চীন এ বছর দুটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন আইন প্রণয়ন করতে যাচ্ছে—একটি সমন্বিত আর্থিক আইন এবং আরেকটি আর্থিক স্থিতিশীলতা আইন। দেশের আর্থিক ঝুঁকি কমানো, ভবিষ্যতের ঝুঁকি প্রতিরোধ এবং বৈশ্বিক আর্থিক শক্তি হিসেবে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
সোমবার জাতীয় গণকংগ্রেসের স্থায়ী কমিটির কর্মপ্রতিবেদনে এই পরিকল্পনার কথা জানানো হয়। একই সঙ্গে বিদ্যমান কয়েকটি আইন সংশোধনের কথাও বলা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে পিপলস ব্যাংক অব চায়না আইন এবং ব্যাংকিং তদারকি ও ব্যবস্থাপনা আইন।
২০২৬ সালের জন্য বিস্তৃত আইন প্রণয়নের কর্মপরিকল্পনাও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।
নতুন আর্থিক আইনের লক্ষ্য
সাংহাই ইনস্টিটিউট অব ফাইন্যান্স অ্যান্ড ল-এর থিংক ট্যাঙ্কের প্রধান ফু ওয়েইগাং বলেন, নতুন আর্থিক আইনটি সম্ভবত একটি বিস্তৃত কাঠামো হবে, যা পুরো আর্থিক খাতকে একটি সমন্বিত আইনি কাঠামোর আওতায় আনবে এবং বেইজিংয়ের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক লক্ষ্যকে কার্যকর নিয়মে রূপ দেবে।

তার মতে, এই আইনে আর্থিক সংস্কার, বাস্তব অর্থনীতিকে সহায়তা, অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থায়ন, সবুজ অর্থায়ন, ইউয়ানের আন্তর্জাতিক ভূমিকা এবং দুর্নীতি দমন সম্পর্কিত ধারা থাকতে পারে।
তবে তিনি বলেন, বিভিন্ন পক্ষের মতামত জড়িত থাকায় এই আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া দীর্ঘ হতে পারে।
চীনের আর্থিক পরাশক্তি হওয়ার লক্ষ্য
২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় আর্থিক কর্মসম্মেলনে প্রথমবারের মতো চীনকে বৈশ্বিক আর্থিক পরাশক্তিতে পরিণত করার জাতীয় কৌশল ঘোষণা করা হয়। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হিসেবে নিজেদের অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
২০২৪ সালে দেওয়া এক ভাষণে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আর্থিক শক্তিধর রাষ্ট্র হওয়ার জন্য ছয়টি প্রধান লক্ষ্য নির্ধারণ করেন। এর মধ্যে রয়েছে শক্তিশালী কেন্দ্রীয় ব্যাংক, কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, সুসংহত আর্থিক প্রতিষ্ঠান, দক্ষ মানবসম্পদ, বিশ্বমানের আন্তর্জাতিক আর্থিক কেন্দ্র এবং ইউয়ানকে বৈশ্বিক রিজার্ভ মুদ্রা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।
অর্থনীতিতে শৃঙ্খলা ও নিয়ন্ত্রণ জোরদার

চীনা কর্তৃপক্ষ ব্যাংকারদের ওয়াল স্ট্রিটের মতো অতিরিক্ত বিলাসিতা ও লোভের সংস্কৃতি থেকে দূরে থাকার সতর্কবার্তা দিয়েছে। একই সঙ্গে বাস্তব অর্থনীতি ও প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতা অর্জনে অর্থ খাতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।
জানুয়ারিতে ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির প্রধান তাত্ত্বিক সাময়িকী ‘কিউশি’-তে চীনা বৈশিষ্ট্যের অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ওপর শি জিনপিংয়ের বক্তব্য প্রকাশ করা হয়। এটি ছিল বার্ষিক ‘টু সেশনস’ বৈঠকের আগে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত।
শি জিনপিং সেখানে বলেন, চীন ইতোমধ্যে একটি বড় আর্থিক শক্তি হলেও সামগ্রিকভাবে এখনও পুরোপুরি শক্তিশালী নয়। একটি প্রকৃত আর্থিক পরাশক্তি গড়ে তুলতে দীর্ঘমেয়াদি প্রচেষ্টা ও ধৈর্য প্রয়োজন।
চীনের আর্থিক খাতের বর্তমান অবস্থা
পিপলস ব্যাংক অব চায়নার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের তৃতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত চীনের আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৩১.৭ ট্রিলিয়ন ইউয়ান, যা আগের বছরের তুলনায় ৮.৭ শতাংশ বেশি।

আসছে আর্থিক স্থিতিশীলতা আইন
অন্যদিকে পরিকল্পিত আর্থিক স্থিতিশীলতা আইনটি আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা আরও শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ফু ওয়েইগাং বলেন, এই আইন প্রণয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সামগ্রিকভাবে চীনের আর্থিক খাতে বড় ধরনের পদ্ধতিগত ঝুঁকি না থাকলেও সরকার সতর্ক অবস্থান বজায় রাখতে চায়।
তিনি বলেন, নতুন আইনে স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিভিন্ন বিষয় বিস্তারিতভাবে অন্তর্ভুক্ত থাকবে এবং কোনো নিয়ম লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে শাস্তির ব্যবস্থাও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















