পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরোধী ঐক্যের আহ্বান। বিজেপির বিরুদ্ধে সব বিরোধী দলকে এক মঞ্চে আসার ডাক দিয়েছিলেন তিনি। তবে সেই আহ্বান সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে কংগ্রেস, বামফ্রন্ট এবং সিপিআই-এমএল। তাদের বক্তব্য, দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িকতার অভিযোগে অভিযুক্ত কোনও শক্তির সঙ্গে তারা হাত মেলাবে না।
সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বড় পরাজয়ের মুখে পড়ে তৃণমূল। ২৯৪ আসনের মধ্যে বিজেপি জয় পায় ২০৭টিতে, আর তৃণমূলের ঝুলিতে যায় মাত্র ৮০টি আসন। এরপরই রাজনৈতিক সমীকরণ নতুনভাবে সাজানোর চেষ্টা শুরু করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
বিরোধী ঐক্যের ডাক
শনিবার বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর একটি ভিডিও বার্তায় মমতা বলেন, বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করতে হলে সব বিরোধী দল, ছাত্র সংগঠন ও নাগরিক সমাজকে এক হতে হবে। তিনি জাতীয় দলগুলোর পাশাপাশি বামপন্থী ও অতিবাম শক্তিকেও একত্রে আসার আহ্বান জানান।

মমতার দাবি, বিজেপিই এখন দেশের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ। তাই মতপার্থক্য ভুলে বিরোধীদের এক মঞ্চে আসা জরুরি। তিনি আরও জানান, যে কোনও বিরোধী দল আলোচনায় আগ্রহী হলে তিনি প্রস্তুত আছেন।
বাম ও কংগ্রেসের তীব্র প্রতিক্রিয়া
মমতার এই আহ্বানের পরই কড়া প্রতিক্রিয়া জানায় বামফ্রন্ট। সিপিআই(এম) নেতা মোহাম্মদ সেলিম বলেন, অপরাধ, তোলাবাজি, দুর্নীতি ও সাম্প্রদায়িকতার সঙ্গে জড়িত কোনও শক্তিকে তারা মেনে নেবেন না। সাধারণ মানুষ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পক্ষেই তারা থাকবেন।
অন্যদিকে কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও তীব্র আপত্তি তোলা হয়। দলের মুখপাত্র সৌম্য আইচ রায় বলেন, মমতা যে ‘অতিবাম’ শক্তির কথা বলেছেন, তাতে তিনি কাদের বোঝাতে চেয়েছেন তা স্পষ্ট নয়। একই সঙ্গে তিনি অতীতের রাজনৈতিক সহিংসতার প্রসঙ্গ টেনে প্রশ্ন তোলেন, এমন অবস্থায় কীভাবে ঐক্যের কথা বলা হচ্ছে।
সিপিআই নেতা স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায়ও স্পষ্ট জানিয়ে দেন, মমতার সঙ্গে কোনও যৌথ মঞ্চের প্রশ্নই ওঠে না। তার অভিযোগ, তৃণমূলের শাসনামলে গণতন্ত্র চাপে পড়েছিল।

শুভেন্দুর পাল্টা আক্রমণ
মমতার মন্তব্য নিয়ে বিজেপিও পাল্টা আক্রমণ করেছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছেন। বিজেপির দাবি, জনগণ ভোটের মাধ্যমে পরিবর্তনের পক্ষে মত দিয়েছে এবং সেই ফলই নির্বাচনে প্রতিফলিত হয়েছে।
রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত
বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের পর পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বিরোধী শক্তিগুলোর অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। একদিকে বিজেপি ক্ষমতা ধরে রেখে নিজেদের শক্ত অবস্থান দেখাতে চাইছে, অন্যদিকে তৃণমূল বিরোধী ভোটকে একত্র করার চেষ্টা করছে। তবে কংগ্রেস ও বামেদের কড়া অবস্থান সেই সম্ভাবনাকে আপাতত কঠিন করে তুলেছে।
আগামী দিনে বিরোধী রাজনীতির সমীকরণ কোন দিকে যায়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















