তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে আবারও বড় পরিবর্তনের সাক্ষী হলো মানুষ। ১৯৬৭ সালে কংগ্রেসের দীর্ঘ শাসনের অবসান এবং ১৯৭৭ সালে নতুন রাজনৈতিক শক্তির উত্থানের পর এবার ২০২৬ সালে রাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রে দেখা গেল আরেকটি বড় মোড়। আর এই পরিবর্তনের কেন্দ্রে উঠে এসেছেন অভিনেতা থেকে রাজনীতিক হওয়া সি. জোসেফ বিজয়।
নির্বাচনী প্রচারের সময় থেকেই বিজয় বারবার বলেছিলেন, ২০২৬ সালের নির্বাচন হবে তামিল রাজনীতির “তৃতীয় বড় পরিবর্তন”। তার সেই বক্তব্য এখন বাস্তবে পরিণত হয়েছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা।
দ্রাবিড় রাজনীতির দীর্ঘ আধিপত্যে ধাক্কা
দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে তামিলনাড়ুর রাজনীতি মূলত দুটি বড় দলের দখলে ছিল। একদিকে ডিএমকে, অন্যদিকে এআইএডিএমকে। ক্ষমতা ঘুরেফিরে এই দুই শিবিরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু এবারের নির্বাচনে সেই চেনা সমীকরণ ভেঙে দিয়েছে বিজয়ের দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগম।

মাত্র দুই বছর আগে গঠিত দলটি ২৩৪ আসনের মধ্যে ১০৮টি আসনে জয় পেয়ে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে উঠে এসেছে। নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরই পরিষ্কার হয়ে যায়, রাজ্যের মানুষ নতুন নেতৃত্বের দিকে ঝুঁকেছেন।
পূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও নির্বাচনের পর সমর্থন জোগাড় করে বিজয়ের দল সরকার গঠনের পথে এগিয়ে যায়। এর মধ্য দিয়ে বিজয় রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সামনে আসেন।
দুই বছরের মধ্যেই ইতিহাস
তামিল রাজনীতিতে চলচ্চিত্র জগতের মানুষের প্রভাব নতুন নয়। সি. এন. আন্নাদুরাই, এম. জি. রামাচন্দ্রন, এম. করুণানিধি ও জে. জয়ললিতার মতো নেতারা রাজ্যের রাজনীতিতে দীর্ঘ সময় প্রভাব বিস্তার করেছেন। বিজয়ের উত্থান সেই ধারাকেই নতুনভাবে সামনে নিয়ে এসেছে।
তবে বিজয়ের যাত্রা অন্যদের তুলনায় অনেক দ্রুত। এমজিআর রাজনীতিতে দীর্ঘ সময় সক্রিয় থাকার পর নিজের দল গঠন করেছিলেন এবং ক্ষমতায় আসতে তার কয়েক বছর সময় লেগেছিল। কিন্তু বিজয় সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন ২০২৪ সালে, আর মাত্র দুই বছরের মধ্যেই তিনি নির্বাচনে বড় সাফল্য অর্জন করেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, অভিনয় জীবনের জনপ্রিয়তা, বিশাল ভক্তগোষ্ঠী এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আগে থেকেই সাধারণ মানুষের কাছে নিজের অবস্থান শক্ত করেছিলেন বিজয়। সেই ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েই তিনি রাজনৈতিক ময়দানে দ্রুত সমর্থন গড়ে তুলতে সক্ষম হন।
ইতিহাসের সঙ্গে মিল
১৯৬৭ সালের নির্বাচনে ডিএমকে প্রথমবার ক্ষমতায় এসে কংগ্রেসের দীর্ঘ আধিপত্য শেষ করেছিল। এরপর ১৯৭৭ সালে এমজিআরের এআইএডিএমকে ক্ষমতায় এসে নতুন রাজনৈতিক যুগের সূচনা করে। এবার ২০২৬ সালের নির্বাচনকে অনেকে সেই ধারাবাহিকতার তৃতীয় অধ্যায় হিসেবে দেখছেন।
বিজয় নিজেও প্রচারের সময় সেই ঐতিহাসিক নির্বাচনের প্রসঙ্গ তুলে বলেছিলেন, তামিলনাড়ু আবারও নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। নির্বাচনের ফলাফল এখন সেই বক্তব্যকেই আরও জোরালো করেছে।

নতুন নেতৃত্ব নিয়ে মানুষের প্রত্যাশা
নতুন সরকার গঠনের পর এখন সাধারণ মানুষের নজর থাকবে বিজয়ের প্রশাসনিক দক্ষতার দিকে। রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা কম হলেও মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেশি। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের বড় অংশ তার পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় নতুন সরকারকে ঘিরে আলাদা আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলে এখন আলোচনা, এই পরিবর্তন শুধুই একটি নির্বাচনী জয় নয়, বরং তামিলনাড়ুর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















