শ্রীলঙ্কার অন্যতম প্রভাবশালী বৌদ্ধ ধর্মীয় নেতা পাল্লেগামা হেমারাথানা থেরোকে এক কিশোরীকে ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ। এই ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে, কারণ তিনি শ্রীলঙ্কার বৌদ্ধ সমাজের অত্যন্ত উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন একজন ভিক্ষু হিসেবে পরিচিত।
অভিযোগ অনুযায়ী, ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে যৌন নির্যাতনের ঘটনায় তার নাম উঠে আসে। পরে দেশটির শিশু সুরক্ষা কর্তৃপক্ষ পুলিশের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায়। এরপরই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ধর্মীয় অঙ্গনে প্রভাবশালী অবস্থান
পাল্লেগামা হেমারাথানা থেরো শ্রীলঙ্কার আটটি পবিত্র বৌদ্ধ স্থানের প্রধান তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। বৌদ্ধ সমাজে এই পদ অত্যন্ত সম্মানজনক ও ক্ষমতাধর বলে বিবেচিত হয়। তাই তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ সামনে আসায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও বিস্ময় তৈরি হয়েছে।
শ্রীলঙ্কায় বৌদ্ধ ভিক্ষুরা শুধু ধর্মীয় ক্ষেত্রেই নয়, রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবেও বড় প্রভাব রাখেন। সে কারণে এত উচ্চপদস্থ কোনো ভিক্ষুর গ্রেপ্তার হওয়া দেশটিতে খুবই বিরল ঘটনা।
মায়ের বিরুদ্ধেও অভিযোগ
ঘটনায় কিশোরীর মাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নির্যাতনের ঘটনায় সহায়তা করেছেন। আদালতের নির্দেশে তাকেও কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে গ্রেপ্তারের সময় পাল্লেগামা হেমারাথানা থেরো রাজধানী কলম্বোর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগার হাসপাতালেও স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা হয়।
দেশ ছাড়ার আশঙ্কা
আদালত অভিবাসন কর্তৃপক্ষকেও নির্দেশ দিয়েছে, যাতে অভিযুক্ত ভিক্ষু দেশ ছাড়তে না পারেন। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তার বিদেশ যাত্রার ওপর কড়া নজরদারি রাখা হবে বলে জানা গেছে।
আগামী ১২ মে তাকে আদালতে হাজির করা হবে। তবে এখন পর্যন্ত তিনি প্রকাশ্যে অভিযোগ নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
ঘটনাটি সামনে আসার পর শ্রীলঙ্কাজুড়ে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি ও শিশু সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















