০১:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬
আইএমএফের হিসাবে বাংলাদেশের রিজার্ভ ২৯.৪৭ বিলিয়ন ডলার ময়মনসিংহে হামে আরও এক শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে বেড়েই চলেছে আক্রান্তের চাপ সন্তানদের বিনিয়োগ শেখাতে ৫ হাজার ডলার, পপির সহপ্রতিষ্ঠাতার ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ট্রাম্প-শি বৈঠক ঘিরে তাইওয়ানের শঙ্কা, ‘চমক’ এড়াতে চায় তাইপে ভোটার তালিকা বিতর্কেই কি বদলে গেল বাংলা? শশী থারুরের মন্তব্যে নতুন রাজনৈতিক ঝড় মোদির ‘ত্যাগের ডাক’ ঘিরে রাজনৈতিক ঝড়, পাল্টা আক্রমণে রাহুল গান্ধী হামে বাড়ছে মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় আরও ১১ প্রাণহানি রাশফোর্ডের জাদুতে রিয়ালকে হারিয়ে বার্সেলোনার শিরোপা উৎসব দুয়া লিপার ছবি ব্যবহার করে বিপাকে স্যামসাং, ১৫ মিলিয়ন ডলারের মামলা গায়িকার শ্রীলঙ্কায় প্রভাবশালী বৌদ্ধ ভিক্ষুর বিরুদ্ধে কিশোরী ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তারের ঘটনায় তোলপাড়

আধুনিক বাবা-মায়েরা কেন বেশি ক্লান্ত? পূর্বপুরুষদের তুলনায় ঘুম কম নয়, তবুও অবসাদ বেশি

বর্তমান সময়ে বাবা-মায়েরা প্রায়ই বলেন তারা চরম ঘুমের অভাবে ভুগছেন। তবে গবেষণা বলছে, বাস্তবে তাদের ঘুমের পরিমাণ খুব বেশি কমে যায় না। তবুও কেন এত ক্লান্তি অনুভব করেন—সেই প্রশ্নই এখন বিজ্ঞানীদের আগ্রহের কেন্দ্রে।

ঘুমের সময়ের পার্থক্য খুবই সামান্য

গবেষণায় দেখা গেছে, সন্তান জন্মের পর প্রথম দিকে কিছুটা ঘুম কমে গেলেও দীর্ঘমেয়াদে বাবা-মা ও সন্তানহীন মানুষের ঘুমের মধ্যে তেমন পার্থক্য নেই। অনেক ক্ষেত্রে বাবা-মায়েরা প্রতিদিন প্রায় ৭–৮ ঘণ্টা ঘুম পাচ্ছেন, যা স্বাভাবিক সীমার মধ্যেই।

তবুও কেন বেশি ক্লান্ত লাগে?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমস্যাটি ঘুমের পরিমাণে নয়, বরং ঘুমের অভিজ্ঞতা ও মানসিক চাপের মধ্যে। আধুনিক সমাজে বাবা-মায়েরা একদিকে সন্তান লালন-পালন, অন্যদিকে চাকরি—দুই দায়িত্বই একসঙ্গে সামলাতে হয়। এতে মানসিক চাপ ও ক্লান্তি বেড়ে যায়।

Serenity Strull/ BBC/ Getty Images Compared to foraging cultures, it is now more common to have more children with smaller age gaps (Credit: Serenity Strull/ BBC/ Getty Images)

পূর্বপুরুষদের জীবন ছিল ভিন্ন

প্রাচীন শিকারি-সংগ্রাহক সমাজে মানুষ বেশি ঘন ঘন ঘুম ভাঙলেও তারা নিজেদের ঘুম নিয়ে সন্তুষ্ট ছিল। তাদের জীবনে ‘একটানা গভীর ঘুম’ ধারণাটি এতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল না।

ঘুমের ধারণাতেই এসেছে পরিবর্তন

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিল্পবিপ্লবের পর থেকেই মানুষ একটানা দীর্ঘ সময় ঘুমানোর ওপর গুরুত্ব দিতে শুরু করে। আধুনিক কর্মব্যবস্থা ও জীবনধারা এই ধারণাকে আরও জোরদার করেছে।

শিশুর সঙ্গে ঘুমানোর ভিন্ন সংস্কৃতি

অনেক প্রাচীন সমাজে মা-বাবা শিশুর সঙ্গে একই জায়গায় ঘুমাতেন এবং রাতে শিশুকে খাওয়াতেন। এতে ঘুম ভাঙলেও দ্রুত আবার ঘুমিয়ে পড়া সহজ হতো। আধুনিক সমাজে আলাদা ঘুমানোর অভ্যাস অনেক সময় ঘুমের মানকে প্রভাবিত করে।

Serenity Strull/ BBC/ Getty Images Having less rigid expectations of sleep may help us relax and unwind at night as well as feeling less fatigued during the day (Credit: Serenity Strull/ BBC/ Getty Images)

 কমিউনিটি সাপোর্টের অভাব

পূর্বপুরুষদের সমাজে শিশুর যত্নে পরিবারের অন্য সদস্যরা বড় ভূমিকা রাখতেন। কিন্তু আধুনিক সমাজে বেশিরভাগ বাবা-মাকে একাই সব দায়িত্ব নিতে হয়, যা ক্লান্তি বাড়িয়ে দেয়।

জীবনধারার পরিবর্তনই মূল কারণ

বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক জীবনযাত্রা—কাজের চাপ, প্রযুক্তির ব্যবহার, সামাজিক প্রত্যাশা—এসবই বাবা-মায়েদের বেশি ক্লান্ত করে তুলছে, শুধুমাত্র ঘুমের অভাব নয়।

শেষ কথা: ক্লান্তি স্বাভাবিক, তবে বোঝাপড়া জরুরি

বিজ্ঞানীরা বলছেন, সন্তান লালন-পালনের সময় কিছুটা ক্লান্তি স্বাভাবিক। তবে ঘুম নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বেগ না করে জীবনযাত্রায় ভারসাম্য আনা জরুরি।

জনপ্রিয় সংবাদ

আইএমএফের হিসাবে বাংলাদেশের রিজার্ভ ২৯.৪৭ বিলিয়ন ডলার

আধুনিক বাবা-মায়েরা কেন বেশি ক্লান্ত? পূর্বপুরুষদের তুলনায় ঘুম কম নয়, তবুও অবসাদ বেশি

১২:০৮:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

বর্তমান সময়ে বাবা-মায়েরা প্রায়ই বলেন তারা চরম ঘুমের অভাবে ভুগছেন। তবে গবেষণা বলছে, বাস্তবে তাদের ঘুমের পরিমাণ খুব বেশি কমে যায় না। তবুও কেন এত ক্লান্তি অনুভব করেন—সেই প্রশ্নই এখন বিজ্ঞানীদের আগ্রহের কেন্দ্রে।

ঘুমের সময়ের পার্থক্য খুবই সামান্য

গবেষণায় দেখা গেছে, সন্তান জন্মের পর প্রথম দিকে কিছুটা ঘুম কমে গেলেও দীর্ঘমেয়াদে বাবা-মা ও সন্তানহীন মানুষের ঘুমের মধ্যে তেমন পার্থক্য নেই। অনেক ক্ষেত্রে বাবা-মায়েরা প্রতিদিন প্রায় ৭–৮ ঘণ্টা ঘুম পাচ্ছেন, যা স্বাভাবিক সীমার মধ্যেই।

তবুও কেন বেশি ক্লান্ত লাগে?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমস্যাটি ঘুমের পরিমাণে নয়, বরং ঘুমের অভিজ্ঞতা ও মানসিক চাপের মধ্যে। আধুনিক সমাজে বাবা-মায়েরা একদিকে সন্তান লালন-পালন, অন্যদিকে চাকরি—দুই দায়িত্বই একসঙ্গে সামলাতে হয়। এতে মানসিক চাপ ও ক্লান্তি বেড়ে যায়।

Serenity Strull/ BBC/ Getty Images Compared to foraging cultures, it is now more common to have more children with smaller age gaps (Credit: Serenity Strull/ BBC/ Getty Images)

পূর্বপুরুষদের জীবন ছিল ভিন্ন

প্রাচীন শিকারি-সংগ্রাহক সমাজে মানুষ বেশি ঘন ঘন ঘুম ভাঙলেও তারা নিজেদের ঘুম নিয়ে সন্তুষ্ট ছিল। তাদের জীবনে ‘একটানা গভীর ঘুম’ ধারণাটি এতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল না।

ঘুমের ধারণাতেই এসেছে পরিবর্তন

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিল্পবিপ্লবের পর থেকেই মানুষ একটানা দীর্ঘ সময় ঘুমানোর ওপর গুরুত্ব দিতে শুরু করে। আধুনিক কর্মব্যবস্থা ও জীবনধারা এই ধারণাকে আরও জোরদার করেছে।

শিশুর সঙ্গে ঘুমানোর ভিন্ন সংস্কৃতি

অনেক প্রাচীন সমাজে মা-বাবা শিশুর সঙ্গে একই জায়গায় ঘুমাতেন এবং রাতে শিশুকে খাওয়াতেন। এতে ঘুম ভাঙলেও দ্রুত আবার ঘুমিয়ে পড়া সহজ হতো। আধুনিক সমাজে আলাদা ঘুমানোর অভ্যাস অনেক সময় ঘুমের মানকে প্রভাবিত করে।

Serenity Strull/ BBC/ Getty Images Having less rigid expectations of sleep may help us relax and unwind at night as well as feeling less fatigued during the day (Credit: Serenity Strull/ BBC/ Getty Images)

 কমিউনিটি সাপোর্টের অভাব

পূর্বপুরুষদের সমাজে শিশুর যত্নে পরিবারের অন্য সদস্যরা বড় ভূমিকা রাখতেন। কিন্তু আধুনিক সমাজে বেশিরভাগ বাবা-মাকে একাই সব দায়িত্ব নিতে হয়, যা ক্লান্তি বাড়িয়ে দেয়।

জীবনধারার পরিবর্তনই মূল কারণ

বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক জীবনযাত্রা—কাজের চাপ, প্রযুক্তির ব্যবহার, সামাজিক প্রত্যাশা—এসবই বাবা-মায়েদের বেশি ক্লান্ত করে তুলছে, শুধুমাত্র ঘুমের অভাব নয়।

শেষ কথা: ক্লান্তি স্বাভাবিক, তবে বোঝাপড়া জরুরি

বিজ্ঞানীরা বলছেন, সন্তান লালন-পালনের সময় কিছুটা ক্লান্তি স্বাভাবিক। তবে ঘুম নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বেগ না করে জীবনযাত্রায় ভারসাম্য আনা জরুরি।