলেন, সার সরবরাহ নিশ্চিত না হলে যুক্তরাষ্ট্রে ফসল উৎপাদনে ঘাটতি দেখা দিতে পারে। এতে খাদ্য নিরাপত্তা ও জাতীয় নিরাপত্তা দুটোই ঝুঁকিতে পড়বে এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়তে পারে।

 

বিমান ভ্রমণের খরচ বাড়তে পারে

জেট ফুয়েলের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিমান ভ্রমণও আরও ব্যয়বহুল হতে পারে। ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের প্রধান নির্বাহী স্কট কিরবি বলেছেন, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে জেট ফুয়েলের দাম প্রায় ৫৮ শতাংশ বেড়েছে। এটি এয়ারলাইন্সগুলোর অন্যতম বড় পরিচালন ব্যয়।

সান ফ্রান্সিসকোভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান অ্যাটমসফিয়ার রিসার্চ গ্রুপের বিশ্লেষক হেনরি হার্টেভেল্ডট বলেন, এখন বিমান টিকিট বুক করা আগের তুলনায় অনেক বেশি ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে এবং সস্তা ভাড়া পাওয়া কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

যদি যুদ্ধের কারণে টিকিটের দাম আরও বাড়তে থাকে, তাহলে অনেক আমেরিকান গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে বিমান ভ্রমণ এড়িয়ে যেতে পারেন। তবে এয়ারলাইন্সগুলোও জানে, ভাড়া খুব বেশি বাড়ালে যাত্রী কমে যাবে। তাই তারা ভাড়া বাড়ানো ও চাহিদা ধরে রাখার মধ্যে ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করছে।

বিদেশ ভ্রমণের খরচ বাড়ছে, ৩৩%-৬৭% কর আরোপ | The Business Standard

অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা

জ্বালানি খরচ বেড়ে যাওয়ার ফলে আর্থিক বাজারেও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এসঅ্যান্ডপি ৫০০সহ প্রধান শেয়ার সূচকগুলোতে পতন হয়েছে।

মার্ক জান্ডির মতে, যুদ্ধ যদি দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকে, তাহলে অর্থনীতির ক্ষতি আরও গুরুতর হতে পারে। চাহিদা কমে গেলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নতুন কর্মী নিয়োগ কমিয়ে দিতে পারে। আর যদি ছাঁটাই শুরু হয়, তাহলে মন্দার ঝুঁকি বেড়ে যাবে।

ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির অর্থনীতিবিদ ড্যারন আসেমোগলুও একই ধরনের সতর্কতা দিয়েছেন। তার মতে, তেলের দাম বৃদ্ধি ও বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা মার্কিন অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

তিনি বলেন, ইরান পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পরিষ্কার কৌশল এখনো দেখা যাচ্ছে না। তাই এর অর্থনৈতিক প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানপন্থী সমাবেশের আশঙ্কা, লন্ডনে ফিলিস্তিনপন্থী মিছিল নিষিদ্ধ করলেন ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ইরান যুদ্ধের প্রভাব: বাড়তে পারে জ্বালানি, খাবার ও ভ্রমণ খরচ—চাপে পড়তে পারে মার্কিন অর্থনীতি

১১:৩৩:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলার দুই সপ্তাহও পেরোয়নি। কিন্তু হাজার মাইল দূরে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষ ইতোমধ্যেই এর অর্থনৈতিক প্রভাব অনুভব করতে শুরু করেছেন। পেট্রোলের দাম বাড়ছে, খাদ্যদ্রব্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে এবং শেয়ারবাজারের অস্থিরতা অবসর সঞ্চয়ের ওপরও চাপ সৃষ্টি করছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমে বলেছিলেন যুদ্ধ চার থেকে পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে শেষ হতে পারে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তিনি ভিন্ন ভিন্ন ইঙ্গিত দিয়েছেন, যা থেকে ধারণা করা হচ্ছে সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে এর অর্থনৈতিক প্রভাব ধীরে ধীরে আরও তীব্র হয়ে উঠবে। এতে ভোক্তারা খরচ কমিয়ে দিতে পারেন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নতুন কর্মী নিয়োগ বন্ধ করতে পারে কিংবা ছাঁটাই শুরু করতে পারে। ফলে সামগ্রিক অর্থনীতিও চাপে পড়তে পারে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প: এক নজরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী - BBC News  বাংলা

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এক গ্যালন পেট্রোলের গড় দাম সোমবার দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৪৮ ডলার। যুক্তরাষ্ট্রের মোটর ক্লাব এএএ–এর তথ্য অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে প্রথম যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল হামলার পর থেকে এটি প্রায় ১৭ শতাংশ বেড়েছে। ২০২৪ সালের পর এটিই সর্বোচ্চ দাম।

ডিজেলের দাম আরও দ্রুত বেড়েছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এটি ২৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি গ্যালন প্রায় ৪ দশমিক ৬৬ ডলারে পৌঁছেছে। মুডিজ অ্যানালিটিক্সের প্রধান অর্থনীতিবিদ মার্ক জান্ডি বলেন, ডিজেলের দাম বাড়লে ট্রাকে পরিবহন করা সব পণ্যের খরচ বেড়ে যায়। এর মধ্যে অনলাইন কেনাকাটার প্যাকেজ থেকে শুরু করে খাদ্যপণ্যও রয়েছে।

এই পরিস্থিতির মূল কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি। সোমবার এক সময় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রায় ১২০ ডলার প্রতি ব্যারেলে পৌঁছায়। পরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সংঘাত দ্রুত শেষ হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিলে দাম কমে ৯০ ডলারের নিচে নেমে আসে। তবে যদি তেলের দাম প্রতি ব্যারেল প্রায় ৯৫ ডলারে স্থিত হয়, তাহলে আগামী সপ্তাহের মধ্যেই পেট্রোলের দাম প্রতি গ্যালন ৩ দশমিক ৭৫ থেকে ৪ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে বলে জান্ডি মনে করেন।

তিনি বলেন, যুদ্ধের প্রভাব ইতোমধ্যেই গুরুতর অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করেছে।

এনার্জি বাজারে এই অস্থিরতার বড় কারণ হরমুজ প্রণালী। ইরানের দক্ষিণ উপকূলের এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবহন হয়। যুদ্ধের কারণে এখানে জাহাজ চলাচল কমে গেছে।

এ ছাড়া অঞ্চলটির কয়েকটি তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে বা বন্ধ করেছে। এর ফলে পেট্রোল, ডিজেল ও জেট ফুয়েলের মতো জ্বালানি উৎপাদন কমে গেছে।

তবে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, তেলের দাম বাড়া সাময়িক বিষয় এবং বিশ্ব নিরাপত্তা ও শান্তির জন্য এটি “খুবই সামান্য মূল্য”।

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ল যে কারণে

খাদ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা

জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে খাদ্যের দামও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের খাদ্য শিল্প ব্যবস্থাপনা কর্মসূচির পরিচালক মিগুয়েল গোমেজ। তিনি বলেন, ঠিক কতটা বাড়বে তা বলা কঠিন, তবে প্রভাব পড়বে নিশ্চিত।

যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি হওয়া অনেক ফল ও সবজি বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। জ্বালানি ও পরিবহন খরচ বাড়লে এসব পণ্যের দামও বাড়বে।

এ ছাড়া হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে সমস্যা আরও বড় হতে পারে। কারণ পারস্য উপসাগর বিশ্বে সার সরবরাহের একটি বড় উৎস। যদি সার পরিবহন ব্যাহত হয়, তাহলে কৃষকেরা কম সার ব্যবহার করতে বাধ্য হবেন। ফলে খাদ্য উৎপাদন কমে যাবে এবং বিশ্বজুড়ে খাদ্যের দাম বাড়তে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রে বসন্তকালীন চাষাবাদ শুরু হওয়ার সময়েই এই সংকট দেখা দিয়েছে। আমেরিকান ফার্ম ব্যুরো ফেডারেশনের সভাপতি জিপি ডুভাল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে লেখা এক চিঠিতে সতর্ক করে বলেছেন, কৃষকেরা সার সরবরাহে বিঘ্ন ও বাড়তি দামের আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন।

তিনি বলেন, সার সরবরাহ নিশ্চিত না হলে যুক্তরাষ্ট্রে ফসল উৎপাদনে ঘাটতি দেখা দিতে পারে। এতে খাদ্য নিরাপত্তা ও জাতীয় নিরাপত্তা দুটোই ঝুঁকিতে পড়বে এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়তে পারে।

 

বিমান ভ্রমণের খরচ বাড়তে পারে

জেট ফুয়েলের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিমান ভ্রমণও আরও ব্যয়বহুল হতে পারে। ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের প্রধান নির্বাহী স্কট কিরবি বলেছেন, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে জেট ফুয়েলের দাম প্রায় ৫৮ শতাংশ বেড়েছে। এটি এয়ারলাইন্সগুলোর অন্যতম বড় পরিচালন ব্যয়।

সান ফ্রান্সিসকোভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান অ্যাটমসফিয়ার রিসার্চ গ্রুপের বিশ্লেষক হেনরি হার্টেভেল্ডট বলেন, এখন বিমান টিকিট বুক করা আগের তুলনায় অনেক বেশি ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে এবং সস্তা ভাড়া পাওয়া কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

যদি যুদ্ধের কারণে টিকিটের দাম আরও বাড়তে থাকে, তাহলে অনেক আমেরিকান গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে বিমান ভ্রমণ এড়িয়ে যেতে পারেন। তবে এয়ারলাইন্সগুলোও জানে, ভাড়া খুব বেশি বাড়ালে যাত্রী কমে যাবে। তাই তারা ভাড়া বাড়ানো ও চাহিদা ধরে রাখার মধ্যে ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করছে।

বিদেশ ভ্রমণের খরচ বাড়ছে, ৩৩%-৬৭% কর আরোপ | The Business Standard

অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা

জ্বালানি খরচ বেড়ে যাওয়ার ফলে আর্থিক বাজারেও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এসঅ্যান্ডপি ৫০০সহ প্রধান শেয়ার সূচকগুলোতে পতন হয়েছে।

মার্ক জান্ডির মতে, যুদ্ধ যদি দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকে, তাহলে অর্থনীতির ক্ষতি আরও গুরুতর হতে পারে। চাহিদা কমে গেলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নতুন কর্মী নিয়োগ কমিয়ে দিতে পারে। আর যদি ছাঁটাই শুরু হয়, তাহলে মন্দার ঝুঁকি বেড়ে যাবে।

ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির অর্থনীতিবিদ ড্যারন আসেমোগলুও একই ধরনের সতর্কতা দিয়েছেন। তার মতে, তেলের দাম বৃদ্ধি ও বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা মার্কিন অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

তিনি বলেন, ইরান পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পরিষ্কার কৌশল এখনো দেখা যাচ্ছে না। তাই এর অর্থনৈতিক প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।