ভারতের আসামের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে বাংলাদেশে আজ মঙ্গলবার পাইপলাইনের মাধ্যমে ৫ হাজার টন ডিজেল পৌঁছানোর কথা রয়েছে। বাংলাদেশ পেট্রলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, দেশের জ্বালানি তেলের মজুদ স্বাভাবিক রাখা এবং সারা দেশে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতেই এই জরুরি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিপিসির বাণিজ্য ও অপারেশন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মুহাম্মদ মোরশেদ হোসাইন আজাদ গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ভারত থেকে ডিজেল পাঠানোর পাম্পিং কার্যক্রম ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।
পাইপলাইনে আমদানিতে সময় ও খরচ কমবে
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল আমদানির ফলে পরিবহন ব্যয় ও সময়—দুইই কমবে। এতে দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হচ্ছে।
অতিরিক্ত ৫০ হাজার টন আনার প্রস্তাব
এর আগে একই পাইপলাইন দিয়ে আগামী চার মাসে অতিরিক্ত ৫০ হাজার টন ডিজেল আনার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ। এ বিষয়ে রোববার ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার কাছে অনুরোধ জানান অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
চলতি বছরেই রয়েছে বড় আমদানিচুক্তি
চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত ভারতের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার টন ডিজেল আমদানির একটি চুক্তিও রয়েছে। তবে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের টানাপড়েনের কারণে সেই প্রক্রিয়া কিছু সময় বন্ধ ছিল।
এই চুক্তির আওতায় মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৪৬২ কোটি টাকা। এর একটি অংশ বহন করার কথা বিপিসির, আর বাকি অর্থ আসার কথা ব্যাংকঋণ থেকে।

সরবরাহ স্বাভাবিক রাখাই এখন প্রধান লক্ষ্য
জ্বালানি সরবরাহে কোনো বিঘ্ন না ঘটাতে সরকার এখন বিকল্প ও দ্রুততর ব্যবস্থার দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে ভারত থেকে পাইপলাইনে ৫ হাজার টন ডিজেল আসা তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এতে বাজারে চাপ কমার পাশাপাশি সরবরাহ পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















