কেরলে সরকার গঠনের পরও মুখ্যমন্ত্রী পদ নিয়ে কংগ্রেসের অন্দরে অনিশ্চয়তা কাটছে না। রাজ্যে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোটের বড় জয়ের পর এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, শেষ পর্যন্ত কে বসবেন মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে। দলীয় শীর্ষ নেতৃত্ব এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নেওয়ায় রাজনৈতিক মহলে জল্পনা আরও বেড়েছে।
এই মুহূর্তে মুখ্যমন্ত্রী পদের দৌড়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন তিন নেতা— ভি ডি সতীশন, রমেশ চেন্নিথলা এবং কে সি ভেনুগোপাল। তিনজনের সমর্থন ঘিরেই দলীয় অন্দরে চলছে জোর তৎপরতা ও আলোচনা।
দিল্লিতে বৈঠক, সিদ্ধান্তে দেরি
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা দিল্লিতে একাধিক বৈঠক করেছেন। সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাহুল গান্ধী, দলীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, কেরল দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা এবং রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব।
তবে দীর্ঘ আলোচনার পরও মুখ্যমন্ত্রী নিয়ে কোনও ঐকমত্য তৈরি হয়নি। ফলে সিদ্ধান্ত ঘোষণা আরও কয়েক দিন পিছিয়ে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

রাহুলের সঙ্গে সতীশনের বৈঠক
কেরলের বিরোধী দলীয় নেতা ভি ডি সতীশন সম্প্রতি রাহুল গান্ধীর সঙ্গে আলাদা বৈঠক করেছেন। সেখানে তিনি মুখ্যমন্ত্রী পদে নিজের দাবি জোরালোভাবে তুলে ধরেছেন বলে জানা গেছে।
সতীশন দাবি করেছেন, ২০২১ সালের নির্বাচনে বড় পরাজয়ের পর রাজ্যে কংগ্রেসকে ঘুরে দাঁড় করাতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। গত দুই বছরে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন ও রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে গেছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
দলীয় একটি অংশের মতে, সাংগঠনিক স্তরে সতীশনের গ্রহণযোগ্যতা অনেক বেশি। বিশেষ করে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের বড় অংশ তাঁর পাশে রয়েছেন।
ভেনুগোপালের পক্ষে সাংসদ-এমএলএদের সমর্থন
অন্যদিকে, কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ নেতা কে সি ভেনুগোপালের পক্ষেও জোর সমর্থন তৈরি হয়েছে। দলের বহু সাংসদ, বিধায়ক এবং প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান বলে আলোচনা চলছে।
যদিও ভেনুগোপাল এবার বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি, তবুও দিল্লিতে তাঁর সাংগঠনিক প্রভাবকে বড় শক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দলীয় এক নেতার ভাষায়, এখন কংগ্রেস নেতৃত্বের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো— কাকে মুখ্যমন্ত্রী করা হবে এবং কাকে কীভাবে সন্তুষ্ট রাখা হবে।
চেন্নিথলার অভিজ্ঞতাও বড় ফ্যাক্টর
রমেশ চেন্নিথলাও এই দৌড়ে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং বিভিন্ন সামাজিক ও জাতিগত সংগঠনের সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্ককে বড় সুবিধা হিসেবে দেখছে তাঁর শিবির।
দলীয় একটি অংশের আশা, প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার কারণেই শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব চেন্নিথলার দিকেও ঝুঁকতে পারে। যদিও দিল্লির রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে, শেষ লড়াই মূলত সতীশন ও ভেনুগোপালের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
এদিকে, চেন্নিথলাকে বিধানসভার স্পিকার পদ দেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।
দলীয় বিধায়কদের মতামত সংগ্রহ
মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন নিয়ে নতুন নির্বাচিত বিধায়কদের মতামত জানতে কংগ্রেস বিশেষ পর্যবেক্ষকও পাঠিয়েছে। পরে কংগ্রেস বিধায়ক দল একটি প্রস্তাব পাশ করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দলীয় হাইকমান্ডের হাতে তুলে দেয়।
তবে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসায় কেরলের রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়ছে। এখন নজর দিল্লির সিদ্ধান্তের দিকেই।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















