যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আসন্ন বৈঠককে ঘিরে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। দুই পরাশক্তির এই বৈঠকে বাণিজ্য যুদ্ধ, ইরান সংকট, তাইওয়ান, পারমাণবিক অস্ত্র এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।
দীর্ঘ কয়েক মাস পর মুখোমুখি বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন ট্রাম্প ও শি। চলতি সপ্তাহে চীনে দুই দিনের সফরে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বুধবার বেইজিং পৌঁছানোর পর বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার মূল বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
বাণিজ্যে নতুন সমঝোতার সম্ভাবনা
দুই দেশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহজ করতে নতুন ফোরাম গঠনের ঘোষণা আসতে পারে। একই সঙ্গে বোয়িং উড়োজাহাজ, কৃষিপণ্য এবং জ্বালানি খাতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বড় ধরনের কেনাকাটার পরিকল্পনাও প্রকাশ করতে পারে চীন।
এর পাশাপাশি গত বছর হওয়া বিরল খনিজ সরবরাহ সংক্রান্ত সমঝোতার মেয়াদ বাড়ানো নিয়েও আলোচনা হবে। এই চুক্তির মাধ্যমে চীন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ রপ্তানি অব্যাহত রয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন, দুই দেশ শেষ পর্যন্ত এই সমঝোতা বাড়ানোর সিদ্ধান্তে পৌঁছাবে।
ওয়াশিংটনের এক কর্মকর্তা জানান, চুক্তির মেয়াদ এখনই শেষ হচ্ছে না। তবে উপযুক্ত সময়ে এর সম্ভাব্য সম্প্রসারণ নিয়ে ঘোষণা আসতে পারে।
ইরান ও রাশিয়া নিয়ে চাপ
বৈঠকের বড় একটি অংশজুড়ে থাকতে পারে ইরান ইস্যু। ইরানের সঙ্গে চীনের ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবং দেশটির তেল আমদানিতে বেইজিংয়ের ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বিগ্ন ওয়াশিংটন।
মার্কিন প্রশাসন চায়, চীন তার প্রভাব ব্যবহার করে তেহরানকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতায় আনুক এবং চলমান উত্তেজনা কমাতে ভূমিকা রাখুক। একই সঙ্গে রাশিয়ার সঙ্গে চীনের বাণিজ্য ও সামরিক প্রযুক্তি সহযোগিতাও আলোচনায় আসতে পারে।
তাইওয়ান নিয়ে উত্তেজনা
তাইওয়ান প্রশ্নে দুই দেশের অবস্থান এখনও বিপরীতমুখী। যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানকে সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছে, যা নিয়ে ক্ষুব্ধ বেইজিং। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাইওয়ানের আশপাশে চীনের সামরিক তৎপরতাও বেড়েছে।
তবে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনের নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসছে না। ফলে এই ইস্যুতে বৈঠকে উত্তপ্ত আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি নিয়েও দুই দেশের মধ্যে নতুন ধরনের প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের আশঙ্কা, চীনের উন্নত এআই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে।
এ কারণে এআই নিয়ে দুই দেশের মধ্যে একটি স্থায়ী যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরির প্রস্তাব উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কর্মকর্তারা বলছেন, ভবিষ্যতে ভুল বোঝাবুঝি বা সংঘাত এড়াতে এই ধরনের যোগাযোগ জরুরি হয়ে উঠছে।

পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে অনিশ্চয়তা
ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরে চীনের সঙ্গে পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনা শুরু করতে চাইলেও বেইজিং এখনও তাতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, চীন এখনই এ ধরনের কোনো অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আলোচনায় বসতে চায় না।
গত বছরের অক্টোবরে দক্ষিণ কোরিয়ায় সর্বশেষ বৈঠকে ট্রাম্প ও শি বাণিজ্য যুদ্ধ সাময়িকভাবে স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। সেই বৈঠকের ধারাবাহিকতায় এবার নতুন করে সম্পর্ক স্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















