মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত বিশ্ববাজারে তেলের দাম হঠাৎ বাড়িয়ে দিয়েছে। এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ খাতে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে বৈশ্বিক ভ্রমণ খাতে বড় ধরনের মন্দা দেখা দিতে পারে এবং অনেক বিমানের উড্ডয়নও বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিশেষ করে বিমান সংস্থাগুলো বাড়তি জ্বালানি খরচের চাপ সামাল দিতে যাত্রীদের ওপর অতিরিক্ত ভাড়ার বোঝা চাপানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
বিমান ভাড়া বাড়ানোর ঘোষণা
মঙ্গলবার এয়ার নিউজিল্যান্ড জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে তারা ইতিমধ্যে টিকিটের দাম বাড়িয়েছে। পরিস্থিতি আরও জটিল হলে ভবিষ্যতে ভাড়ায় আরও পরিবর্তন আনা হতে পারে বলেও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
বিমান সংস্থাটি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তেলের দাম বাড়ার ফলে যে অতিরিক্ত খরচ তৈরি হয়েছে, তা সামাল দিতে ভাড়া বাড়ানো ছাড়া তাদের সামনে তেমন বিকল্প নেই।

বিশ্বজুড়ে বিমান সংস্থাগুলোর একই প্রস্তুতি
বিশ্লেষকদের মতে, এয়ার নিউজিল্যান্ডের এই সিদ্ধান্ত দেখিয়ে দিচ্ছে যে বিশ্বজুড়ে বিমান সংস্থাগুলোও একই পথে হাঁটতে পারে। তেলের দাম বাড়লে সাধারণত জ্বালানি খরচ বেড়ে যায়, যা বিমান পরিচালনার সবচেয়ে বড় ব্যয়গুলোর একটি। ফলে শেষ পর্যন্ত এই খরচের বড় অংশই যাত্রীদের ওপর পড়ে।
এশিয়া–ইউরোপ রুটে ভাড়া বৃদ্ধি
ইতিমধ্যেই এশিয়া থেকে ইউরোপগামী রুটে বিমান ভাড়া বেড়ে গেছে। এর মূল কারণ হলো আকাশপথের কিছু অংশ বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং ফ্লাইট পরিচালনার সক্ষমতা কমে যাওয়া।
যদিও এই রুটগুলোতে ভাড়া আগে থেকেই বাড়ছিল, তবে যুদ্ধ শুরুর পর বড় পরিসরে টিকিটের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া প্রথম বিমান সংস্থাগুলোর মধ্যে এয়ার নিউজিল্যান্ড অন্যতম।

সংঘাত বাড়লে ভ্রমণ খাতে বড় ধাক্কা
বিশ্বজুড়ে ভ্রমণ শিল্প এখন পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। যদি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে জ্বালানির দাম আরও বাড়তে পারে। এতে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ খাত বড় ধরনের ধাক্কার মুখে পড়তে পারে এবং অনেক রুটে ফ্লাইট কমিয়ে দেওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















