১০:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬
ইসরায়েলে নির্বাচন সামনে, অথচ অকার্যকর রাষ্ট্রীয় তদারকি: গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক সংকেত পাচার করা অর্থ ফেরত আনা কি সম্ভব? মধ্যম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের দৌড়েও অবিশ্বাস্য গতি, রেকর্ড ভাঙল একের পর এক স্বাধীন ভারতের প্রথম জাতিভিত্তিক জনগণনায় নেতৃত্ব দেবে লাদাখ বিহারের ধাক্কার পর উত্তরপ্রদেশে উচ্চবর্ণের ক্ষোভ কি চাপে ফেলবে বিজেপিকে? দিল্লির অভিজাতদের স্বপ্নের বাড়ি দেখিয়ে ২০০ কোটি টাকার প্রতারণা! সন্তানদের ভবিষ্যৎ বোঝার ক্ষমতা অভিভাবকদের চেয়েও এগিয়ে অর্থনৈতিক সংকটে বদলে যাচ্ছে প্রেমের হিসাব, ‘রেড ফ্ল্যাগ’ও কি শ্রেণির পরিচয়? কৃষ্ণসাগরের বন্দর ঘিরে রাশিয়ার নতুন চাপ, শস্য রপ্তানি থমকে গেলে বিশ্বজুড়ে বাড়বে খাদ্যঝুঁকি ‘দ্য অডিসি’তে ওডিসিউসের অপরাধবোধ, যুদ্ধের নৃশংসতা ও সভ্যতার পুনর্জন্ম: ক্রিস্টোফার নোলানের ব্যাখ্যা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চাঁদাবাজির মামলায় দুই ভুয়া সাংবাদিকের পাঁচ বছরের কারাদণ্ড

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। রোববার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-২ এ রায় ঘোষণা করা হয়।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন এস এম আলী আজম ও আশিকুর রহমান রনি। রায় ঘোষণার সময় তারা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে আদালতের নির্দেশে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর আশুগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর পূর্ব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যান এস এম আলী আজম ও আশিকুর রহমান রনি। সেখানে তারা নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিল, ভাউচার ও দাপ্তরিক কাগজপত্র দেখতে চান।

যে উপায়ে যাচাই করবেন কারো নামে মামলা আছে কিনা

শিক্ষকদের হুমকি দিয়ে টাকা দাবি

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাদের জানান, এসব নথিপত্র সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে দেখানো হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযুক্তরা শিক্ষকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগ ওঠে। একই সঙ্গে তারা ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং বিদ্যালয়ের কর্মচারীদের সঙ্গে অসদাচরণ করেন বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়।

এক পর্যায়ে স্থানীয় লোকজন ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা এস এম আলী আজমকে আটক করেন। তবে আশিকুর রহমান রনি মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যান। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে আটক ব্যক্তিকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

তদন্ত শেষে আদালতের রায়

ঘটনার পর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হাবিবুর রহমান আশুগঞ্জ থানায় দণ্ডবিধির ৪১৯, ৩৮৫ ও ৫০৬ ধারায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়।

মিথ্যা মামলা ও গ্রেপ্তার ঠেকাতে নতুন বিধান

মামলার সাক্ষ্যপ্রমাণ ও উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনে আদালত দুই আসামির বিরুদ্ধে রায় দেন। আদালতের রায়ে তাদের পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

বাদীপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ তফসির আহমেদ তানভীর বলেন, দণ্ডপ্রাপ্তরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজি করে আসছিলেন। আদালত সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতেই এই রায় দিয়েছেন।

সাংবাদিকতার নাম ব্যবহার করে প্রতারণা

আশুগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি সেলিম পারভেজ বলেন, সাংবাদিকতা একটি দায়িত্বশীল পেশা। দণ্ডপ্রাপ্তরা মূলধারার সাংবাদিক ছিলেন না। তারা ভুয়া পরিচয়পত্র ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজ ব্যবহার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করতেন।

তিনি আরও বলেন, এ ধরনের ঘটনা প্রকৃত সাংবাদিকদের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং সমাজে বিভ্রান্তি তৈরি করে। তাই এমন অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা জরুরি।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ইসরায়েলে নির্বাচন সামনে, অথচ অকার্যকর রাষ্ট্রীয় তদারকি: গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক সংকেত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চাঁদাবাজির মামলায় দুই ভুয়া সাংবাদিকের পাঁচ বছরের কারাদণ্ড

১০:৫৩:৪১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। রোববার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-২ এ রায় ঘোষণা করা হয়।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন এস এম আলী আজম ও আশিকুর রহমান রনি। রায় ঘোষণার সময় তারা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে আদালতের নির্দেশে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর আশুগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর পূর্ব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যান এস এম আলী আজম ও আশিকুর রহমান রনি। সেখানে তারা নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিল, ভাউচার ও দাপ্তরিক কাগজপত্র দেখতে চান।

যে উপায়ে যাচাই করবেন কারো নামে মামলা আছে কিনা

শিক্ষকদের হুমকি দিয়ে টাকা দাবি

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাদের জানান, এসব নথিপত্র সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে দেখানো হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযুক্তরা শিক্ষকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগ ওঠে। একই সঙ্গে তারা ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং বিদ্যালয়ের কর্মচারীদের সঙ্গে অসদাচরণ করেন বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়।

এক পর্যায়ে স্থানীয় লোকজন ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা এস এম আলী আজমকে আটক করেন। তবে আশিকুর রহমান রনি মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যান। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে আটক ব্যক্তিকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

তদন্ত শেষে আদালতের রায়

ঘটনার পর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হাবিবুর রহমান আশুগঞ্জ থানায় দণ্ডবিধির ৪১৯, ৩৮৫ ও ৫০৬ ধারায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়।

মিথ্যা মামলা ও গ্রেপ্তার ঠেকাতে নতুন বিধান

মামলার সাক্ষ্যপ্রমাণ ও উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনে আদালত দুই আসামির বিরুদ্ধে রায় দেন। আদালতের রায়ে তাদের পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

বাদীপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ তফসির আহমেদ তানভীর বলেন, দণ্ডপ্রাপ্তরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজি করে আসছিলেন। আদালত সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতেই এই রায় দিয়েছেন।

সাংবাদিকতার নাম ব্যবহার করে প্রতারণা

আশুগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি সেলিম পারভেজ বলেন, সাংবাদিকতা একটি দায়িত্বশীল পেশা। দণ্ডপ্রাপ্তরা মূলধারার সাংবাদিক ছিলেন না। তারা ভুয়া পরিচয়পত্র ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজ ব্যবহার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করতেন।

তিনি আরও বলেন, এ ধরনের ঘটনা প্রকৃত সাংবাদিকদের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং সমাজে বিভ্রান্তি তৈরি করে। তাই এমন অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা জরুরি।