দেশজুড়ে হাম পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হাম-সদৃশ উপসর্গে আরও ১১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে চলতি বছরের মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪০৯ জনে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নতুন করে মারা যাওয়া ১১ জনের মধ্যে চারজনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছিল। বাকি সাতজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেক ক্ষেত্রেই পরীক্ষাগারের সীমাবদ্ধতার কারণে সব রোগীর নমুনা পরীক্ষা করা সম্ভব হয় না। তাই উপসর্গ বিবেচনায় এসব মৃত্যুকেও হামজনিত বলেই ধরা হচ্ছে।

ঢাকায় সবচেয়ে বেশি মৃত্যু
নতুন নিশ্চিত হওয়া মৃত্যুর মধ্যে ঢাকাতেই সবচেয়ে বেশি তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ঢাকার বাইরে বিভিন্ন বিভাগ থেকে আগের ৪৬টি সন্দেহভাজন মৃত্যুর তথ্য নতুন করে যুক্ত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
সব মিলিয়ে মার্চের মাঝামাঝি থেকে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হামজনিত মৃত্যু হয়েছে ৬৫ জনের। আর সন্দেহভাজন মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪৪ জনে।
বিভ্রান্তি নিয়ে উদ্বেগ
জাতীয় টিকাদান কারিগরি পরামর্শক দল এবং জাতীয় যাচাই কমিটি এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘সন্দেহভাজন’ ও ‘নিশ্চিত’ মৃত্যু আলাদা করে প্রকাশ করায় সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। তাদের মতে, উপসর্গ ও পরিস্থিতি বিবেচনায় এসব মৃত্যুকেও হামজনিত মৃত্যু হিসেবেই গণনা করা উচিত।
আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ছে

একই সময়ে দেশে নতুন করে আরও এক হাজার ৫০৩ জনের মধ্যে হাম-সদৃশ উপসর্গ পাওয়া গেছে। এতে মোট সন্দেহভাজন আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৯ হাজার ১৫৯ জনে।
এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় ২০৫ জনের শরীরে হাম নিশ্চিত হয়েছে। ফলে মোট নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা এখন ৬ হাজার ৮১৯ জন।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন হাজারো রোগী
গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৩৪ হাজার ৯০৯ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৩০ হাজার ৮৬২ জন ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকাদান কার্যক্রম আরও জোরদার না করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের সুরক্ষায় দ্রুত সচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















