রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায় অভিযান চালিয়ে মানব কঙ্কাল চুরি চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৪৭টি মানুষের খুলি এবং বিপুল পরিমাণ হাড়গোড়। এসব খুলি ও হাড় প্লাস্টিকের শপিং ব্যাগে রাখা ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার মো. ইবনে মিজান ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।
রমজানকে ঘিরে বিশেষ অভিযান
পুলিশ জানায়, পবিত্র রমজান উপলক্ষে তেজগাঁও বিভাগের অধীন ছয়টি এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে। সেই অভিযানের অংশ হিসেবেই এই চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারদের পরিচয়
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন কাজী জহুরুল ইসলাম ওরফে সৌমিক, মো. আবুল কালাম, আসাদুল মুন্সী ওরফে জসিম ওরফে এরশাদ এবং মো. ফয়সাল আহমেদ।
প্রথমে আটক সৌমিক
পুলিশ জানায়, গত ৯ মার্চ রাত প্রায় ১টা ৪৫ মিনিটে মনিপুরীপাড়া এলাকার গেট নম্বর ১–এর সামনে থেকে কাজী জহুরুল ইসলাম ওরফে সৌমিককে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে একটি মানব কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়।
তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন সকাল ৭টা ১০ মিনিটের দিকে তেজগাঁও কলেজের সামনে অভিযান চালিয়ে মো. আবুল কালাম ও আসাদুল মুন্সীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় দুটি মানুষের খুলি।
হোস্টেলে অভিযান, উদ্ধার আরও ৪৪টি খুলি
পরে গ্রেপ্তারদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উত্তরা পশ্চিম থানার অধীন সাপ্পোরো ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতালের হোস্টেলে অভিযান চালানো হয়। সেখানে হোস্টেলের ৪০২ নম্বর কক্ষ থেকে ছড়িয়ে থাকা অবস্থায় আরও ৪৪টি মানুষের খুলি উদ্ধার করা হয় এবং মো. ফয়সাল আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়।
কবর খুঁড়ে কঙ্কাল চুরি
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পারে, চক্রটি ময়মনসিংহ, গাজীপুর, শেরপুর ও জামালপুরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার কবরস্থান থেকে কবর খুঁড়ে মানব কঙ্কাল চুরি করত। পরে রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় হাড় পরিষ্কার ও প্রস্তুত করে সেগুলো উচ্চমূল্যে বিক্রি করত।
কঙ্কালের দাম কয়েকগুণ বেশি
পুলিশ জানায়, মাঠপর্যায়ে একটি কঙ্কাল সংগ্রহ করতে তাদের খরচ হতো প্রায় ৫ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকা। পরে সেগুলো ১৫ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হতো। এসব কঙ্কালের ক্রেতাদের মধ্যে বেশিরভাগই শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে।
নিরাপত্তাহীন কবরস্থানই ছিল লক্ষ্য
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণত দাফনের প্রায় এক বছর পর তারা কবর খুঁড়ত। যেসব কবরস্থানে নিরাপত্তা কম, প্রহরী নেই, সিসিটিভি নেই এবং মানুষের যাতায়াত কম—এসব স্থানকেই তারা বেশি লক্ষ্যবস্তু বানাত।
আগেও রয়েছে একাধিক মামলা
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া মো. আবুল কালামের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় মোট ২১টি মামলা রয়েছে। অন্যদিকে আসাদুল মুন্সী ওরফে জসিম ওরফে এরশাদের বিরুদ্ধে রয়েছে দুটি মামলা।
এই ঘটনায় তেজগাঁও থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের মঙ্গলবার আদালতে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















