ইরানের সীমান্তঘেঁষা ইরাকের পার্বত্য অঞ্চলে অবস্থান নেওয়া বামপন্থী কুর্দি বিদ্রোহীরা বলছে, তারা ইরানের ইসলামী প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত। তবে সরাসরি সংঘাতে যাওয়ার আগে তারা ইরানের ভেতরে একটি গণঅভ্যুত্থান দেখতে চায়। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমে কুর্দি আক্রমণের প্রতি সমর্থন জানালেও পরে সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছেন।

কুর্দি বিদ্রোহীদের অবস্থান
ইরানের কাছাকাছি ইরাকের পাহাড়ি এলাকায় গোপন ঘাঁটি গড়ে থাকা কুর্দি বিদ্রোহীরা জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে। তাদের মতে, ইরানের ভেতরে যদি বড় ধরনের গণঅভ্যুত্থান শুরু হয়, তাহলে তারা সেই আন্দোলনের পক্ষে অবস্থান নিতে পারে।
কুর্দিস্তান ফ্রি লাইফ পার্টি বা পিজেএকে’র (PJAK) জ্যেষ্ঠ কমান্ডার রোকেন নেরাদা বলেন, কুর্দি জনগণের ওপর যদি কোনো ধরনের আক্রমণ হয়, তাহলে তারা সব ধরনের শক্তি দিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে প্রস্তুত।
তার ভাষায়, কুর্দিরা অতীতেও নিজেদের অধিকারের জন্য লড়াই করেছে এবং প্রয়োজনে আবারও একইভাবে প্রতিরোধ করবে।

মার্কিন সমর্থন ছাড়াই লড়াইয়ের প্রস্তুতি
৩৯ বছর বয়সী নেরাদা প্রায় ১৭ বছর ধরে বিদ্রোহী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত। তিনি মনে করেন, কুর্দি জনগণ নিজেদের অধিকার আদায় করতে সক্ষম এবং এর জন্য যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কোনো দেশের সহায়তার ওপর নির্ভর করতে হবে না।
তিনি বলেন, নিজেদের শক্তি ও সংগঠনের ওপর ভর করেই কুর্দিরা তাদের লক্ষ্য অর্জন করতে পারে।
ইরাকের পাহাড়ে ঘাঁটি, ইরানের ভেতরেও উপস্থিতি
পিজেএকে-সহ ইরানের অন্যান্য কুর্দি বিদ্রোহী সংগঠনগুলোর বেশিরভাগ ঘাঁটি রয়েছে ইরাকের উত্তরাঞ্চলের স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তান অঞ্চলের পাহাড়ে।
তবে শুধু সীমান্ত এলাকায় নয়, ইরানের ভেতরের কুর্দি অধ্যুষিত এলাকাগুলিতেও তাদের গোপন আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে বলে জানা গেছে। এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে তারা সংগঠন পরিচালনা ও প্রভাব বিস্তার করে থাকে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















