০৮:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬
স্থিতিশীলতাই অগ্রাধিকার: কৌশলগত সতর্কতার ইঙ্গিত দিলেন চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভারতের অর্থনীতির নতুন হিসাব: আকার কিছুটা ছোট, কিন্তু প্রবৃদ্ধি আরও দ্রুত যুদ্ধের ছায়ায় দুবাই: নিরাপত্তার ভাবমূর্তি কি টিকিয়ে রাখতে পারবে মরু শহর? আবাসন খাত টিকিয়ে রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ৩ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল চাইল রিহ্যাব তুরস্কের আদানা কনস্যুলেট থেকে মার্কিন কূটনীতিকদের বাধ্যতামূলক প্রত্যাহার বাংলাদেশের নেতৃত্বে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে আশাবাদী বিমসটেক মহাসচিব এক ফোঁটা তেলও রপ্তানি করতে দেওয়া হবে না: কঠোর হুঁশিয়ারি ইরানের বাণিজ্যিক জাহাজ রক্ষায় নৌবাহিনী মোতায়েন করল পাকিস্তান ইসরায়েলি হামলার পর পাল্টা আক্রমণ জোরদার করেছে হিজবুল্লাহ নিজের খেয়াল রাখুন, না হলে সরিয়ে দেওয়া হতে পারেন — ট্রাম্পকে ইরানের নিরাপত্তা কর্মকর্তার হুশিয়ারি

চীনের রপ্তানি ২১.৮ শতাংশ বেড়েছে , চার বছরে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি

বছরের শুরুতেই চীনের রপ্তানি খাতে দেখা গেছে শক্তিশালী উত্থান। বৈশ্বিক বাজারে প্রযুক্তিপণ্যের চাহিদা বেড়ে যাওয়া এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি বিনিয়োগ বৃদ্ধির ফলে ২০২৬ সালের প্রথম দুই মাসে দেশটির রপ্তানি চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ হারে বেড়েছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এই প্রবণতা বছরের বাকি সময়েও শক্তিশালী থাকতে পারে।

প্রথম দুই মাসে রপ্তানিতে বড় উল্লম্ফন
চীনের শুল্ক কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মিলিয়ে দেশটির রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২১.৮ শতাংশ বেড়ে ৬৫৬.৫৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এটি গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি।

এর আগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে রপ্তানি বৃদ্ধি ছিল ৬.৬ শতাংশ এবং পুরো বছরে মোট বৃদ্ধি ছিল ৫.৫ শতাংশ। অর্থাৎ বছরের শুরুতেই রপ্তানি প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্যভাবে ত্বরান্বিত হয়েছে।

চীনা নববর্ষের প্রভাব ও বাস্তব চিত্র
চীনে সাধারণত বছরের প্রথম দুই মাসের বাণিজ্য তথ্য একত্রে প্রকাশ করা হয়। কারণ চীনা নববর্ষের ছুটির কারণে একক মাসের তথ্য অনেক সময় প্রকৃত প্রবণতা প্রতিফলিত করে না। গত বছর নববর্ষ জানুয়ারিতে পড়েছিল, আর এ বছর ফেব্রুয়ারিতে হওয়ায় এই পদ্ধতিতে তুলনামূলক স্থিতিশীল তথ্য পাওয়া যায়।

তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, শুধু উৎসবের প্রভাব দিয়ে এত শক্তিশালী রপ্তানি বৃদ্ধিকে ব্যাখ্যা করা যায় না।

প্রযুক্তিপণ্যের বৈশ্বিক চাহিদাই মূল চালিকা শক্তি
বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রবৃদ্ধির বড় কারণ হলো প্রযুক্তিপণ্যের শক্তিশালী আন্তর্জাতিক চাহিদা। অনেক দেশের অর্থনীতিতেই এখন প্রযুক্তি খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিকে ঘিরে যে বিনিয়োগ বাড়ছে, সেটিই মূলত রপ্তানি বৃদ্ধির গতি বাড়িয়েছে। তবে এই গতি কতদিন বজায় থাকবে, তা অনেকটাই নির্ভর করবে প্রযুক্তি খাতে এই বিনিয়োগ কতদিন অব্যাহত থাকে তার ওপর।

একই সঙ্গে শক্তিশালী বৈদেশিক চাহিদা থাকার ফলে অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়াতে সরকারকে দ্রুত বড় কোনো প্রণোদনা প্যাকেজ দিতে হবে—এমন চাপ আপাতত কমে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি কমলেও অন্য বাজারে উত্থান
তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম দুই মাসে যুক্তরাষ্ট্রে চীনের রপ্তানি আগের বছরের তুলনায় ১১ শতাংশ কমেছে। যদিও ডিসেম্বর মাসে এই পতন ছিল ৩০ শতাংশ এবং পুরো গত বছরে ছিল ২০ শতাংশ।

এই পতনের পরও যুক্তরাষ্ট্র ২০২৫ সালে চীনের সবচেয়ে বড় একক রপ্তানি বাজার ছিল।

অন্যদিকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ানের বাজারে চীনের রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বছরের প্রথম দুই মাসে সেখানে রপ্তানি বেড়েছে ২৯.৪ শতাংশ। ইউরোপীয় ইউনিয়নে রপ্তানি বেড়েছে ২৭.৮ শতাংশ।

ইউরোপের বড় অর্থনীতিগুলোর মধ্যেও উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। জার্মানিতে রপ্তানি বেড়েছে ৩১.৩ শতাংশ, ফ্রান্সে ৩১.৯ শতাংশ এবং ইতালিতে ৩৬.৪ শতাংশ।

আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকাতেও বিস্তার
লাতিন আমেরিকায় রপ্তানি বেড়েছে ১৬.৪ শতাংশ। আফ্রিকায় এই প্রবৃদ্ধি আরও বেশি, প্রায় ৫০ শতাংশ। এর মাধ্যমে বোঝা যাচ্ছে যে চীন ধীরে ধীরে নতুন বাজারে বাণিজ্য বিস্তার করছে।

তবে এই শক্তিশালী রপ্তানি প্রবৃদ্ধি অনেক দেশের কাছে বাণিজ্য ভারসাম্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়াতে পারে বলেও বিশ্লেষকদের মত।

তেলের আমদানি বাড়িয়ে জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার
বছরের শুরুতে চীন অপরিশোধিত তেলের আমদানিও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে বিশ্ব তেল সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে চীন মোট ৯৬.৯৩ মিলিয়ন টন অপরিশোধিত তেল আমদানি করেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৫.৮ শতাংশ বেশি।

এই সময়ে মোট আমদানি বেড়েছে ১৯.৮ শতাংশ এবং চীনের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত দাঁড়িয়েছে ২১৩.৬ বিলিয়ন ডলার।

বাণিজ্যে ‘ডি-আমেরিকানাইজেশন’ প্রবণতা
চীনের বাণিজ্য কাঠামোতে ধীরে ধীরে যুক্তরাষ্ট্র নির্ভরতা কমার একটি প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। বছরের প্রথম দুই মাসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে চীনের আমদানি ২৬.৭ শতাংশ কমেছে।

অন্যদিকে ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া ও অস্ট্রেলিয়া থেকে আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এই তিন দেশ থেকে চীন যথাক্রমে ৪৩.১ শতাংশ, ৩৫.৮ শতাংশ এবং ৩৩.৮ শতাংশ বেশি পণ্য কিনেছে।

রপ্তানিতে প্রযুক্তি খাতের দ্রুত উত্থান
রপ্তানি পণ্যের তালিকায় প্রযুক্তি খাতের প্রবৃদ্ধি সবচেয়ে বেশি। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে সেমিকন্ডাক্টর রপ্তানির মূল্য ৭২.৬ শতাংশ বেড়ে ৪৩.৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

মোট উচ্চপ্রযুক্তি পণ্যের রপ্তানিও বছরে ২৬.৯ শতাংশ বেড়েছে।

এছাড়া গাড়ি ও জাহাজ রপ্তানিতেও শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। এই দুই খাতে রপ্তানি মূল্য যথাক্রমে ৬৭.১ শতাংশ এবং ৫২.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

রপ্তানির কাঠামোতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত
বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে চীনের রপ্তানি আরও বেশি প্রযুক্তি নির্ভর হবে। সেমিকন্ডাক্টর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সরবরাহ শৃঙ্খল, বিদ্যুৎ সরঞ্জাম ও গাড়ির মতো খাত রপ্তানির প্রধান চালিকা শক্তি হয়ে উঠছে।

একই সময়ে সৌর প্যানেল ও ইস্পাত উৎপাদন নিয়ন্ত্রণে আনার নীতিমালা এবং পোশাক ও জুতার মতো শ্রমনির্ভর শিল্পের ধীর পতন চীনের রপ্তানি কাঠামোকে ধীরে ধীরে পরিবর্তন করছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিবর্তন ভবিষ্যতে চীনের অর্থনীতিকে আরও প্রযুক্তিনির্ভর ও উচ্চমূল্য সংযোজন খাতের দিকে নিয়ে যাবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্থিতিশীলতাই অগ্রাধিকার: কৌশলগত সতর্কতার ইঙ্গিত দিলেন চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী

চীনের রপ্তানি ২১.৮ শতাংশ বেড়েছে , চার বছরে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি

০৬:৪০:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

বছরের শুরুতেই চীনের রপ্তানি খাতে দেখা গেছে শক্তিশালী উত্থান। বৈশ্বিক বাজারে প্রযুক্তিপণ্যের চাহিদা বেড়ে যাওয়া এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি বিনিয়োগ বৃদ্ধির ফলে ২০২৬ সালের প্রথম দুই মাসে দেশটির রপ্তানি চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ হারে বেড়েছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এই প্রবণতা বছরের বাকি সময়েও শক্তিশালী থাকতে পারে।

প্রথম দুই মাসে রপ্তানিতে বড় উল্লম্ফন
চীনের শুল্ক কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মিলিয়ে দেশটির রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২১.৮ শতাংশ বেড়ে ৬৫৬.৫৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এটি গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি।

এর আগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে রপ্তানি বৃদ্ধি ছিল ৬.৬ শতাংশ এবং পুরো বছরে মোট বৃদ্ধি ছিল ৫.৫ শতাংশ। অর্থাৎ বছরের শুরুতেই রপ্তানি প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্যভাবে ত্বরান্বিত হয়েছে।

চীনা নববর্ষের প্রভাব ও বাস্তব চিত্র
চীনে সাধারণত বছরের প্রথম দুই মাসের বাণিজ্য তথ্য একত্রে প্রকাশ করা হয়। কারণ চীনা নববর্ষের ছুটির কারণে একক মাসের তথ্য অনেক সময় প্রকৃত প্রবণতা প্রতিফলিত করে না। গত বছর নববর্ষ জানুয়ারিতে পড়েছিল, আর এ বছর ফেব্রুয়ারিতে হওয়ায় এই পদ্ধতিতে তুলনামূলক স্থিতিশীল তথ্য পাওয়া যায়।

তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, শুধু উৎসবের প্রভাব দিয়ে এত শক্তিশালী রপ্তানি বৃদ্ধিকে ব্যাখ্যা করা যায় না।

প্রযুক্তিপণ্যের বৈশ্বিক চাহিদাই মূল চালিকা শক্তি
বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রবৃদ্ধির বড় কারণ হলো প্রযুক্তিপণ্যের শক্তিশালী আন্তর্জাতিক চাহিদা। অনেক দেশের অর্থনীতিতেই এখন প্রযুক্তি খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিকে ঘিরে যে বিনিয়োগ বাড়ছে, সেটিই মূলত রপ্তানি বৃদ্ধির গতি বাড়িয়েছে। তবে এই গতি কতদিন বজায় থাকবে, তা অনেকটাই নির্ভর করবে প্রযুক্তি খাতে এই বিনিয়োগ কতদিন অব্যাহত থাকে তার ওপর।

একই সঙ্গে শক্তিশালী বৈদেশিক চাহিদা থাকার ফলে অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়াতে সরকারকে দ্রুত বড় কোনো প্রণোদনা প্যাকেজ দিতে হবে—এমন চাপ আপাতত কমে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি কমলেও অন্য বাজারে উত্থান
তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম দুই মাসে যুক্তরাষ্ট্রে চীনের রপ্তানি আগের বছরের তুলনায় ১১ শতাংশ কমেছে। যদিও ডিসেম্বর মাসে এই পতন ছিল ৩০ শতাংশ এবং পুরো গত বছরে ছিল ২০ শতাংশ।

এই পতনের পরও যুক্তরাষ্ট্র ২০২৫ সালে চীনের সবচেয়ে বড় একক রপ্তানি বাজার ছিল।

অন্যদিকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ানের বাজারে চীনের রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বছরের প্রথম দুই মাসে সেখানে রপ্তানি বেড়েছে ২৯.৪ শতাংশ। ইউরোপীয় ইউনিয়নে রপ্তানি বেড়েছে ২৭.৮ শতাংশ।

ইউরোপের বড় অর্থনীতিগুলোর মধ্যেও উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। জার্মানিতে রপ্তানি বেড়েছে ৩১.৩ শতাংশ, ফ্রান্সে ৩১.৯ শতাংশ এবং ইতালিতে ৩৬.৪ শতাংশ।

আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকাতেও বিস্তার
লাতিন আমেরিকায় রপ্তানি বেড়েছে ১৬.৪ শতাংশ। আফ্রিকায় এই প্রবৃদ্ধি আরও বেশি, প্রায় ৫০ শতাংশ। এর মাধ্যমে বোঝা যাচ্ছে যে চীন ধীরে ধীরে নতুন বাজারে বাণিজ্য বিস্তার করছে।

তবে এই শক্তিশালী রপ্তানি প্রবৃদ্ধি অনেক দেশের কাছে বাণিজ্য ভারসাম্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়াতে পারে বলেও বিশ্লেষকদের মত।

তেলের আমদানি বাড়িয়ে জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার
বছরের শুরুতে চীন অপরিশোধিত তেলের আমদানিও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে বিশ্ব তেল সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে চীন মোট ৯৬.৯৩ মিলিয়ন টন অপরিশোধিত তেল আমদানি করেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৫.৮ শতাংশ বেশি।

এই সময়ে মোট আমদানি বেড়েছে ১৯.৮ শতাংশ এবং চীনের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত দাঁড়িয়েছে ২১৩.৬ বিলিয়ন ডলার।

বাণিজ্যে ‘ডি-আমেরিকানাইজেশন’ প্রবণতা
চীনের বাণিজ্য কাঠামোতে ধীরে ধীরে যুক্তরাষ্ট্র নির্ভরতা কমার একটি প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। বছরের প্রথম দুই মাসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে চীনের আমদানি ২৬.৭ শতাংশ কমেছে।

অন্যদিকে ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া ও অস্ট্রেলিয়া থেকে আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এই তিন দেশ থেকে চীন যথাক্রমে ৪৩.১ শতাংশ, ৩৫.৮ শতাংশ এবং ৩৩.৮ শতাংশ বেশি পণ্য কিনেছে।

রপ্তানিতে প্রযুক্তি খাতের দ্রুত উত্থান
রপ্তানি পণ্যের তালিকায় প্রযুক্তি খাতের প্রবৃদ্ধি সবচেয়ে বেশি। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে সেমিকন্ডাক্টর রপ্তানির মূল্য ৭২.৬ শতাংশ বেড়ে ৪৩.৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

মোট উচ্চপ্রযুক্তি পণ্যের রপ্তানিও বছরে ২৬.৯ শতাংশ বেড়েছে।

এছাড়া গাড়ি ও জাহাজ রপ্তানিতেও শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। এই দুই খাতে রপ্তানি মূল্য যথাক্রমে ৬৭.১ শতাংশ এবং ৫২.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

রপ্তানির কাঠামোতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত
বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে চীনের রপ্তানি আরও বেশি প্রযুক্তি নির্ভর হবে। সেমিকন্ডাক্টর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সরবরাহ শৃঙ্খল, বিদ্যুৎ সরঞ্জাম ও গাড়ির মতো খাত রপ্তানির প্রধান চালিকা শক্তি হয়ে উঠছে।

একই সময়ে সৌর প্যানেল ও ইস্পাত উৎপাদন নিয়ন্ত্রণে আনার নীতিমালা এবং পোশাক ও জুতার মতো শ্রমনির্ভর শিল্পের ধীর পতন চীনের রপ্তানি কাঠামোকে ধীরে ধীরে পরিবর্তন করছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিবর্তন ভবিষ্যতে চীনের অর্থনীতিকে আরও প্রযুক্তিনির্ভর ও উচ্চমূল্য সংযোজন খাতের দিকে নিয়ে যাবে।