ইরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার পর বিশ্ব জ্বালানি বাজারে এখন চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় বৈশ্বিক তেল সরবরাহে যে বিঘ্ন ঘটেছে, তা ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জ্বালানি সংকট হিসেবে চিহ্নিত করছেন বিশ্লেষকরা। এই পরিস্থিতিতে গ্রুপ অব সেভেন বা জি-৭ভুক্ত দেশগুলো জরুরি কৌশলগত তেল মজুদ ছাড় করার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েছে, তবে সোমবার অনুষ্ঠিত অর্থমন্ত্রীদের বৈঠকে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
জি-৭-এর অর্থমন্ত্রীরা বলেছেন, বাজার স্থিতিশীল করতে তারা “প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত”। ফ্রান্সের অর্থমন্ত্রী রোলঁ লেস্কুর বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের জানান, মজুদ ছাড়ের বিষয়ে “এখনো সেই পর্যায়ে পৌঁছানো যায়নি।”
দাম কতটা বেড়েছে, কতটা কমেছে

সোমবার একপর্যায়ে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৯.৫০ ডলার এবং মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ১১৯.৪৮ ডলারে পৌঁছায়। ইউক্রেন যুদ্ধের পর এই প্রথম তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেল। পরে ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার কথা বলার পর দাম কিছুটা কমে।
রাপিডান এনার্জি গ্রুপের বিশ্লেষণ বলছে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ায় বিশ্বের মোট তেল ব্যবহারের প্রায় ২০ শতাংশ সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত, যারা সাধারণত বাড়তি উৎপাদনে পরিস্থিতি সামলায়, তারাও প্রণালির অবরোধে আটকা পড়েছে।
জরুরি মজুদ ছাড়লে কি কাজ হবে?
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরোল জি-৭ অর্থমন্ত্রীদের বৈঠকে জানান, পরিস্থিতি “বাজারের জন্য ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি” তৈরি করছে এবং জরুরি মজুদ ব্যবহারের বিষয়টি তিনি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জি-৭ সদস্যদের সম্মিলিত জরুরি মজুদ ১২০ কোটি ব্যারেলের বেশি। এর মধ্যে যদি ৩০ থেকে ৪০ কোটি ব্যারেলও ছাড়া হয়, তা দাম কিছুটা
কমাতে পারে, কিন্তু মূল সমস্যার সমাধান হবে না। বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান রিস্টাড এনার্জির ভাইস প্রেসিডেন্ট জানিভ শাহ বলেছেন, সংকট দুই মাস চললে ব্রেন্টের দাম ১১০ ডলার ছাড়িয়ে যাবে, আর চার মাস গেলে ১৩৫ ডলারে পৌঁছাতে পারে।
বাংলাদেশসহ এশিয়ায় প্রভাব
তেলের দাম বৃদ্ধির ধাক্কায় এশিয়ার দেশগুলো বিশেষভাবে সংকটে পড়েছে। বাংলাদেশ ইতিমধ্যে জ্বালানি রেশনিং শুরু করেছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বন্ধ করে দিয়েছে। বৈশ্বিক পর্যায়ে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো নতুন চাপে পড়েছে। সুদের হার কমানোর যে পরিকল্পনা ছিল, তা আপাতত আটকে যেতে পারে, কারণ জ্বালানির দাম বেড়ে গেলে মূল্যস্ফীতি আবার মাথা তোলে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















