০৩:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
নীতিনির্ধারকদের জন্য বাজারের সতর্কবার্তা: ইন্দোনেশিয়ার অর্থনীতিতে আস্থার সংকট কতটা গভীর? পেটের মেদ বাড়লে বাড়ে যেসব স্বাস্থ্যঝুঁকি, জানুন নিয়ন্ত্রণের কার্যকর উপায় ধর্ষণ মামলার পর আত্মগোপন, অপহরণের দাবিও ভুয়া: শিবির নেতার বিরুদ্ধে নতুন বিতর্ক সিঙ্গুরে টাটাদের ফেরানোর আশ্বাস, বিনিয়োগ টানতে নতুন রোডম্যাপের ইঙ্গিত ইরানঘেঁষা তেলবাহী জাহাজে হামলা ঘিরে উত্তেজনা, যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া প্রতিবাদ ভারতের ব্রিটেনে রাষ্ট্রীয় মালিকানা বিতর্ক নতুন করে জোরালো, কিন্তু সমাধান কি সত্যিই সেখানে?  ভারতে  খাদ্যদ্রব্যের দাম বাড়ায় মে মাসে মূল্যস্ফীতি ৩.৯ শতাংশে, ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ ন্যাটোর দিকে ঝুঁকছে তুরস্ক, বদলে যাচ্ছে আঙ্কারার কৌশল বিশ্বকাপের ইতিহাসে বিতর্কের ছায়া, কেলেঙ্কারি পেরিয়েই ফুটবলের মহোৎসব বিশ্বকাপ জিততে কী লাগে: অর্থ আর উচ্চতার চেয়েও বড় শক্তি অভিবাসন ও উন্মুক্ত সমাজ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চাঁদাবাজির মামলায় দুই ভুয়া সাংবাদিকের পাঁচ বছরের কারাদণ্ড

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। রোববার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-২ এ রায় ঘোষণা করা হয়।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন এস এম আলী আজম ও আশিকুর রহমান রনি। রায় ঘোষণার সময় তারা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে আদালতের নির্দেশে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর আশুগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর পূর্ব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যান এস এম আলী আজম ও আশিকুর রহমান রনি। সেখানে তারা নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিল, ভাউচার ও দাপ্তরিক কাগজপত্র দেখতে চান।

যে উপায়ে যাচাই করবেন কারো নামে মামলা আছে কিনা

শিক্ষকদের হুমকি দিয়ে টাকা দাবি

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাদের জানান, এসব নথিপত্র সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে দেখানো হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযুক্তরা শিক্ষকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগ ওঠে। একই সঙ্গে তারা ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং বিদ্যালয়ের কর্মচারীদের সঙ্গে অসদাচরণ করেন বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়।

এক পর্যায়ে স্থানীয় লোকজন ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা এস এম আলী আজমকে আটক করেন। তবে আশিকুর রহমান রনি মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যান। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে আটক ব্যক্তিকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

তদন্ত শেষে আদালতের রায়

ঘটনার পর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হাবিবুর রহমান আশুগঞ্জ থানায় দণ্ডবিধির ৪১৯, ৩৮৫ ও ৫০৬ ধারায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়।

মিথ্যা মামলা ও গ্রেপ্তার ঠেকাতে নতুন বিধান

মামলার সাক্ষ্যপ্রমাণ ও উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনে আদালত দুই আসামির বিরুদ্ধে রায় দেন। আদালতের রায়ে তাদের পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

বাদীপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ তফসির আহমেদ তানভীর বলেন, দণ্ডপ্রাপ্তরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজি করে আসছিলেন। আদালত সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতেই এই রায় দিয়েছেন।

সাংবাদিকতার নাম ব্যবহার করে প্রতারণা

আশুগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি সেলিম পারভেজ বলেন, সাংবাদিকতা একটি দায়িত্বশীল পেশা। দণ্ডপ্রাপ্তরা মূলধারার সাংবাদিক ছিলেন না। তারা ভুয়া পরিচয়পত্র ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজ ব্যবহার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করতেন।

তিনি আরও বলেন, এ ধরনের ঘটনা প্রকৃত সাংবাদিকদের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং সমাজে বিভ্রান্তি তৈরি করে। তাই এমন অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা জরুরি।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

নীতিনির্ধারকদের জন্য বাজারের সতর্কবার্তা: ইন্দোনেশিয়ার অর্থনীতিতে আস্থার সংকট কতটা গভীর?

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চাঁদাবাজির মামলায় দুই ভুয়া সাংবাদিকের পাঁচ বছরের কারাদণ্ড

১০:৫৩:৪১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। রোববার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-২ এ রায় ঘোষণা করা হয়।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন এস এম আলী আজম ও আশিকুর রহমান রনি। রায় ঘোষণার সময় তারা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে আদালতের নির্দেশে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর আশুগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর পূর্ব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যান এস এম আলী আজম ও আশিকুর রহমান রনি। সেখানে তারা নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিল, ভাউচার ও দাপ্তরিক কাগজপত্র দেখতে চান।

যে উপায়ে যাচাই করবেন কারো নামে মামলা আছে কিনা

শিক্ষকদের হুমকি দিয়ে টাকা দাবি

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাদের জানান, এসব নথিপত্র সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে দেখানো হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযুক্তরা শিক্ষকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগ ওঠে। একই সঙ্গে তারা ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং বিদ্যালয়ের কর্মচারীদের সঙ্গে অসদাচরণ করেন বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়।

এক পর্যায়ে স্থানীয় লোকজন ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা এস এম আলী আজমকে আটক করেন। তবে আশিকুর রহমান রনি মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যান। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে আটক ব্যক্তিকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

তদন্ত শেষে আদালতের রায়

ঘটনার পর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হাবিবুর রহমান আশুগঞ্জ থানায় দণ্ডবিধির ৪১৯, ৩৮৫ ও ৫০৬ ধারায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়।

মিথ্যা মামলা ও গ্রেপ্তার ঠেকাতে নতুন বিধান

মামলার সাক্ষ্যপ্রমাণ ও উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনে আদালত দুই আসামির বিরুদ্ধে রায় দেন। আদালতের রায়ে তাদের পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

বাদীপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ তফসির আহমেদ তানভীর বলেন, দণ্ডপ্রাপ্তরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজি করে আসছিলেন। আদালত সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতেই এই রায় দিয়েছেন।

সাংবাদিকতার নাম ব্যবহার করে প্রতারণা

আশুগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি সেলিম পারভেজ বলেন, সাংবাদিকতা একটি দায়িত্বশীল পেশা। দণ্ডপ্রাপ্তরা মূলধারার সাংবাদিক ছিলেন না। তারা ভুয়া পরিচয়পত্র ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজ ব্যবহার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করতেন।

তিনি আরও বলেন, এ ধরনের ঘটনা প্রকৃত সাংবাদিকদের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং সমাজে বিভ্রান্তি তৈরি করে। তাই এমন অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা জরুরি।